একাত্তর সৃষ্টি

আপডেট: ডিসেম্বর ২৮, ২০২১, ১২:২৯ পূর্বাহ্ণ


মো. আশরাফুল ইসলাম সুলতান


১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের মধ্যদিয়ে স্বাধীন সাবভৌম বাংলাদেশর অভ্যুদয় বাঙালির দীর্ঘদিনের সংগ্রামের ফসল। ১৯৪৭ সালের ভারত-পাকিস্তান ব্রিটিশের শাসন শোসন থেকে মুক্তিলাভের পর ১৯৪৬ সালে অবিভক্ত বাংলার গণপরিষদের শেষ নির্বাচনে নির্বাচিত সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে পূর্ব বাংলা পাকিস্তানের সাথে আর পশ্চিমবাংলা ভারতের সাথে যুক্ত হয়। উল্লেখ্য, ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ শেরে বাংলা একে ফজলুল হকের লাহোর প্রস্তাবে রাষ্ট্রসমূহ গঠনের কথা বলা ছিলো। কিন্তু পরবর্তীতে দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে দেশ ভাগ হলো। বাংলার মানুষ আশা করেছিলো শোষণমুক্ত ও বৈষম্যহীন একটি রাষ্ট্র ব্যবস্থা গড়ে উঠবে। কিন্তু পাকিস্তান সৃষ্টির পর পূর্ববাংলার উপর প্রথম আঘাত আসে ভাষার উপর যা বেনিয়া ইংরেজরাও করেনি।

মাতৃভাষা বাংলাকে বাদ দিয়ে উর্দু ভাষা সমগ্র পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে গভর্নর জেনারেল মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ১৯৪৮ সালে ২১ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোরওয়ার্দী উদ্যান) ও ২৪ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কার্জন হলে কনভোকেশনে ছাত্র-শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে বলেন যে, উর্দু এবং একমাত্র উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্র ভাষা (Urdu and Only Urdu Shall be the State Language of Pakistan)। সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে এবং ক্রমন্বয়ে ভাষা আন্দোলন অর্থাৎ ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’-এই দাবি সমগ্র বাংলার প্রাণের দাবিতে পরিণত হয়। ১৯৫২ সালে ২১ ফেব্রুয়ারি বহু রক্তের বিনিময়ে বাঙালি জাতিসত্তার ভিত্তি বিনির্মাণ করে। ১৯৫৬ সালে বিষয়টি পাকিস্তানের সংবিধানে স্থান পায় যা ’৭১ এর মুক্তিযুদ্ধে বাঙালি জাতির চেতনার বন্ধনকে মজবুত করে।

পশ্চিমাদের শাসন-শোষণ, অর্থনৈতিক ও অন্যান্য বৈষ্যমের প্রেক্ষিতে ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন রোজ গার্ডেনে আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠন করা হয়। অসাস্প্রদায়িক দল হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষে পরবর্তীতে ১৯৫৫ সালের ২১, ২২, ও ২৩ সেপ্টেম্বর পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগের সম্মেলনে ২২ সেপ্টেম্বর মুসলিম শব্দটি বাদ দিয়ে নতুন নামকরণ হয় ‘আওয়ামী লীগ’। অল্প সময়ের মধ্যে দলটি সমগ্র বাংলায় সর্বাধিক জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। পশ্চিমা শাসক গোষ্ঠির একের পর এক গণবিরোধী কর্মকাণ্ডের ফলে বাংলার মানুষ যখন অতিষ্ঠ হয়ে উঠে ঠিক তখনই আওয়ামী লীগ রাজপথে তীব্র প্রতিবাদ করতে থাকে এবং জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে পূর্ব বাংলার নির্বাচন দাবি করে। পশ্চিমাদেরকে পরাজিত করতে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মুসলিমলীগ বিরোধী জোট যুক্তফ্রন্ট- ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর গঠন করে। এক পর্যায় তারা ১৯৫৪ সালে ১২ মার্চ নির্বাচন দিতে বাধ্য হয়। এই নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের কাছে শাসক গোষ্ঠির রাজনৈতিক দল মুসলিম লীগের শোচনীয় পরাজয় হয়।

যুক্তফ্রন্ট সরকার গঠন করেও পশ্চিমাদের প্রাসাদ ষড়যন্ত্রের কারণে ও গভর্নর জেনারেলের গণতস্ত্রবিরোধী হস্তক্ষেপের দরুণ যুক্তফ্রন্ট সরকার বেশি দিন টিকে থাকতে পারেনি। তাই আওয়ামী লীগকে আন্দোলনের পথ বেছে নিতে হয়। গভর্র্নর জেনারেল যুক্তফ্রন্টকে নিয়ে ভাঙ্গা-গড়ার খেলায় মেতে উঠেন। এক পর্যায় আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব ১৯৫৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর আতাউর রহমান খান মূখ্যমন্ত্রী হয়ে প্রাদেশিক সরকার গঠন করেন। পূর্ব বাংলার স্বায়ত্তশাসন বাস্তবায়িত হয়। বিভিন্ন পর্যয়ে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগে। অপরদিকে ১৯৫৬ সালে ১২ সেপ্টেম্বর হোসেন শহীদ সোরওয়াদী কেন্দ্রীয় সরকারের প্রধানমন্ত্রী হলেও ১৯৫৭ সালে ১৮ অক্টোবর পশ্চিমারা সোহরাওয়ার্দীকে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগে বাধ্য করেন। অতঃপর মালিক ফিরোজ খান নুন প্রধানমন্ত্রী হন এবং ১৯৫৯ সালে পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচনের ঘোষণা দেন। কিন্তু আওয়ামীগের জনপ্রিয়তার কাছে পরাজিত হওয়ার ভয়ে অসৎ উদ্দেশ্যে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ভেঙ্গে প্রেসিডেন্ট ইসকান্দার মীর্জা ১৯৫৮ সালে ৭ অক্টোবর রাত ১০.৩০ মি. সামরিক শাসন জারি করেন। ৮ অক্টোবর সেনাপ্রধান জেনারেল আইয়ুব খান প্রধান সামরিক প্রশাসক নিযুক্ত হন এবং পরবর্তীতে হাঁ-না ভোটের মাধ্যমে নিজকে প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেন। সামারিক জান্তার অপশাসনের বিরুদ্ধে ও ১৯৬৫ সালে প্রেসিডেন্ট ভোটের ঘোষণা দিলে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে অন্যান্য দলসহ সম্মিলিত বিরোধী দল (COP) গঠন করা হয়। এই জোট অপশাসন রোধসহ নির্বাচনে জয়ের আন্দোলন চালাতে থাকেন। সামরিক শাসক আইয়ুবের গণবিরোধী কর্মকা-ের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে গণআন্দোলন শুরু হয়। এদিকে ১৯৬২ সালের শরিফ শিক্ষা কমিশনের বিরুদ্ধে ছাত্র আন্দোলন তীব্র রূপ লাভ করায় শরিফ শিক্ষা কমিশন বাতিল হয়।

১৯৬৬ সালের শেখ মুজিবুর রহমান (বর্তমান জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান) ৬ ছয় দফা ঘোষণা করেন। ছয় দফা ছিলো মুক্তির সনদ যা বাংলার মানুষের প্রাণের দাবি। ছয় দফা এতই জনপ্রিয় হয়ে উঠলো যে পশ্চিমা শাসকগোষ্ঠী ভীত-সস্ত্রস্ত হয়ে রাষ্ট্রীয় ষড়যন্ত্র শুরু করে। ফলে শেখ মুজিবুর রহমানকে এক নম্বর আসামী করে ৩৫ জনের নামে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা দায়ের করে। এটাই ছিল বিখ্যাত আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা।

এই মামলার বিরুদ্ধে ও আইয়ুব মোনায়েমের সোচ্চাচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে ১৯৬৮ সালে ১৩ ডিসেম্বর আওয়ামীলীগের নেতৃত্বে পূর্ব বাংলায় হরতাল পালিত হয়। ১৯৬৯ সালে জানুয়ারিতে কেন্দ্রীয় ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ আস্তে আস্তে ১১ দফা দাবি নিয়ে ও আগরতলা মামলার আসামী শেখ মুজিবুর রহমানসহ অন্যান্য আসামীদের নিঃশর্ত মুক্তির জন্য আন্দোলন শুরু করে। আন্দোলনের গতিবেগের সাথে সর্বস্তরের ছাত্র-জনতা ঐক্যবব্ধ হয়ে পূর্ব বাংলায় গণঅভ্যুত্থান ঘটালেন। আয়ুব সরকার বাধ্য হয়ে ১৯৬৯ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি রেডিও টিভি ভাষণে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যহারের ঘোষণা দেন এবং ২২ র্ফেরুয়ারি শেখ মুজিবুর রহমানসহ সকল রাজবন্দি কারামুক্ত হন।

১৯৬৯ সালে ২৩ ফের্রুয়ারি কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শেখ মুজিবুর রহমানসহ মুক্তিপ্রাপ্ত নেতৃবৃন্দকে রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) এক গণসংবর্ধনার ব্যবস্থা করা হয়। লক্ষ লক্ষ ছাত্র-জনতার উপস্থিতিতে ছাত্রসংগ্রাম পরিষদের পক্ষে (ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ) নির্বাচিত ভিপি তুখোড় ছাত্র নেতা তোফায়েল আহমেদ ঘোষণা দেন, ‘আজ থেকে সর্বাধিক জনপ্রিয় নেতা যিনি বাংলার মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে ১২ বছর কারাগারে অতিবাহিত করেছেন সেই নেতা জনাব শেখ মুজিবুর রহমানের উপাধি হবে ‘বঙ্গবন্ধু’।’ সেই থেকে আমাদের প্রাণপ্রিয় নেতা ‘বঙ্গবন্ধু’ শেখ মুজিবুর রহমান। উল্লেখ্য ওই জনসমুদ্রের শতভাগ সমর্থনের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু উপাধিতে ভুষিত হন তিনি। ১৯৬৯ সালে গণঅভ্যুথানের পর প্রেসিডেন্ট পদ থেকে আইয়ুব খান আর এক জেনারেল ইয়াহিয়া খানের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন।

অতঃপর জনসংখ্যার উপর ভিত্তি করে আসন বণ্টন করে প্রাপ্তবয়স্কদের প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে প্রাদেশিক ও জাতীয় পরিষদের সাধারণ নির্বাচনের উদ্যোগ নেয়া হয়। জাতীয় পরিষদ ও প্রাদেশিক পরিষদে আওয়ামীলীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বিজয়ী রাজনৈতিক দল রাষ্ট্র পরিচালনা করবে এটাই ছিল স্বাভাবিক শর্ত ও সাংবিধানিক অধিকার। প্রেসিডেন্ট সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজনৈতিক দলকে সরকার গঠনের আহবান জানাবেন। সেই মোতাবেক প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া ১ মার্চ অধিবেশন ডাকলেন এবং তা স্থগিত করলেন। শুরু হলো আর এক প্রাসাদ ষড়যন্ত্র।

এদিকে বাংলার ছাত্র-জনতা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন আর সঙ্গে সঙ্গে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করলেন। পরিষদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক ২ মার্চ তৎকালিন ডাকসুর ভিপি আসম আব্দুর রব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বটতলায় বাংলার মানচিত্রখচিত পতাকা উত্তোলন করেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে প্রধান অতিথি করে ৩ মার্চ পল্টন ময়দানে বিশাল ছাত্র গণজমায়েতে স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ করেন তৎকালীন ছাত্র লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান সিরাজ। পশ্চিমাদের ষড়যন্ত্র যতই প্রকট হয়, বাংলার মানুষ ততই সংগ্রামের দিকে ধাবিত হতে শুরু করে। এ কর্ম সূচিগুলো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশেই সংঘটিত হয়।

বঙ্গবন্ধু পশ্চিমাদের ষড়যন্ত্র বুঝতে পেরেই অসহযোগ আন্দোলনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেন। এর ফলশ্রুতিতে ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে জনসমুদ্রে স্মরণকালের ঐতিহাসিক ভাষণ দেন। যে ভাষণ ছিলো বাঙালির মুক্তির ও স্বাধীনতার দিক নিদের্শনা। শুরু হলো অসহেযোগ আন্দোলন, উল্লেখ্য ৭ মার্চ ভাষণ জাতিসংঘের অঙ্গ সংস্থা ইউনেস্কো পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ভাষণ হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করেছে। আবারও ইয়াহিয়া খান কৌশল হিসেবে অধিবেশন ডাকসহ বিভিন্ন আলোচনা জন্য পূর্ব পাকিস্তানে আসেন। এই ফাঁকে পশ্চিম পাকিস্তান থেকে সেনাসদস্য ও অস্ত্র গোপনে পূর্ব পাকিস্তানে নিয়ে আসা হয়।

জেনারেল ইয়াহিয়া ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পূর্ব পাকিস্তান ত্যাগ করে। ইয়াহিয়া পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ পৌঁছার পর পূর্ব পাকিস্তানে অবস্থানরত সেনাবাহিনী রাত ১২ টার পরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেফতারের জন্য ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়িতে পৌঁছোয়। গ্রেফতারের প্রাক্কালে বঙ্গবন্ধু ওয়্যারলেসের মাধ্যমে স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। চট্রগ্রামের আওয়ামী লীগের নেতা আব্দুল হান্নান ঘোষণাটি পাঠ করেন এবং যুগপথ ২৭ মার্চ মেজর জিয়া কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণাটি পুনঃপাঠ করেন। ২৫ মার্চ রাতে রাজারবাগ পুলিশ লাইন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জগন্নাথ হলসহ বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় হত্যাযজ্ঞ চালায় পাকিস্তানি সেনা সদস্যরা যা কালরাতের গণহত্যা হিসেবে পরিচিত। এদেশের অকুতোভয় বাঙালি, ছাত্র-জনতা, কৃষক-শ্রমিক, প্রতিরোধযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েন। এ দিকে পশ্চিমাদের দোসর জামায়াত ইসলামী ছাত্র শিবির (পূর্বের নাম ইসলামী ছাত্র সংঘ), মুসলিম লীগ প্রত্যক্ষভাবে রাজাকার, আলবদর মুজাহিদ ও পিসকমিটি গঠন করে পশ্চিমাদের পক্ষে বাঙালি নিধনে মেতে উঠে। অপরদিকে পশ্চিমাদের চাপিয়ে দেয়া যুদ্ধ মোকাবেলার জন্য নির্বাচিত প্রতিনিধিরা ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠন ও ১৭ এপ্রিল শপথের মাধ্যমে মুজিবনগর সরকারের যাত্রা শুরু হয়।

মুজিবনগর সরকার প্রথমে ভারতসহ বিভিন্ন দেশের স্বীকৃতি লাভের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধকে ত্বরান্বিত করার প্রক্রিয়া শুরু করে। ভারত সরকার প্রায় এক কোটি মানুষকে আশ্রয় প্রদানসহ খাবার চিকিৎসা ও মুক্তিযুদ্ধের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে। মিত্র বাহিনী ও যৌথ বাহিনী নিকট পশ্চিম পাকিস্তানের ৯৩ হাজার সৈন্য বাহিনী ১৯৭১ সালে ১৬ ডিসেম্বর আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়। ১৬ ডিসেম্বর মহান ‘বিজয় দিবস’ ও ২৬ শে মার্চ ‘মহান স্বাধীনতা দিবস’ হিসেবে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের অভ্যূদয় ঘটে পৃথিবীর মানচিত্রে ।
‘একাত্তর’ একদিনের সৃষ্টি নয় সুদীর্ঘ সংগ্রামের ফসল যা আওয়ামীলীগের নেতৃত্বে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশনায় পরিচালিত হয়েছে।
লেখক: সহকারী অধ্যাপক, কেশরহাট ডিগ্রি কলেজ, মোহনপুর, রাজশাহী।