একান্ত সাক্ষাৎকারে খায়রুজ্জামান লিটন || জেলহত্যার খুনিদের বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার মধ্য দিয়েই দেশ কলঙ্কমুক্ত হবে

আপডেট: নভেম্বর ৩, ২০১৬, ১২:০৬ পূর্বাহ্ণ


বুলবুল হাবিব
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যানির্বাহী কমিটির অন্যতম সদস্য ও নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেছেন, জেলহত্যার খুনিদের বিচার সম্পন্ন করার মধ্য দিয়েই দেশ কলঙ্কমুক্ত হবে। জেলহত্যার বিচার বর্তমানে আদালতে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আশা করছি দ্রুততার সাথে এই বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল গঠন করে সম্পন্ন করছেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনিদের বিচার করেছেন। জেল হত্যার বিচারও এই সরকার সম্পন্ন করবেন।
গতকাল বুধবার বিকেলে নগরীর উপশহরে অবস্থিত তার বাসভবনে একান্ত সাক্ষাৎকারে এই প্রতিবেদককে খায়রুজ্জামান লিটন এসব কথা বলেন। জেলহত্যার বিচার, সেই সময়ের অনুভূতি, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নিয়ে কথা হয় তার সঙ্গে। খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, বহু আগেই এদেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারসহ বঙ্গবন্ধুর সপরিবারে হত্যা ও জেলহত্যার বিচার সম্পন্ন হতো। কিন্তু এদেশের ঘাড়ের ওপর চেপে বসা পাকিস্তানের প্রেতাত্মরা তা হতে দেয় নি। বরং দীর্ঘ ২১ বছর ধরে এদেশ থেকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, বঙ্গবন্ধুর ইতিহাস ও জেলহত্যার ইতিহাস নিশ্চিহ্ন করে দেয়ার ষড়যন্ত্র চলেছে। এই দীর্ঘ সময়ে বিভিন্নভাবে এই মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বিকৃত করা হয়েছে, পাকিস্তানি মৌলবাদী শক্তিকে এই দেশে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ নেতাদের হত্যার মধ্য দিয়ে দেশকে নেতৃত্ব শূন্য করার চক্রান্ত চলেছে। বহু ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে ১৯৯৬ সালে সরকার গঠনের মধ্য দিয়ে নতুনভাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ আবার উন্নয়নের দিকে ধাবিত হয়।
খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, ’৯৬ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার গঠনের পর বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়। কিন্তু ২০০১ সালে মৌলবাদী ও দেশবিরোধী শক্তি ক্ষমতায় আসে। মৌলবাদী শক্তি ক্ষমতায় এসে বিচার প্রক্রিয়া নস্যাৎ করে। পরে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় এসে যে রায় দেয় তা মেনে নেয়া হয় নি। ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আবার বিচার প্রক্রিয়া শুরু করেন। এই সরকারের নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনিদের বিচার সম্পন্ন হয়েছে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চলছে। এই সরকারের নেতৃত্বেই জেলহত্যার খুনিদেরও বিচার সম্পন্ন হবে।
খায়রুজ্জামান লিটন সেই সময়ের ঘটনার স্মৃতিচারণ করে বলেন, ’৭৫ সালে আমি ও আমার ছোট ভাই কলকাতার একটা স্কুলে পড়তাম। তখন আমি নবম শ্রেণির ছাত্র। দেশের সব খবর পেতাম পত্রপত্রিকার মাধ্যমে। ১৫ আগস্ট পাকিস্তানি অপশক্তি বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর থেকেই দেশ একটা ভয়াবহ বিপর্যয়ের মধ্যে পড়ে। তখন  পাকিস্তানপন্থিরা দেশকে নেতৃত্বশূন্য করার জন্য আ’লীগের নেতাদের ধরে ধরে হত্যা শুরু করে। আমার বাবা শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান ধানমন্ডির একটি বাসায় আশ্রয় নেন। আশ্রয় নিলেও আমার বাবা মানুষদের সঙ্গে কথা না বলে থাকতে পারতেন না। তাই খুব দ্রুত পাকিস্তানের দোসররা তাকে খুঁজে পান। চারনেতাকেই জেল পুরা হয়। পরে খন্দকার মোশতাকের নেতৃত্বে জেলকোড ভেঙে তাদের হত্যা করা হয়। পত্রিকার মাধ্যমে খবরটি আমরা কলকাতায় পাই। খবরটি শুনে আমার ছোট ভাই ফুঁপে কেঁদে ওঠে। আমিও কান্নায় ভেঙে পড়ি। তখন কলকাতায় আমাদের কোনো অভিভাবক নেই। আমরা শুধু দুই ভাই। বাসায় আসতে চাইলেও স্কুল কর্তৃপক্ষ আমাদের জীবনের কথা ভেবে ঝুঁকি নেন নি। দেশে আসার অনুমতি দেননি। পরে ঢাকা থেকে রাজশাহীতে লাশ নিয়ে এসে দাফন করা হয়। তখনও আমাদের যাওয়া হয়নি। হত্যার পরও বাবাকে দেখতে পায় নি।
খায়রুজ্জামান লিটন ইতিহাস টেনে বলেন, ’৪৭ সালে দেশবিভাগের পর থেকেই আওয়ামী লীগ নেতাদের নেতৃত্বশূন্য করার চক্রান্ত ছিল। এইজন্য ’৪৭ সালের পর থেকে আওয়ামী লীগের হাজার হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু আওয়ামী লীগ ভেঙে পড়েনি। অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে কিন্তু আবার উঠে দাঁড়িয়েছে। সবসময় আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব বিকশিত হয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ