এক পয়সা কৃষিঋণ মকুব!

আপডেট: সেপ্টেম্বর ২১, ২০১৭, ১২:৩০ পূর্বাহ্ণ

দীপঙ্কর দাসগুপ্ত কলকাতা থেকে


কৃষিঋণ মকুবের প্রতিশ্রুতি রাখলেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। কথামতো কৃষিঋণ মকুব করলেন ঠিকই, কিন্তু দেড় লক্ষ টাকার ঋণে মকুব হল এক পয়সা! মথুরা জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে ঋণ মকুবের এই সার্টিফিকেট পেয়ে হতভম্ব হয়ে গিয়েছেন চিদ্দি নামে ওই কৃষিজীবী।
ভারতের বৃহত্তম রাজ্য উত্তরপ্রদেশের এই কৃষক চিদ্দিলাল কয়েক বিঘা জমিতে চাষবাস করতে পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংক থেকে দেড় লক্ষ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। এরই মধ্যে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ঋণ মকুবের কথা ঘোষণা করেন ওই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। বলা হয়, এক লক্ষ টাকা পর্যন্ত মকুব করা হবে। এই প্রকল্পের ফলে উত্তরপ্রদেশের ৮৬ লক্ষ ছোট ও মাঝারি চাষি উপকৃত হবেন বলে ঘোষণা করেছিল সরকার।
এই প্রকল্পের ঋণ মকুবের জন্য চিদ্দিলালের নাম উঠে আসে। কিন্তু জেলাপ্রশাসকের দপ্তর থেকে ঋণমকুবের প্রশংসাপত্র পেয়ে চমকে যান তিনি ও তার ছেলে বানোয়াবিলাল। সার্টিফিকেটে লেখা ছিল এক পয়সা ঋণ মকুব করা হয়েছে তার। চিদ্দির দাবি, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী এক লক্ষ টাকা ঋণ মকুব হওয়ার কথা। তিনি বলেন, হয় দপ্তরে কোথাও ভুল হয়েছে, আর না হয় যোগি আদিত্যনাথ সরকার কৃষকদের সঙ্গে রসিকতা করছে। এই সার্টিফিকেট নিয়ে তিনি তিন-তিনবার প্রশাসনিক আধিকারিকদের কাছে যান। কিন্তু কেউই তার প্রশ্নের সদুত্তর দিতে পারেননি।
এদিকে মথুরা জেলা প্রশাসনের দাবি, কম্পিউটারের ভুলে এই কাণ্ড ঘটেছে। চিদ্দির আধার নম্বর কোন ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে লিঙ্ক করা রয়েছে, তা যাচাই না করেই সার্টিফিকেট ইস্যু করা হয়েছে। তবে চিদ্দি একাই নন ঋণ মকুব নিয়ে এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে অন্তত ১০ হাজার কৃষকের সঙ্গে। কারও ১২ টাকা, কারও তিন টাকা আবার কারও দেড় টাকা ঋণ মকুব হয়েছে। ফলে ঋণ ১০ হাজার টাকার কম হলে সার্টিফিকেট ইস্যু না করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, কৃষি-সমস্যায় জেরবার হয়ে রয়েছে গোটা ভারত। কৃষি ফসলের লাভজনক দামের পাশে পর্যাপ্ত আইন করা, ফসল বিক্রির জন্য গ্যারান্টি ক্রয় কেন্দ্র তৈরির দাবিতে আইন তৈরি, কৃষকদের সব রকমের ঋণ মকুব করা, গবাদি পশু, কেনাবেচার ওপর মোদি সরকারের আদেশ প্রত্যাহার করাসহ একাধিক দাবিতে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন কৃষক ও খেতমজুররা। এই দাবিগুলিসহ স্থানীয় আরো কিছু দাবিতে সারা ভারত খেতমজুর ইউনিয়নের ডাকে আইন অমান্য ও জেলভরো কর্মসূচি হয়েছে।
দিল্লির রাজপথেও হয়েছে একাধিক সুবিশাল সমাবেশ। সেই সমাবেশগুলি থেকে নরেন্দ্র মোদি সরকারকে তীব্র হুশিয়ারি দিয়েছেন কয়েক হাজার ক্ষুব্ধ কৃষক ও খেতমজুর। দেশের দরিদ্রতম অংশের এই মানুষগুলোর ন্যূনতম রুটিরুজির দাবি না মানা হলে রাজধানীর বুকে আরো তীব্র গণআন্দোলন আছড়ে পড়বে বলে জানিয়েছেন তারা।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ