এক বছরে ক্ষুধা ও দারিদ্র্য বেড়েছে আফগানিস্তানে

আপডেট: আগস্ট ১৫, ২০২২, ৯:২৩ অপরাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক:


একবছর আগে লিমার জীবন সুন্দর ছিল। আইন ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি নেওয়া ২৭ বছর বয়সী লিমার রাজধানী কাবুলে একটি চাকরি ছিল। তিনি তার অবসর সময়ে একটি স্থানীয় জিমেও কাজ করেছেন। কিন্তু গত বছর সশস্ত্র গোষ্ঠী তালেবান দেশটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকে, নারীদের অনেক কাজ থেকে, এমনকি পুরুষ সঙ্গী ছাড়া ভ্রমণ করা এবং তাদের খেয়াল খুশি মতো পোশাক পরায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

লিমা তার চাকরি হারিয়েছেন। তার পরিবারে বাবা-মা, ভাইবোনসহ ১৩ জন সদস্য রয়েছেন। তার হবু বরও চাকরি খুয়েছেন। তার ভাইয়ের ব্যবসা ভেস্তে গেছে। তিনি একা রাস্তায় চলতে পারেন না। জিম যাওয়ার তো প্রশ্নই আসে না।

রাজধানীর উত্তরে বাঘলান প্রদেশে মাহমুদ নামে একজন তরমুজ চাষির বাড়িতে কিছু একটা খোঁজা হচ্ছে। তালেবান ক্ষমতাগ্রহণের কিছুক্ষণ আগে, তার বাড়িটি সরকারি বাহিনীর টার্গেটে পরিণত হয়। তারা ভেবেছিল এটি একটি জঙ্গি আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তারা তার বাড়িতে তল্লাশি চালায়। মাহমুদ তার পরিবারকে ভবনের পেছনে নিরাপদে নিয়ে যান। কৃষকদের লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়াটা অস্বাভাবিক ছিল না। কিন্তু তালেবান ক্ষমতায় ফিরে আসার পর থেকে সেগুলো আর নেই।

এটা সত্য, যে অতিবৃষ্টি মাহমুদের ফসল নষ্ট করেছে, তার আত্মীয়রা তাদের চাকরি হারিয়েছে এবং তার পরিবার আর্থিকভাবে ভেঙে পড়েছে। তবে অন্তত তার সন্তানকে গুলিবিদ্ধ হওয়া নিয়ে তাকে আর চিন্তা করতে হয় না। তাছাড়া দাতব্য প্রতিষ্ঠানগুলো আবারও তার গ্রামে এসে অর্থ সহায়তা দিচ্ছে।

গতবছর ১৫ আগস্ট কাবুল নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার ঘটনা বজ্রপাতের মতো আঘাত করে সেখানকার মানুষকে। তালেবানের সহজ জয় সবাইকে অবাক করেছে, এমনকি যোদ্ধাদেরও।

আমেরিকা সেনা প্রত্যাহার করায় হতাশ আফগান দোভাষীরা পালিয়ে যাওয়ার আশায় বিমানবন্দরে ভিড় জমায়। সেই আতঙ্ক আর উদ্বেগ গোটা বিশ্ববাসী দেখেছে। এরপর তালেবান দ্রুত সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে। পরে ক্রামগতভাবে দেশটি ভয়াবহ সংকটের মধ্যে পড়ে।

আফগানিস্তানের মূল সমস্যা অর্থনৈতিক সংকট। পশ্চিমারা আফগানিস্তানকে বৈশ্বিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে এবং বৈদেশিক রিজার্ভ ফ্রিজিং করার ফলে দেশটির অর্থনীতির কাঠামো ভেঙে পড়ে। গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে জিডিপি এক বছরের আগের একই সময়ের তুলনায় এক তৃতীয়াংশ কমে যায়। দেশের অধিকাংশ মানুষ নিঃস্ব ও ক্ষুধা মন্দার মধ্যে পড়ে। এক বছরের আগের তুলনায় সে বছর জুনে খাদ্য ও জ্বালানির দাম ৫০ শতাংশ বেড়ে যায়। ২০টি পরিবারের মধ্যে একটি মাত্র পরিবারে পর্যাপ্ত খাবার ছিল।

তালেবানের সহযোগিতা না পাওয়ারও অভিযোগ আছে। অথচ তারা দাবি করে যে, তারা পরিবর্তন হয়েছে এবং আফগানদের জন্য ‘উন্নত ভবিষ্যত’ এর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। নতুন তালেবান সরকার অনেকটা পুরোনোদের মতো আচরণ করে, যারা ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত দেশ শাসন করেছিল।

‘পাপ-পুণ্য’ মন্ত্রণালয় পুনর্গঠন করা হয়েছে এবং নৈতিকতার বিষয়গুলো বাস্তবায়ন করতে গিয়ে পুলিশী হয়রানির অভিযোগ রয়েছে। দাড়ি কেটে ফেলা পুরুষদের এবং মাথা থেকে পা পর্যন্ত শরীর না ঢাকা নারীদের হয়রানি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। তালেবান এখনো তাদের ‘সন্ত্রাসী’ বন্ধুদের আশ্রয় দিচ্ছে। গত ৩১ জুলাই আমেরিকার ড্রোন হামলায় রাজধানী কাবুলে আল-কায়েদার প্রধান আয়মান আল-জাওয়াহিরি নিহত হন বলে দাবি করেছে বাইডেন প্রশাসন।
তথ্যসূত্র: জাগোনিউজ