এক যুগ থেকে শতভাগ পাস ধরে রেখেছে স্কুলগুলো

আপডেট: নভেম্বর ২৯, ২০২২, ১:১৫ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


এক যুগ থেকে শতভাগ পাসের অর্জন ধরে রেখেছে রাজশাহীর কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। তারমধ্যে অন্যতম রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুল, গভ. ল্যাবরেটরী হাই স্কুল, রাজশাহী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় (হেলেনাবাদ)। এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে লেখাপড়ার মান ও পরিবেশ ভালো থাকায় এমন ফলাফল করেছে শিক্ষার্থী বলে স্কুল প্রধানরা জানান। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠনগুলোতে এবছরও (২০২২) এসএসসিতে শতভাগ পাস করেছে পরীক্ষার্থীরা।

রাজশাহী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের (হেলেনাবাদ) প্রধান শিক্ষক ইসাবেলা সাত্তার জানায়, ২০০৯ সালের আগে থেকে এসএসসিতে শতভাগ পাস করছে মেয়েরা। এই বছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। এবছর দুই বিভাগ থেকে ১৬১ ছাত্রী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। এরমধ্যে বিজ্ঞান থেকে ১৫৬ ছাত্রী। তাদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৫২ ছাত্রী। এর ‘এ’ পেয়েছে চারজন। আর মানবিক বিভাগ থেকে পাঁচ ছাত্রী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। সবাই জিপিএ-৫ পেয়েছে।

শিক্ষার্থী জায়া জানায়, আমাদের অনেক সুন্দর রেজাল্ট হয়েছে। তাতে আমরা অনেক খুশি। করোনাকালীন আমরা ঠিকমতো পড়া-শোনার মধ্যে থাকতে পারিনি। তার পরবর্তি সময়ে অনেক পরিশ্রম করে এমন সাফল্য অর্জন করেছি।

রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুলের প্রধান শিক্ষক ড. নূরজাহান বেগম জানান, ২০০৮ সাল থেকে এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শতভাগ পাসের হার। এবছর ২২৭ ছাত্র এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। এরমধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২০১ জন ছাত্র। ‘এ’ পেয়েছে ২৪ ছাত্র ও ‘এÑ’ পেয়েছে দুজন ছাত্র।

শতভাগ পাস করা গভ. ল্যাবরেটরী হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক শাহনাজ বেগম জানান, ২০১০ সাল থেকে শতভাগ পাস এই স্কুলে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ১১৯ ছাত্র পরীক্ষায় অংশ নেয়। তারমধ্যে ১০৯ ছাত্র জিপিএ-৫ পেয়েছে। ১১ জন ছাত্র ‘এ’ পেয়েছে।

শিক্ষার্থীর অভিভাবক ইশরাত জাহান জানান, করোনাকালীন শিক্ষার্থীরা ঠিকঠাক লেখা-পড়া করতে পারেনি। সেই সময় পরীক্ষার্থী তাদের অভিভাবকদের অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছে। করোনার কারণে দীর্ঘ সময় পড়াশোনার বাইরে চলে গিয়েছিল শিক্ষার্থী। তার পরেও অনেক ভালো ফলাফল হয়েছে। আমার প্রত্যাশা ছিলো সন্তান জিপিএ-৫ পাবে। তাই পেয়েছে।

রাজশাহী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল:
এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে রাজশাহী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এ্যান্ড কলেজ শতভাগ পাস করেছে। এ প্রতিষ্ঠান থেকে ১০৮ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। তারমধ্যে ১০৬ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। ২০১৮ সাল থেকে এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। তখন থেকেই এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করে চলেছে।

২০১৮ সালে ১১৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে সকলেই পাস করে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১১৩ জন। ২০১৯ সালে ৯০ জন পরীক্ষায় বসে সবাই পাস করে। জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৮৩ জন, ২০২০ সালে ৯৬ জনের সকলেই পাসসহ জিপিএ-৫ পায় ৮৮ জন। গেল বছর ১২৮ জনের সবাই পাসসহ জিপিএ-৫ অর্জন করে ১২৫ জন শিক্ষার্থী।
প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ লে. কর্নেল মো. রেজাউল করিম বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের নিরলস প্রচেষ্টা এবং কঠোর পরিশ্রম এই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। পাশাপাশি শিক্ষকদের শিক্ষাদান কৌশল ও অভিভাবকদের আন্তরিক সহযোগিতা আমাদের সবসময় ভালো ফলাফল করতে সাহায্য করে।

সরকারি প্রমথনাথ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় (পিএন):
এবছর এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ২২৭ জন ছাত্রী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে একজন ছাত্রী অকৃতকার্য হয়। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২১২ জন ছাত্রী। বাকিরা ‘এ’ ও ‘এ’ পেয়ে পাস করেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক তৌহিদ আরা জানান, শুধু একজন শিক্ষার্থী ফেল করেছে। সে খুব অসুস্থ ছিল। তার পরেও সে পরীক্ষা দিয়েছিল।
অন্যদিকে, অগ্রণী বিদ্যালয় ও মহাবিদ্যালয়ে অধ্যক্ষ সাইফুল হক জানান, ২০২২ সালে এসএসসি পরীক্ষায় শিক্ষাথীরা অভাবনীয় কৃতিত্ব অর্জন করেছে। এবছর বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ৯৭ দশমিক ৫৮ শতাংশ এবং ভোকেশনাল বিভাগে ৯৪ দশমিক ৫৫ শতাংশ উত্তীর্ণ হয়েছে। মোট ২৪৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ‘এ+’ পেয়েছে ১৩৪ জন। ‘এ’ পেয়েছে ৮৩ জন। ভোকেশনাল বিভাগে ৫৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ‘এ+’ পেয়েছে ২১ জন। ‘এ’ পেয়েছে ৩১ জন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ