একুশে ভাগ্য ফিরল ‘অভাগী’র, দাদাসাহেব ফালকে চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা নায়িকা মিথিলা

আপডেট: মে ৩, ২০২৪, ৫:৪৮ অপরাহ্ণ


সোনার দেশ ডেস্ক :


শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের অভাগী ভাগ্যের পরিহাসে কিচ্ছু না পেয়ে খালি হাতে পৃথিবী ছেড়েছিল। একুশ শতক তার কপালেই জয়টীকা এঁকে দিল। পরিচালক অনির্বাণ চক্রবর্তী কথা সাহিত্যিকের কালজয়ী উপন্যাসকে ক্যামেরায় ধরেছিলেন ও অভাগী নাম দিয়ে।

সেই ছবি দিল্লিতে ৩০ এপ্রিল অনুষ্ঠিত ১৪তম দাদাসাহেব ফালকে চলচ্চিত্র উৎসবে বিশেষ সম্মানে সম্মানিত। ছবির নায়িকা রাফিয়াত রাশিদ মিথিলার ঝুলিতে ‘সেরা নায়িকা’র সম্মান। খবর ছড়াতেই শুভেচ্ছায় ভেসে গিয়েছেন দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী। তিনি নিজেও আপ্লুত। আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছেন উৎসবের উদ্যোক্তা এবং দর্শকদের।

ছবিমুক্তির আগে আজকাল ডট ইনের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে নায়িকা জানিয়েছিলেন, এই ছবি যদি একটি মেয়েকেও লড়াইয়ে ফিরিয়ে আনে, মনে করবেন তাঁর অভিনয় সার্থক। তিনি কী ঘুণাক্ষরেও টের পেয়েছিলেন, তাঁর অভিনয় ছবিটিকেই প্রথম সারিতে তুলে আনবে! খুশি ছবির পরিচালক অনির্বাণও।

জানিয়েছেন, ছবিটি মনে দাগ কাটবে জানতেন। তা বলে এত ভাল ফল আশা করেননি। একই ভাবে উচ্ছ্বসিত প্রযোজক ডা. প্রবীর ভৌমিক। স্বভূমি এন্টারটেনমেন্ট তাঁর প্রযোজনা সংস্থা। ছবিটি প্রযোজনা করে তিনি গর্বিত। একই সঙ্গে গর্বিত মিথিলাকে ছবির নায়িকা হিসেবে পেয়ে।

উপন্যাসধর্মী ছবি বাংলা বিনোদন দুনিয়ায় এখন প্রায় বিরল। তাই প্রথম যখন ডাক পেয়েছিলেন কতটা খুশি হয়েছিলেন মিথিলা? আগে সাক্ষাৎাকারে প্রশ্ন রাখতেই তিনি বলেছিলেন, ‘প্রথমেই বলি, অনির্বাণ জনপ্রিয় ছোটগল্পের নির্যাসটুকু নিয়েছেন। তার আধারে নতুন করে গল্প বলেছেন তিনি। তাই ‘ও অভাগী কিন্তু ‘অভাগীর স্বর্গ’র হুবহু অনুকরণ নয়।’ তাঁর আরও যোগ, নতুন করে তৈরি ‘অভাগী’ চরিত্র তাঁর কাছে খুবই অন্যরকম লেগেছিল। চিত্রনাট্য পড়ে আগ্রহ আরো বাড়ে তাঁর।

শহর ছাড়িয়ে পুরুলিয়ার প্রত্যন্ত গ্রামে পুরো ছবির শুট হয়েছে। ছবিতে অভিনয় করতে গিয়ে এই দিকটাও উপভোগ করেছেন নায়িকা। তাঁর সঙ্গে ছিলেন দেবযানী চট্টোপাধ্যায়, সায়ন ঘোষ, সুব্রত দত্ত প্রমুখ। পরিচালনার পাশাপাশি ছবির কাহিনিও অনির্বাণের। নিবেদনে স্বভূমি এন্টারটেনমেন্ট।

প্রযোজনায় ড. প্রবীর ভৌমিক। শরৎচন্দ্রের ‘অভাগী’ আধুনিক হয়ে কতটা প্রতিবাদী, মুখর হল? তাঁর কথায়, ‘‘প্রতিবাদী বলব না। প্রতিবাদ দেখা যাবে। সেটা অন্য ভাবে। এমন না যে সে খুব মুখ খুলে প্রতিবাদী। কিন্তু তার প্রতিবাদের ভাষা বোঝা যাবে ছবিতে।’’

বাংলাদেশে সব ধারার ছবিতে সব ধরনের চরিত্র করেছেন। কিন্তু ভারতে তাঁর পছন্দ যেন ভিন্ন। ‘মায়া’, ‘অভাগী’ বা তাঁর পরের কাজ তেমনই বলছে। এখানে ভিন্ন ধারার ছবি নির্বাচন সচেতন ভাবেই?

মিথিলা জবাব দিতে সেকেন্ডও সময় নেননি। তাঁর বক্তব্য, ‘‘একে অন্য ধারা বলে কিনা জানি না, তবে আমি সব সময়েই এমন কিছু করতে চাই যা আমার কাছে নতুন। যেই চরিত্র নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করতে পারব। সেই চরিত্র বা কাজ পশ্চিমবঙ্গের মূল ধারার প্রথম সারির পরিচালকদের পরিচালনায় নাও হতে পারে।

আমার কাছে ওটা ম্যাটার করে না। আমার চাহিদা, অভিনেতা হিসেবে নিজেকে কতটা আবিষ্কার করতে পারছি। এটা বলতে পারি, যা করেছি বা যা করব তাতে আমায় একভাবে দেখা যাবে না। বৈচিত্র্য থাকবে। যাতে কেউ আমায় মিথিলা বলে চিনতে না পারেন। আমার চরিত্র যেনউদ্যোক্তা এবং দর্শকদের।
তথ্যসূত্র: আজকাল অনলাইন

 

 

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ