এখন আফগানিস্তানের সব প্রদেশেই আইএস: জাতিসংঘ দূত

আপডেট: নভেম্বর ১৮, ২০২১, ৭:০২ অপরাহ্ণ

কাবুলে এক বিস্ফোরণস্থলে পাহারা দিচ্ছেন একজন তালেবান যোদ্ধা। ছবি: রয়টার্স

সোনার দেশ ডেস্ক:


আফগানিস্তানের ৩৪টি প্রদেশের প্রায় সবগুলোতেই মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের শাখা আইএস কেপির উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন আফগানিস্তানে জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিনিধি।

দেশটিতে আইএসের শাখাটি ক্রমশ শক্তিশালী হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেছেন ডেবোরাহ লিয়নস।

তালেবান আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর সেখানকার পরিস্থিতি নিয়ে বুধবার তিনি এ উদ্বেগজনক মূল্যায়ন হাজির করেন বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

লিয়নস জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে বলেন, ইসলামিক স্টেট-খোরাসান প্রভিন্সের (আইএসকেপি) বিস্তৃতি মোকাবেলায় তালেবানের প্রতিক্রিয়া কেবল বিচারবহির্ভূতভাবে সন্দেহভাজন আইএসকেপি যোদ্ধাদের আটক ও হত্যাতেই আটকে আছে বলে দেখা যাচ্ছে।
“এটা এমন এক ব্যাপার, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও মনোযোগ পাওয়ার দাবিদার,” বলেছেন তিনি।

তালেবানের মতাদর্শিক শত্রু আইএসকেপি কাবুলের শিয়া অধ্যুষিত এলাকায় দুটো বিস্ফোরণে একজন নিহত ও ছয়জনের আহত হওয়ার দায় স্বীকার করে নেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর লিয়নস এসব কথা বলেন।

জাতিসংঘের এই দূত বলেন, তালেবান আইএসকেপির বিস্তৃতি থামাতে পারছে না।
“একসময় অল্প কয়েকটি প্রদেশ ও রাজধানীতে থাকলেও আইএসকেপি-কে এখন প্রায় সব প্রদেশেই দেখা যাচ্ছে এবং তাদের সক্রিয়তাও ক্রমশ বাড়ছে,” বলেন তিনি।

২০২০ সালে এই জঙ্গিগোষ্ঠীটির হামলার সংখ্যা ছিল ৬০টি, এ বছর এরই মধ্যে তারা ৩৩৪টি হামলা চালিয়েছে বলে জানান লিয়নস।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ২০ বছরের যুদ্ধ শেষে কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকে তালেবান ‘নিজেদেরকে প্রকৃতই একটি সরকার হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা’ করছে, কিন্তু তারা এখন পর্যন্ত সমাজের অন্য অংশকে তাদের শাসনব্যবস্থার বাইরে রেখেছে এবং ক্রমাগত নারীদের অধিকার খর্ব করছে।

তিনি জানান, দেশটিতে নিয়মিতই নিরাপত্তা বাহিনীর সাবেক সদস্য ও কর্মকর্তাদের ‘বিচারবহির্ভূত হত্যাকা-ের’ শিকার হওয়ার এবং ঘরে ঘরে ব্যাপক তল্লাশি চলার বিশ্বাসযোগ্য খবর পাচ্ছে আফগানিস্তানের জাতিসংঘের মিশন।

সংকটে থাকা অর্থনীতি এবং খরার কারণে শীত শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আফগানিস্তানে মানবিক বিপর্যয় আরও তীব্রতর হতে পারে বলে নতুন করে সতর্কও করেছেন তিনি।
আফগানিস্তানে মানবিক ত্রাণ সাহায্যের পরিমাণ অপ্রতুল জানিয়ে দেশটির স্বাস্থ্যসেবা কর্মী, শিক্ষক এবং মানবিক ত্রাণ সাহায্যে নিয়োজিত কর্মীদের বেতনের জন্য তহবিল গড়তে উপায় বের করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন জাতিসংঘের এই দূত।

অর্থনীতিতে ধ্বস, অবৈধ মাদক, অস্ত্র, মানবপাচার ও অনিয়ন্ত্রিত মুদ্রা বিনিময়ে ইন্ধন দেয়া কেবল ‘সন্ত্রাসবাদরই সহায় হতে পারে’, বলেছেন লিয়নস।

“এই প্যাথলজিগুলো প্রথমে আফগানিস্তানের ক্ষতি করবে, তারপর তা পুরো অঞ্চলকে আক্রান্ত করবে,” বলেছেন তিনি।
তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ