এগিয়ে চলেছে ফ্লাইওভারসহ সংযোগ সড়ক নির্মাণ কাজ

আপডেট: নভেম্বর ১০, ২০১৬, ১২:০৩ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক



নগরীতে ফ্লাইওভারসহ সাড়ে সাত কিলোমিটার দীর্ঘ সংযোগ সড়ক নির্মাণ কাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে। রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়কের আলিফ লাম মিম ভাটা থেকে পূর্বে মেহেরচন্ডি-মোহনপুর হয়ে নাটোর রোডের ফল গবেষণা কেন্দ্র পর্যন্ত যাবে এ সড়ক।
সড়কের ফল গবেষণা কেন্দ্র পয়েন্টে নির্মাণ করা হবে দুইশ মিটার দীর্ঘ একটি ফ্লাইওভার। রাজশাহীতে এটিই হবে প্রথম ফ্লাইওভার। শুধু ফ্লাইওভারটির নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ২৯ কোটি টাকা। শহরের পূর্ব ও পশ্চিম অংশকে সংযুক্ত করতে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক)।
রাসিকের প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল হক বলেন, পরিকল্পিত নগরীর ২৫ শতাংশ সড়ক থাকতে হয়। কিন্তু রাজশাহী শহরে সড়ক রয়েছে ৯ শতাংশের কম। বিষয়টি মাথায় রেখে সড়ক নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আগামী ৫০ বছরের উন্নয়ন পরিকল্পনায় চার লেনের এ সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, সড়ক নির্মাণের জন্য ৪২ দশমিক তিন একর ভূমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। সড়কটির দুইপাশে ফুটপাত, সড়কবাতি, ট্রাফিক কাঠামো ও রোড মার্কিংসহ ডিভাইডার থাকবে। থাকবে একটি ফ্লাইওভারও। শুরুতে ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় সড়কের কাজ কিছুটা বিলম্বিত হয়েছে। তবে এখন সেটি আর নেই। আগামী বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে এটির নির্মাণ কাজ শেষ হবে।
প্রকল্প পরিচালকের বরাত দিয়ে প্রধান প্রকৌশলী জানান, প্রথম ধাপে আলিফ লাম মিম ভাটা থেকে সড়কের চার কিলোমিটার অংশ নির্মাণ করা হচ্ছে। এ বছরের ১১ ফে¦ব্রুয়ারি নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। রাস্তার পুরো অংশ জুড়েই রয়েছে অসংখ্য ডোবা-গর্ত। ৪ কোটি ৯৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ভরাট কাজ করছে মেসার্স নূর হোসেন এন্টারপ্রাইজ। গত বছরের ডিসেম্বরে শুরু হয় এ কাজ।
এছাড়া রাস্তা নির্মাণের কার্যাদেশ পেয়েছে এমবিআরই জেভি। এ কাজে ব্যয় হচ্ছে ১৯ কোটি ৫ লাখ। গত অক্টোবরে এ কার্যাদেশ দেয়া হয়। এ প্রকল্পের ফ্লাইওভারটি নির্মাণ করবে আলাদা প্রতিষ্ঠান। রাস্তার সাথে সাথেই এটি নির্মাণ করা হবে। এরই মধ্যে এ কাজের দরপত্র আহবান করা হয়েছে। এখন চলছে নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান বাছাইয়ের কাজ।
গতকাল বুধবার দুপুরে নগরীর ছোটবনগ্রাম বারো রাস্তার মোড়ে গিয়ে দেখা গেছে, দ্রুত এগিয়ে চলেছে ভরাট কাজ। আলিফ লাম মিম ভাটা থেকে বারো রাস্তার মোড় পর্যন্ত অংশের ভরাট কাজ শেষ হয়েছে এরই মধ্যে। পরের অংশটুকুর ভরাট কাজ দ্রুত এগিয়ে  চলেছে। ১০টি ডাম্পিং ট্রাক অনবরত ফেলে চলেছে ভরাট বালি। সেগুলো সরিয়ে দিচ্ছে এসক্লেভেটর।
রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে ভরাট কাজ তদারকি করছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স নূর হোসেন এন্টারপ্রাইজের অংশিদার আব্দুল কাইয়ুম সরকার। তিনি বলেন, কার্যাদেশ পাবার পর থেকেই তারা ভরাট কাজ শুরু করেছেন। নগরীর উপকণ্ঠ হরিপুর এলাকার পদ্মা থেকে ভরাট বালি এনে ভরাট হচ্ছে। সড়কের মাঝে বড় বড় গর্ত ও ডোবা থাকায় ভরাট কাজে সময় লাগছে। তবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এ কাজ শেষ করতে চান তারা। ভরাট কাজ শেষ হলেই শুরু হবে মূল সড়ক নির্মাণ কাজ।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ