এক নারীর পাঁচ স্বামী, কিন্তু কেন?

আপডেট: জুন ১৭, ২০২১, ৯:১৪ অপরাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক:


হিমালয়ের কোল ঘেঁষে সংসার গড়ে তুলেছেন রজ্জো ভার্মার মতো হাজার মহিলা। দুই পুত্র সন্তান রয়েছে তার। কিন্তু তাতেও সাধারণ নারীদের চেয়ে একেবারেই ভিন্ন তার সংসার। ঘটনা জানলে চমকে উঠবেন। কিন্তু তিনি যে ব্যতিক্রম তা নয়। ওই গ্রামের সব মহিলারাই এমনটা করেন। তাদের এক একজনের ৫ জন করে স্বামী। কিন্তু কেন?
মহাভারতের দ্রৌপদীর মতোই তাদের জীবন। পঞ্জাবের কয়েকটি এলাকার উপজাতিরা এই রীতি মেনে চলেন। জনগোষ্ঠীগুলি খুবই গরিব এবং তাদের জনসংখ্যার তুলনায় ভূমি সংকট বেড়েই চলেছে। পুরুষের তুলনায় নারী জনসংখ্যার আধিক্যও আর নেই। এসব কারণেই তাদের দাম্পত্যজীবনে যাতে কোনো সমস্যা না হয় তাই এই রীতির প্রচলন করা হয়েছে। সাত বা আটজন ভাই মিলে একজন নারীকেই নিয়ে সংসার পাতছে। এ ধরনের প্রথা প্রাচীনযুগে কেরালার তিয়ান্স সম্প্রদায় এবং তিব্বতীয় উপজাতীর মধ্যে দেখতে পাওয়া গিয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে পাঞ্জাবে নারী-পুরুষের আনুপাতিক হারের একটি হিসাব বলছে যে সেখানে প্রতি ৭৯৩ জন নারীর বিপরীতে ১০০০ পুরুষ খুঁজে পাওয়া গিয়েছে। এই অবস্থায় পুরুষান্তরে জমির পরিমাণ কমে যাওয়ার কারণে এক পরিবারের ভাইয়েরা মিলে বিয়ে করছে একজন করে নারীকে। তাদের যে জমি রয়েছে সেই জমি ছেলেদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয় প্রথমে। এর পরে তারা যখন বিয়ে করে একটি বৌ নিয়ে আসে তখন সেই জমি তাদের পরবর্তী প্রজন্মকে দিয়ে দেওয়া হয়। প্রত্যেক ভাইয়ের যেহেতু একটি মাত্র স্ত্রী তাই আলাদা করে জমি প্রত্যেকের নামে ভাগ করার দরকার পড়ে না।
এর ফল হিসেবে তাদের মধ্যে বাড়ছে বাল্যবিবাহের প্রকোপ। তবে সেই নারীদের অবস্থা খুব একটা খারাপ নয়। প্রতি রাতে মহিলারা সেখানকার রীতিনীতি মান্য করে নিজেদের এক একটি স্বামীকে এক একদিন বেছে নেন। তবে বর্তমান সময়ে এমনও হচ্ছে যে ওইসব এলাকার অনেকেই পার্শ্ববর্তী রাজ্য বিহার, উত্তর প্রদেশ থেকে বিয়ে করে স্ত্রীকে আনছেন। অন্যদিকে বিয়ে করা বউকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে পছন্দের স্বামীর অন্য ভাইদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে বাধ্য করা হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: kolkata24x7

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ