এক পরিবারের তিন সদস্যের আত্মহত্যার চেষ্টা সামাজিক এই ব্যধি রুখতে হবে

আপডেট: জুন ১২, ২০২২, ৭:১৫ পূর্বাহ্ণ

প্রত্যাশা পূরণ না হওয়া, হতাশা, সর্ম্পকের অবনতি কিংবা পরিবারিক কলহের জের ধরে বাড়ছে আত্মহত্যার প্রবণতা। সামাজিক এই ব্যাধি বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝেও ব্যাপক বিস্তার লাভ করেছে। প্রান্তিক পর্যায়েও আত্মহত্যার শেকড় গভীরে। সমস্যা সমাধানের সহজ পথ হিসেবে বেঁছে নেয়া হচ্ছে আত্মহত্যাকে। যেটা নিয়ে এরইমধ্যে উদ্বীগ্নতা প্রকাশ করেছে বিশেষজ্ঞরা। গবেষণাও শুরু হয়েছে। সামাজিক এই ব্যধি রুখে দিতে নিজ নিজ জায়গা থেকে সচেতনতা ও সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। সরকারকেও কার্যকরি উদ্যোগ নিতে হবে।
সম্প্রতি ১০ জনু বাগমারা উপজেলার বাসুপাড়া ইউনিয়নের শ্রীপুর রামনগর গ্রামে পারিবারিক বিষয় নিয়ে একই পরিবারের তিন সদস্য আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে।
জানা গেছে, পারিবারিক বিষয় নিয়ে শুক্রবার (১০ জুন) সকাল থেকে বউ-শাশুড়ির ঝগড়া চলছিল। এক পর্যায়ে ঝগড়া শেষ হয় রাত ১০টার দিকে অভিমান করে বউ সুমি খাতুন (২২) বিষপান করেন। এর কিছুক্ষণ পর শাশুড়ি কাজলী বেগমও (৪২) বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা চালান। প্রতিবেশীরা তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। বউ-শাশুড়ির এ কা- দেখে শ্বশুর মোসলেম আলীও (৪৫) গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালান। তবে লোকজনের বাঁধায় তিনি রক্ষা পান। তাকেও প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। এখন পর্যন্ত আত্মহত্যার চেষ্টাকারী তিন জনই সুস্থ আছেন। কিন্তু তারা আত্মহত্যার মতো সিদ্ধান্ত নিয়ে সামাজিক এই ব্যধির বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন।
জানা যায়, ছেলে কাফি ও সুমির মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ওই সম্পর্ক বিয়েতে গড়ায়। কিন্তু দাম্পত্য জীবনে তারা সুখী ছিলেন না। এজন্য উভয়ের মধ্যকার মনোমালিন্য পরিবারের সদস্য পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ওই পরিবারে প্রায়শই ঝগড়া লেগে থাকতো। যেখানে একজন মৃত্যুবরণ করে মুক্তি পেতে চেয়েছেন। অপরজন আইনি ঝামেলা কিংবা পরিবারিক প্রতিদিনের অশান্তিপূর্ণ পরিবেশ থেকে মুক্তি পেতে চেয়েছেন। এখানে উভয়ই পারিবারিক কলহের কারণ উদঘাটন করে তা সমাধানে উদ্যোগী না হয়ে সামাজিক ব্যধিগ্রস্থ হয়েছেন। যেটা কখনোই কাম্য নয়। এক্ষেত্রে জীবন সর্ম্পকে সঠিক দৃষ্টিভঙ্গির আবর্তনে পরিবার, সামাজ ও রাষ্ট্রকে এগিয়ে আসতে হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ