এক মামলায় দুই ধরনের প্রতিবেদন

আপডেট: আগস্ট ১৯, ২০১৭, ১২:৫৩ পূর্বাহ্ণ

তানোর প্রতিনিধি


রাজশাহীর তানোরে এক বাড়িতে চুরির মামলা তদন্ত নিয়ে পুলিশ দুই ধরনের প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। ফলে বাদি সন্দিহান হয়ে পড়েছেন। বিষয়টি নিয়ে বাদির পক্ষ থেকে আগামী ২০ আগস্ট ধার্য তারিখে সংশ্লিষ্ট আদালতে নারাজি পিটিশন দাখিলের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।
মামলার নথিপত্র ঘেটে দেখা গেছে, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ও রাজশাহী জজ কোর্টের অ্যাডভোকেট একেএম শওকত উদ্দীন রেন্টুর তানোর হিন্দুপাড়াস্থ বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি নিয়ে অ্যাডভোকেট নিজে বাদি হয়ে গত বছরের ২৬ আগস্ট তানোর থানায় অভিযোগ করেন। কিন্তু অভিযোগের বিষয়টি আমনে নেন নি তৎকালীন সময়ের থানার ওসি আবদুস সালাম। যার ফলে বিষয়টি নিয়ে জেলা পুলিশ সুপারকে অবহিত করা হয়। পুলিশ সুপারের নির্দেশে গত বছরের ৩০ আগস্ট থানায় মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়। কিন্তু ২৬ আগস্টের সেই অভিযোগটিতে থানা পুলিশ হাতে কলমে তারিখ পরিবর্তন করে ৩০ আগস্ট দেখান। মামলাটি তদন্তের জন্য প্রথমে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুর গাফ্ফারের ওপর দায়িত্ব দেয়া হয়। পরবর্তীতে তিনি বদলি হলে থানার আরেক উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব নেন। তিনি দায়িত্ব পেয়ে তানোর পৌর সদরের শিতলীপাড়া মহল্লার মাদকসেবি আজিজুল ও গোল্লাপাড়া মহল্লার জাহাঙ্গীরকে গ্রেফতার করে আদালতে গ্রেফতার সংক্রান্ত প্রতিবেদন দেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বাদির বাড়ি থেকে একটি সিলিং ফ্যান ও কিছু আববাবপত্র চুরি হয়। সাক্ষ্য প্রমাণে ও সোর্সের তথ্য অনুযায়ী ধৃত আসামি এবং এলাকার মাদকসেবিরা সিলিং ফ্যান চুরি করে। মাদকসেবির তালিকা তৈরি করা হয়েছে। তারা এলাকায় আসামাত্র গ্রেফতার করে সিলিং ফ্যান উদ্ধার করা হবে মর্মে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট আদালতে চলতি বছরের ২৯ জুলাই মামলাটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেন এসআই সাইফুল ইসলাম। প্রতিবেদনে চুরির ঘটনা সত্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু সাক্ষ্য প্রমাণের অভাবে গ্রেফতারকৃতদের অব্যাহতি দানে সংশ্লিষ্ট আদালতে চূড়ান্ত রিপোর্ট দাখিল করে মামলার বিষয়ে বাদিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় মর্মে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়।
কিন্তু বাদির অভিযোগ, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে বাদিকে কোনো জিজ্ঞাসাবাদ করে নি। এমন কী বাদির সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তার কোনো ধরনের আলাপ বা সাক্ষাতে কথা হয় নি। তদন্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম গ্রেফতারকৃত আসামিদের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছেন। এ কারণে গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ ছাড়াই চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়া হয়। বাদির কাছে অনৈতিক সুবিধা না পেয়ে তাকে হয়রানির উদ্দেশ্যে তদন্তকারী কর্মকর্তা এমন মনগড়া প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। মামলাটির সুষ্ঠু তদন্তের জন্য নারাজি করা হবে বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তানোর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম বলেছেন, মামলাটি তদন্তে সাক্ষ্য প্রমাণের অভাব ছিল। এ কারণে মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়া হয়। কিন্তু গ্রেফতারকৃত জাহাঙ্গির ও আজিজুলকে কোন ধরনের জিজ্ঞাসাবাদ ছাড়াই মামলা হতে অব্যাহতি সুপারিশ করা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি এড়িয়ে যান।