একুশ অন্য অনেক শপথের দিন

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২১, ১২:১৫ পূর্বাহ্ণ

সুকুমার সরকার :


(পূর্ব প্রকাশিতের পর)
একুশে ফেব্রুয়ারির সন্ধিক্ষণে এসব কথা এই জন্য বলছি , পৃথিবীর অন্য কোনো জাতির সভ্যতা এমন বহু বিচিত্র নদী-সভ্যতার সমর্থন পাইনি। আসলে বাঙালি জাতি এবং বাঙালির ভাষা-সংস্কৃতির ওই অমিত শক্তি ও সম্ভাবনার বীজ লুকিয়ে আছে এই বদ্বীপ সভ্যতার উন্নত মেধা ও মগজের মধ্যে। এই উন্নত বদ্বীপ সভ্যতাই জন্ম দিয়েছে, বোপদেব, মেঘাতিথি, অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান, চৈতন্য মহাপ্রভু, কালিদাস, বিদ্যাপতি, চ-ী দাস, রামমোহন, বিদ্যাসাগর, বঙ্কিম, বিবেকানন্দ, মধুসূদন, রবীন্দ্রনাথ, নজরুল ইসলাম, মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ, শরৎচন্দ্র, শেখ মুজিবর, শামসুর রাহমান, হুমায়ুন আজাদ, অমর্ত্য সেন, অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়দের মতো উন্নত মেধা ও মগজের মানুষদের। যাঁরা বিভিন্নভাবে বাঙলা ও বাঙালি জাতিকে তুলে ধরেছেন বিশ্ববাসীর কাছে। আজ সমগ্র বাঙালা ও বাঙালির ভাষা-সাহিত্য-সংস্কৃতি , ইতিহাস-ঐতিহ্য-অর্থনীতি সেই ধারাতেই পুষ্ট। ‘বাংলাভাষা’র আন্তজার্তিক মাতৃভাষা স্বীকৃতি প্রাপ্তি সেই পরিপুষ্টতারই সমর্থন। বাঙলার ভৌম-প্রকৃতি যেমন বহু ভৌম-অঞ্চলের মাটির মিশ্রণ ।
বাঙালি জাতি যেমন বহু নৃতাত্ত্বিক জনজাতির রক্তের মিশ্রণ । বাংলা ভাষাও তেমন বহু ভাষার মিশ্রনের ভাষা। এই ভাষার শব্দ অক্ষরে তাই বিশ্বের বহু ভাষার শব্দ অক্ষর মিশে আছে। জড়িয়ে আছে বহু ভাষার মানুষের আবেগ অনুভূতি। বাংলা ভাষার এই মিশ্রণ , বাংলা ভাষার এই আবেগ অনুভূতি খুব সহজেই সকল ভাষাকে এক সূত্রে গাঁথতে পারে। কেননা, পুর্বাদ্রনীতির এই ভৌম-বাঙলা একদিন সমগ্র বিশ্ববাসীর শেষ ঠিকানা হয়ে উঠেছিল। উঠেছিল নিশ্চিত বসবাসের মুক্ত জীবনানন্দ ! আর এই কারণেই বাংলা ভাষার শব্দ, অক্ষর, আবেগের মধ্য বিশ্বের সকল মানুষের শব্দ অক্ষর আবেগ মিশে আছে। বিশ্ববাসীর কাছে তাই বাংলা ভাষা খুব সহজেই স্বতঃস্ফূর্ত আবেগ অনুভূতি প্রকাশের মাধ্যম হতে পারে। আবার বাঙালিও তাই খুব সহজেই বিশ্বের যে কোনো ভৌম অঞ্চলকে নিজের ভাবতে পারে। নিজের মনে করে বসবাস করতে পারেন। এমন জাতি এবং এমন জাতির ভাষাই তো আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা হওয়ার যোগ্য। একুশে ফেব্রুয়ারির দিনে বাঙালিরা শহিদ না হলেও বাংলা ভাষা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা হওয়ার দবীর অগ্রগণ্য হতো । কিন্তু শহিদ যে হয়েছে, তা ওই বাংলা ভাষার অমিত সম্ভাবনা এবং শক্তির দুরন্ত প্রেরণাতেই ! আর অবশ্যই রফিকুল ইসলাম, আব্দুস সালাম এবং বাংলাদেশের সরকারের তৎপরতার কারণেও ।
(চলবে)