এক লাখের মধ্যে তৈরি মাত্র ২০ হাজার ওয়াইফাই হটস্পট

আপডেট: অক্টোবর ১৯, ২০১৬, ১১:৫১ অপরাহ্ণ


সোনার দেশ ডেস্ক
বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পরে আইসিটি বিভাগ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয় সারাদেশে এক লাখ ফ্রি ওয়াইফাই হটস্পট (জোন) তৈরির। ঘোষণাটি বাস্তবায়িত হতে শুরু করলেও চলছে ধীর গতিতে। কার্যক্রম শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ২০ হাজার হটস্পট তৈরি হয়েছে,দাবি আইসিটি বিভাগের। প্রকল্পের নাম বিষয়ক সিদ্ধান্তহীনতার কারণেই এ ধীরগতি, এমনটা জানান সংশ্লিষ্ট এক সূত্র।
আইসিটি বিভাগ ঘোষণায় বলে, ইউনিয়ন পর্যায়ের হাট-বাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, লঞ্চঘাট, বাস স্টেশনসহ বিভিন্ন স্থানে এসব হটস্পট তৈরি করা হবে। সরকারি যেসব অফিসে ইন্টারনেট সংযোগ আছে, সেখানে যদি রাউটার বসানো হয় তাহলে ওই অফিসে আসা লোকজনকে নেটওয়ার্কের আওতায় আনা যাবে।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, এরইমধ্যে দেশে ২০ হাজারের বেশি ওয়াইফাই হটস্পট তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অবশিষ্ট ৮০ হাজারের নির্মাণ কাজও শেষ হবে। সারাদেশের ১৮ হাজারের বেশি সরকারি অফিস, সচিবালয়ের ৫০৬টি স্পট ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অবশিষ্ট হটস্পট তৈরি করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রতিমন্ত্রী পলক বলেন, আমরা এক লাখ নয়, এর চেয়েও বেশি হটস্পট তৈরি করব। তিনি এসব হটস্পটে ইয়ুথ কর্নার তৈরি করা হবে বলেও জানান। তিনি বলেন, ই্য়ুথ কর্নারকে আইটি কর্নার ও ইনফরমেশন সেন্টার হিসেব গড়ে তোলা হবে। ইয়ুথ কর্নারে স্থাপন করা হবে ইন্টারনেট কিয়স্ক ও একটা বড় এলইডি টিভি। ওয়াইফাই জোনও হওয়ায় কিয়স্কে থাকবে উচ্চগতির ইন্টারনেট। সেই কিয়স্ক ব্যবহার করে তরুণরা অনলাইনে দুনিয়া ভ্রমণ করতে পারবেন।
আইসিটি বিভাগ সূত্র জানান, দেশের ১৮ হাজার সরকারি অফিসে আগে থেকেই ইন্টারনেট সংযোগ ছিল। সেখানে ওয়াইফাই রাউটার স্থাপন করে সংশ্লিষ্ট এলাকায় আগত সেবা প্রত্যাশীদের ইন্টারনেট নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হয়েছে। অন্যদিকে সচিবালয়ে ২০২১ সালের ২১ ডিসেম্বর চালু (উদ্বোধন) করা হয় ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক। এ নেটওয়ার্ক চালু করতে সচিবালয়ের বিভিন্ন ভবনে ৫০৬টি এক্সেস পয়েন্ট স্থাপন করা হয়। প্রযুক্তির ব্যবহারে প্রশাসনিক কার্যক্রমে আরও  গতি আনতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয় বলে প্রতিমন্ত্রী জানান। একইসঙ্গে অভিন্ন ইতিবাচক উদ্দেশ্য সামনে রেখে কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও চালু করা হয়েছে ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক।
এদিকে বেসরকারিভাবে অনেক প্রতিষ্ঠান দেশে ওয়াইফাই হটস্পট নির্মাণ করছে। এরমধ্যে মোবাইলফোন অপারেটর, মোবাইলফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান, ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। জানা গেছে, এসব হটস্পট ওই এক লাখের হিসাবের বাইরে। প্রতিমন্ত্রী পলকও এ প্রসঙ্গে বলেন, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর হটস্পটগুলো এই প্রকল্পের আওতায় ধরা হবে না।
তিনি আরও বলেন, ওয়াইফাইয়ের গতি কত হবে, কতটুকু এলাকা এর আওতাভুক্ত হবে, কোন ধরনের জায়গায় বসানো হবে, কী ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হবে ইত্যাদি বিষয় আমাদের বিবেচনায় নিতে হচ্ছে। তরুণ প্রজন্মের আগ্রহের মূলে এখন এটা। তরুণ প্রজন্মকে আমরা এই ফ্রি হটস্পট নেটওয়ার্কের আওতায় আনতে চাই। হটস্পট তৈরি করা হলে প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানগুলো যেন ক্ষতির সম্মুখীন না হয়, এ প্রসঙ্গের উল্লেখে পলক বলেন, এরসঙ্গে এনটিটিএন, মোবাইলফোন অপারেটরসহ অনেক প্রতিষ্ঠান জড়িত রয়েছে। তারা যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সেভাবেই আমাদের মডেল তৈরি করতে হবে।
আইসিটি বিভাগ সূত্র জানায়, বিভাগটি সারাদেশে এক লাখ ফ্রি ওয়াইফাই হটস্পট তৈরির ঘোষণা দিলেও তা দীর্ঘদিন ‘পরিকল্পনাতেই’ আটকে ছিল। কয়েকটি বিষয়ের সমাধান না হওয়ায় আলোর মুখ দেখতে দেরি হয় প্রকল্পটির। ওয়াইফাই হটস্পট তৈরির সঙ্গে একাধিক পক্ষ জড়িত থাকায় এবং পক্ষগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতা বিরাজ করায় (কিছু জায়গায় ওভারল্যাপিং ছিল। ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ, আইসিটি বিভাগ, বিটিআরসি ইত্যাদি সংস্থাগুলোর মধ্যে আমাদের সিংক্রোনাইজ করে কাজটি করার কথা।) হওয়ায় সংশ্লিষ্টরা প্রকল্পের বিষয়ে উদ্যোগী হতে পারছিলেন না।
আইসিটি বিভাগ সূত্র আরও জানান, আইসিটি বিভাগের ইনফো সরকার-৩ প্রকল্পের নাম পরিবর্তন করে নতুন নাম হওয়ার কথা ছিল ‘স্টাবলিশিং ডিজিটাল কানেক্টিভিটি’ প্রকল্প। এই প্রকল্পের কাজগুলো হবে উচ্চ প্রযুক্তির বা ‘হাই এন্ড’-এর। যেসব প্রকল্প দেশকে আরও সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবে সেসব ‘বিষয়’ নতুন এই প্রকল্পে যুক্ত হবে। এই প্রকল্পের আওতায় ১ লাখ ফ্রি ওয়াই-ফাই হটস্পট তৈরি হওয়ার কথা। নাম পরিবর্তন হতে দেরি হওয়ায় হটস্পট তৈরির প্রক্রিয়ায় ধীরগতি ভর করে।
জানা যায়, ইনফো সরকার-৩ প্রকল্পের নাম হওয়ার কথা ছিল ডিজিটাল উইন্ডো। কিন্তু কৌশল এবং পদ্ধতিগত কিছু কারণে নাম পরিবর্তন করা সম্ভব হয় নি। পরে প্রকল্পটিকে‘স্টাবলিশিং ডিজিটাল কানেক্টিভিটি’ নামকরণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। পুরো দেশকে ‘কানেক্টেড’ করতে অনেক প্রকল্প হাতে নেওয়া হচ্ছে। এসব শেষ হয়ে গেলে কিছু কাজ হাতে নেওয়া হবে যেসব কাজ উন্নত দেশগুলোর একেকটি মডেল হবে। ওইসব মডেল অনুসরণ করে বাংলাদেশকে একটি উন্নত দেশে পরিণত করার পরিকল্পনা রয়েছে আইসিটি বিভাগের। তবে নির্ধারিত সময়ের (২০১৭ এর ডিসেম্বর) মধ্যে প্রকল্প (ইনফো সরকার-৩) শেষ না হলে ৬ মাস সময় বাড়ানো হতে পারে। সে ক্ষেত্রে প্রকল্প শেষ হতে ২০১৮ সালের জুন মাস পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে। আইসিটি বিভাগের লক্ষ্য, ২০১৮ সালের মধ্যে ইনফো সরকার-৩ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা। এদিকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ, প্রকল্পটি ২০১৭ সালের মধ্যেই শেষ করতে হবে, এমনটাই জানান আইসিটি অধিদফতরের সাবেক এক মহাপরিচালক। বাংলাট্রিবিউন

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ