একুশ সৃষ্টি

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২১, ১২:১২ পূর্বাহ্ণ

মো. আশরাফুল ইসলাম সুলতান:


(পূর্ব প্রকাশিতের পর)
১৯৫২ সালে নুরুল আমীন বাংলার মূখ্যমন্ত্রী নিযুক্ত হন। ১৯৫২ সালে ২১ ফেব্রুয়ারি পূর্ববঙ্গ ব্যবস্থাপক পরিষদ অধিবেশনের দিন ধার্য্য হয়। রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ সেদিন অধিবেশন কে সামনে রেখে কিছু কর্মসূচি গ্রহণ করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমবেত হয়ে মিছিলসহ স্মারকলিপি প্রদানের জন্য অধিবেশন স্থলে যাবে। শাসকগোষ্ঠি ১৪৪ ধারা জারি করে সকল কর্মসূচি বন্ধ করে দেয়। এ নিয়ে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে মতানৈক্য হয়। তারপরও ছাত্ররা কর্মসূচি পালন করবে মর্মে সিদ্ধন্ত গৃহীত হয়। জমায়েতের পর খ- খ- মিছিল নিয়ে অধিবেশন স্থলে যাওয়ার পথে শাসকগোষ্ঠির পেটোয়া বাহিনি পুলিশ ছাত্রদের মিছিল লক্ষ্য করে গুলি বর্ষণ করে। গুলিবিদ্ধ হয়ে শহিদ হন রফিক, জব্বার, সালাম, বরকত, শফিক সহ কত অজানা ছাত্র শ্রমিক ও জনতা। সারা বাংলার মানুষ স্তম্ভিত হয়ে যায় এবং বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। সঙ্গে সঙ্গে এর তীব্র প্রতিবাদ করে ধর্মঘট সহ নানান কর্মসূচি পালন হতে থাকে। ছাত্রদের নেতৃত্বে মেডিকেল কলেজের পাশে শহিদদের স্মরণে শহিদ মিনার নির্মাণ করে। প্রথম দিকে শাসকগোষ্ঠির বাহিনী দিয়ে শহিদ মিনার ভেঙ্গে ফেলা হয়। পরে আবার শহিদ মিনার স্থায়ীরূপ নেয়। ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলন ছিলো বাঙালিদের প্রেরণা যা পরবর্তী আন্দোলনে অর্থাৎ স্বাধীনতা আন্দোলনে মাইল ফলক হিসেবে প্রতিষ্ঠালাভ করে।
সেই থেকে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি শহিদ দিবস হিসেবে পালন হয়ে আসছে। ২১ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের সরকারি ছুটির দিন ও জাতীয় দিবসগুলোর মধ্যে অন্যতম। ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি মহান শহিদ দিবস মাতৃভাষা দিবস। এই দিনে প্রভাতফেরি করে শহিদদের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য শহিদ মিনারে গিয়ে সমবেত ভাবে ফুল দেয়া হয়।
আজ থেকে ৩৫ বছর আগে বিভিন্ন জেলা শহরে ফুল কিনতে পাওয়া যেতনা অর্থাৎ রাতের বেলা রেস্টহাউজের আঙিনায় বা ব্যক্তিগত কারো বাড়ির বাগান থেকে ফুল তুলে নিজেরা সেগুলো উপযোগী করে কোনো বছর রাত ১২টা ১মিনিটে, কোনো বছর সকালবেলা যাকে বলি প্রভাত ফেরী করে শহীদ মিনারে গিয়ে ফুল দিই। মানসিকতা এমন যে এ কাজটা না করলে যেন নিজেকে খুব দায়ী মনে হতো। দায়বদ্ধতা থেকেই আমরা যথাযথ মর্যদায় একুশ পালন করি।
বর্তমান মাতৃভাষা দিবস আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে সারা বিশ্বে পালন হচ্ছে। আমাদের গুরুত্ব দিতে হবে শহিদের আত্মত্যাগ যেন যথার্থ হয়। অর্থাৎ বাংলাভাষা সর্বাধিক গুরুত্ব সহকারে সর্বত্র ব্যবহার হয়। তবেইতো একুশ সৃষ্টির স¦ার্থকতা।
লেখক: সহকারী অধ্যাপক, কেশরহাট ডিগ্রি কলেজ, মোহনপুর, রাজশাহী।