এক পরিবারের ‘সবাই চোর’, চুরি করেন দেশজুড়ে

আপডেট: আগস্ট ১, ২০১৭, ১২:৪৮ অপরাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


চট্টগ্রামে দুই নারীসহ তিনজনকে গ্রেফতারের পর পুলিশ বলেছে, এরা সবাই এক পরিবারের এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের নিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চুরি করে বেড়াচ্ছিলেন।
রোববার রাত থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে নগরীর প্যারামাউন্ট ইন্টারন্যাশনাল হোটেল থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয় বলে চট্টগ্রাম নগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মীর্জা সায়েম মাহমুদ জানান।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- সেলিনা আক্তার কেয়া (২৭), তার স্বামী শফিকুল ইসলাম ওরফে স্বপন বেপারি এবং সেলিনার ভাইয়ের বৌ নুপূর আক্তার (১৯)।
পুলিশ কর্মকর্তাদের দাবি, সেলিনা, তার স্বামী, মা, ভাই, বোন, ভাইয়ের স্ত্রীসহ পরিবারের সবাই চুরির সঙ্গে জড়িত। নুপূরের স্বামীও চুরির মামলায় বরিশাল কারাগারে আছেন বলে জানান পুলিশ কর্মকর্তা সায়েম।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, আত্মীয় ও পরিচিতের দোহাই দিয়ে তারা মানুষের বাড়িতে গিয়ে মূল্যবান মালামাল চুরি করে পালিয়ে আসে।  তারা আগেও চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়েছিলেন বলে পুলিশের কাছে তথ্য রয়েছে।
সায়েম বলেন, সম্প্রতি তারা চট্টগ্রামে এসে একটি আবাসিক হোটেলে অবস্থান নিয়ে হালিশহর ও পাঁচলাইশ এলাকায় দুটি বাসায় চুরি করে।
গ্রেফতারকৃতরা পুলিশকে জানায়, তিন বছর ধরে চট্টগ্রাম, ঢাকা, রাজশাহী, সিলেট, খুলনা, বরিশাল, পাবনাসহ বিভিন্ন জেলায় চুরি করেন তারা। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে যে জেলায় যান, সেখানে দামি আবাসিক হোটেলে ওঠেন তারা।
সেলিনা পুলিশকে জানান, গত এপ্রিল মাসে বরিশালে তিনি ও তার ভাই মাঈনুদ্দীন মোহন একটি চুরির মামলায় গ্রেফতার হয়েছিলেন। তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী তার স্বামী স্বপনসহ আরও কয়েকজনকে তখন গ্রেফতার করেছিল পুলিশ।
সম্প্রতি জামিনে বেরিয়ে খুলনা, রাজশাহী, পাবনায় গিয়ে বেশ কয়েকটি চুরির কথা স্বীকার করেন সেলিনা। সঙ্গে তার স্বামী স্বপনও ছিল।
গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক ইলিয়াছ খান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, সেলিনা নিজেকে অন্তঃস্বত্বা দেখিয়ে প্রতারণা করে গত ৩ জুলাই আদালত থেকে জামিন নিয়ে কারাগার থেকে ছাড়া পান। সেখান থেকে ৭ জুলাই খুলনা গিয়ে চুরি করে ঢাকায় চলে আসেন।
“গত ১৮ জুলাই আবার বরিশাল গিয়ে জামিনের মেয়াদ বৃদ্ধি করে সেলিনা ও স্বপন এবং সেখানেও একটি চুরি করে। এছাড়া ২১ জুলাই রাজশাহী, ২৪ জুলাই পাবনা গিয়ে কয়েকটি চুরি করে সেখান থেকে ২৫ জুলাই চট্টগ্রামে চলে আসে। এখানে দুটি বাসায় চুরি করে।”
গোয়েন্দা কর্মকর্তা ইলিয়াছ জানান, রোববার রাতে নগরীর রেয়াজউদ্দিন বাজারে চোরই ল্যাপটপ বিক্রি করতে গিয়ে স্বপন ধরা পড়েন। তার কাছে পাওয়া তথ্যে প্যারামাউন্ট হোটেল থেকে তার স্ত্রী ও শ্যালকের বৌ নুপূরকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছে দুটি ল্যাপটপ, একটি ডিএসএলআর ক্যামেরা, একটি স্বর্ণের চেইন, ৪০০ ইউএস ডলারসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র উদ্ধার করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। গ্রেফতার স্বপন পুলিশকে জানান, ২০০০ সালে তিনি বিদেশে গিয়ে সাত বছর পর ফিরে আসেন। সে সময় নিজেকে র‌্যাবের মেজর পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করতে গিয়ে কালকিনিতে গ্রেফতার হন। পরে ঢাকায় ফিরে সেলিনাকে বিয়ে করেন।
পুলিশ কর্মকর্তা সায়েম বলেন, “স্বপন পুলিশকে জানিয়েছে, তারা পরিবারের সদস্যরা মিলে বিভিন্ন জেলায় গিয়ে আবাসিক হোটেলে উঠে বাসা টার্গেট করে। সেলিনা, নুপূর গিয়ে কৌশলে চুরি করে।”
সেলিনা পুলিশকে জানিয়েছেন, তার ভাই মাঈনউদ্দিন মোহন, স্বামী স্বপন, মোহনের স্ত্রী নুপূর আক্তার, ছোট বোন শাবনুর আক্তার, মা মমতাজ বেগমসহ পরিবারের অন্যরা মিলে চুরির কাজ করেন।
পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, কেউ যাতে সন্দেহ না করে, সেজন্য তারা ছোট ছোট সন্তান ও তাদের মাকে নিয়ে হোটেলে উঠত। চুরির জিনিসপত্র তারা সঙ্গে না রেখে বিক্রি করে টাকা ব্যাংকে রেখে দিত।-বিডিনিউজ