এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ

আপডেট: December 8, 2016, 12:06 am

ড. মির্জা গোলাম সারোয়ার পিপিএম



বাংলাদেশ যে ক্রমেই এগিয়ে যাচ্ছে তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। কয়েক আগে দিনাজপুরের প্রত্যন্ত অঞ্চলে অবস্থিত আমার গ্রামের বাড়িতে গিয়েছিলাম। সময়াভাবে প্রায় ১ যুগ ধরে সেখানে যাওয়াই হয় নাই। অবশ্য আমার পরিবারের সবাই বর্তমানে ঢাকা ও রাজশাহীতে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। তাই দিনাজপুরে কম যাওয়া হয়। এবার গ্রামে গিয়ে যা দেখলাম তা রীতিমতো চমকে যাওয়ার মত ঘটনা। বদলে গেছে আমার গ্রামের চিত্র। সাথে সাথে জীবনযাত্রার মানসহ সব কিছু। পাল্টে গিয়েছে আর্থ-সামাজিক অবস্থা। গ্রামের সর্বত্র লেগেছে উন্নয়নের ছোঁয়া। টিন এবং মাটির ঘরের বদলে উঠেছে দালান। আগে গ্রামে হাতে গোনা কয়েকটি বাড়িতে ছিল টিউবওয়েল এবং স্বাস্থ্যসম্মত ল্যাট্রিন। আমাদের গ্রামে ল্যাট্রিন না থাকায় আগে মানুষেরা খুব সকালে অথবা রাতে খোলা জায়গায় কিংবা দুপুরে কোন ঝোঁপঝাড়ের ভিতরে গিয়ে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে কাজ সারতেন। এখন গ্রামের প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই রেেয়ছে স্বাস্থ্যসম্মত ল্যাট্রিন এবং নলকূপ। ২০০০ সালেও বাংলাদেশের ৩৩ শতাংশ মানুষ স্যানিটারি ল্যাট্রিন ব্যবহার করতে পারতেন না। বর্তমানে এর সংখ্যা ১ শতাংশের বেশি নয়। আশা করা হচ্ছে আগামী ১ বছরের মধ্যে বাংলাদেশের মানুষ শতভাগ স্যানিটেশনের আওতায় আসবে। এই সব ছোট ছোট অর্জনই বাস্তবিক অর্থে জাতীয় উন্নয়ন। গ্রামের গরীবদের কপালে আগে দু’বেলা ভাতই জুটত না। অনেকেই পান্তা ভাত বা চালের জাউ রান্না করে খেত। এখন আর এ দৃশ্য চোখে পড়ে না। গ্রামের কেউ আর না খেয়ে থাকে না।
আমাদের গ্রামে আগে শুধু ধনী লোকের সন্তানরা স্কুলে যেত। গরীবদের শিশুরা বাবার সঙ্গে ক্ষেতে কিংবা নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের মজুর হিসেবে কাজ করত। এখন হতদরিদ্র ঘরের শিশুরাও পর্যন্ত স্কুলে যায়। তাদের পোশাক পরিচ্ছেদেও পরিবর্তন এসেছে। কি ধনী, কি গরীব প্রত্যেক শিক্ষার্থী ইউনিফর্ম পরে স্কুলে যায়। গরীব ঘরের ছেলেরা আগে লুঙ্গি পরে স্কুলে যেত, এখন আর কেউ লুঙ্গি পরে না। গ্রামে আগে স্কুলই ছিল না। আমি ছোট থাকতে প্রায় ৪ কি.মি. দূরে হেঁটে ঈদগাহ বস্তি স্কুলে যেতাম। এখন গ্রামে প্রাইমারি, মাধ্যমিক সহ বেশ কয়েকটি স্কুল এবং কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। গ্রামের প্রায় প্রতিটি স্কুল-কলেজ পড়–য়া ছেলেমেয়ের হাতে মোবাইল ফোন। এমনকি যারা পড়াশুনা করে না তাদের হাতেও মোবাইল ফোন দেখা যায়। ইন্টারনেটের মাধ্যমে তারা দেশ-বিদেশের খবর পাচ্ছে। আইটি সার্ভিস মানুষের দোড়গোড়ায় পৌঁছে গেছে। গ্রামের ঘরে ঘরে টেলিভিশন। ডিস অ্যান্টেনার মাধ্যমে দেশ-বিদেশের খবর পাচ্ছে।
আমাদের গ্রামে আগে গরু দিয়ে লাঙ্গলের মাধ্যমে জমি চাষ করা হতো। দু’একজন বাদে এখন সবাই ট্রাক্টর দিয়ে জমি চাষ করছে। কৃষিতে এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন। ধান, পাট সহ প্রতিটি কৃষিপণ্যের উৎপাদন বেড়ে গেছে। আমি দেখেছি আগে আমাদের গ্রামের কৃষকরা বছরে একটি মাত্র ফসল পেত। এখন তিনটি ফসল পায়। আগে বিঘা প্রতি ৪/৫ মণ ধান হতো, এখন ৪০ মণ পর্যন্তও হচ্ছে। আগে ধান মাড়াত হাত দিয়ে কাঠের ওপরে মেরে। এখন মেশিন দ্বারা ধান মাড়ায়। চাষিরা এখন আর বৃষ্টির জন্য অপেক্ষা করে না। সেচের মাধ্যমে জমিতে পানি দিয়ে তারা ফসল ফলাচ্ছে। অধিকাংশ কৃষকের ঘরে রয়েছে সেচযন্ত্র। যোগাযোগ ব্যবস্থায় এসেছে আমূল পরিবর্তন। আমাদের পুরো গ্রামে এখন পাকা রাস্তা। এসব রাস্তায় বাস, ট্রাক, নসিমন, ইজিবাইক, ভটভটি, রিক্সা, রিক্সা ভ্যান ইত্যাদি চলছে। নিজের জমিতে ফলানো কৃষিপণ্য সহজে বাজারজাত করে কৃষকরা ভাল টাকা উপার্জন করছেন। গ্রামে এখন আর মাটির চুলোয় রান্না হয় না। প্রায় প্রতিটি বাড়িতে গ্যাসের চুলায় রান্না করে। আগে আমাদের গ্রামে দেখিছি ঢেঁকিতে ধান কুটে চাল বানাতো। এখন মেশিনে ধান ভাঙ্গাচ্ছে। আমাদের গ্রামেই বেশ কয়েকটি ধান ভাঙ্গানো মেশিন রয়েছে। শুধু আমার গ্রাম নয়, পুরো দিনাজপুরসহ সারা বাংলাদেশের সর্বত্রই উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে। সরকারের সহায়তার পাশাপাশি মানুষ নিজের চেষ্টায়ও ভাগ্য বদল করেছে। ফলে দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। সাথে সাথে গড় আয়ু এবং মাথা পিছু আয়ও বেড়েছে। সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ নি¤œ আয়ের দেশ থেকে নি¤œ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল, প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের দেশ হিসেবে এটি বাংলাদেশের ও বাংলাদেশের পরিশ্রমী মানুষের জন্য একটি বিরাট অর্জন। বাংলাদেশ অনেক এগিয়েছে সন্দেহ নেই। সেই সাথে এগিয়েছে এ দেশের মানুষের মনমানসিকতা ও জীবন যাপন। বিশ্ব অর্থনীতির মোড়লরা বাংলাদেশের জন্মলগ্নে এদেশকে “বটমলেস বাস্কেট’ বলেছেন, অথচ আজ তারাই বাংলাদেশেকে বলছে ইমার্জিং টাইগার, সম্ভাবনার বাংলাদেশ। দু’দশক আগেও বাংলাদেশের জিডিপির মাত্র ৭ শতাংশ রপ্তানি হতো। এখন এটি উন্নীত হয়েছে ২০ শতাংশে। বর্তমানে ২৯ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সত্যিকার অর্থেই প্রশংসনীয়।
বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে মধ্যবিত্তের হার ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। গত দুই দশকে মধ্যবিত্ত জনসংখ্যা দ্বিগুণের বেশি বেড়ে ২০ শতাংশ হয়েছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে ২০৩৩ সালে মোট জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ এ শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত হবে। গবেষণার তথ্য উপস্থাপনকালে প্রতিষ্ঠানের গবেষণা পরিচালক ড. বিনায়ক সেন বলেন, ১৯৯০ সালের পরের ২০ বছরে মধ্যবিত্ত হয়েছে ২০ শতাংশ। গবেষণায় দেখা গেছে, দেশে মধ্যবিত্তের মধ্যে ৪৮ দশমিক ৪ শতাংশ বা প্রায়ই অর্ধেকই বেসরকারি এবং ২০ শতাংশে  বেশি করেন সরকারি চাকরি। মধ্যবিত্তদের মাত্র ২২ শতাংশ ব্যবসা করেন। ২৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানরা ইংরেজি মাধ্যমে ও দুই তৃতীয়াংশ বাংলা মাধ্যমে পড়েন। ২০১২ সালের হিসাবে মধ্যবিত্ত শ্রেণির অর্ধেকই তখন জমির মালিক ছিলেন। অন্যদিকে আধুনিক তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারেও মধ্যবিত্তের সম্পৃক্ততা বাড়ছে। ৬১ দশমিক ৩ শতাংশ বাসাবাড়িতে ইন্টারনেট ব্যবহার ও ১৯ দশমিক ৩ শতাংশ শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করেন।
আর্থসামাজিক উন্নয়নে বিশ্বের মডেল হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে বাংলাদেশ। দারিদ্র বিমোচন আর্থসামাজিক অগ্রগতির একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক। দেশে শিশু মৃত্যুূর হার কমেছে হাজারে ৩৮ জন, মাতৃমৃত্যুর হার দ্রুত কমছে, রপ্তানি বেড়েছে অনেক গুণ, কর্মক্ষেত্রে নারীদের অংশ গ্রহণ  বেড়েছে। ২০০৮ সাল থেকে বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা চলমান থাকার পরও গড়ে জিডিপি ৬ দশমিক ৫ ভাগের বেশি চলমান, যা পৃথিবীর অনেক দেশই পারেনি। চিন, ভারত, ব্রাজিল এবং দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার কয়েকটি দেশ বাদ দিলে অন্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির হার গত দেড় দশক ধরে বেশি। দারিদ্র বিমোচন আজ সারা পৃথিবীর জন্য একটি বড় ইস্যু। ২০১৫ সালের এমডিজির লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছাতে প্রতি বছর দারিদ্রের হার ১ দশমিক ২ শতাংশ করে আনার বিপরীতে ১ দশমিক ৭৪ শতাংশ হারে হ্রাস পাচ্ছে। এমডিজির লক্ষ্য অনুসারে দারিদ্র ব্যবধান ৮-এর বিপরীতে ৬ দশমিক ৫ অর্জন করেছে।
দারিদ্র বিমোচন তথা দারিদ্রসীমার নিচে বসবাসকারী জনগণের সংখ্যা ২০১২ সালেই ৫৬ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে ২৯ শতাংশে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখে ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য। বাংলাদেশের দারিদ্র হ্রাস পাওয়া মানব উন্নয়ন সূচকেও লক্ষনীয় অগ্রগতি হয়েছে। বৈশ্বিক মানব উন্নয়ন সূচকে বাংলাদেশ এক ধাপ এগিয়েছে। সূচক অনুযায়ী বিশ্বের ১৮৭টি দেশের মধ্যে মানব উন্নয়নে বাংলাদেশের অবস্থান ১৪২ তম। এই প্রতিবেদন অনুযায়ী তালিকভুক্ত ১০৬টি দেশের মধ্যে জাতিসংঘের বহুমাত্রিক দারিদ্র সূচকে বাংলাদেশের মান ২০১১ সালে শূন্য দশমিক ২৩৭-এ উন্নীত হয়েছে, যা ২০০৭-এ ছিল শূন্য দশমিক ২৯২। ১৯৭৩ সাল থেকে ২০১৫ পর্যন্ত ৬টি পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা এবং একটি দ্বি-বার্ষিক পরিকল্পনার মাধ্যমে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার অন্যতম লক্ষ ছিল দারিদ্র বিমোচন।
গত এক দশকে দারিদ্র বিমোচনে ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জন করেছে বাংলাদেশ। ভারত, পাকিস্তান ও ভূটানের চেয়েও বাংলাদেশের অর্জন অনেক ভালো। এ সাফল্যের ভূয়সী প্রশংসা করে বিশ্বব্যাংক বলেছে, বাংলাদেশে ‘অতিদরিদ্র’ মানুষের সংখ্যা মোট জনগণের ১২ দশমিক ৯ শতাংশের নেমে এসেছে। যা ৫ বছর আগে ছিল সাড়ে ১৮ শতাংশ। চলতি অর্থ বছরের জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৮ শতাংশ হতে পারে বলেও পূর্বাভাস দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০০ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত অতিদরিদ্র কমার ক্ষেত্রে যে অগ্রগতি হয়েছে, তার তুলনায় ২০০৫ থেকে ২০১০ সময়ে সে গতি শ্লথ হয়ে গেছে। তাই অতি দরিদ্র কমাতে হলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আরও বেগবান করতে হবে বলে মনে করে বিশ্বব্যাংক। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১০-১১ সময়ে বাংলাদেশে অতিদারিদ্রের হার ছিল ১৭ দশমিক ৪ শতাংশ। ২০১১-১২ অর্থ বছরে ১৬ দশমিক ৪ শতাংশ। ২০১২-১৩ অর্থ বছরে ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ। ২০১৩-১৪ অর্থ বছরে ১৪ দশমিক ৭ শতাংশ। ২০১৪-১৫ অর্থ বছরে ১৩ দশমিক ৮ শতাংশ। গত বছরে তা নেমে এসেছে ১২ দশমিক ৯ ভাগে।
বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশেকে এক সময় অনন্যোপায় ক্লায়েন্ট মনে করতো। উন্নয়ন ব্যয়তো পুরোটাই ছিল বৈদেশিক সাহায্য বা ঋণ নির্ভর। সেই বাংলাদেশ আজ বিশ্ব ব্যাংককে বাদ দিয়ে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম সেতু নির্মাণ করতে চলেছে সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে। নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন, বিশ্বব্যাংক প্রধান অর্থনীতিবিদ, ড. কৌসিক বসু থেকে শুরু করে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, ফোবর্স ম্যাগাজিন সকলকেই বাংলাদেশের জয়যাত্রার কথা অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বলেছেন।
বাংলাদেশ যাত্রা শুরু করেছিলো শূণ্য হাতে, ঋণের বোঝা নিয়ে। সত্তরের দশকে বাংলাদেশ পুরোটাই ছিল সাহায্য নির্ভর এক দেশ। আশির দশকে এই সাহায্য নির্ভরতা অব্যাহত থাকে। আশির দশকের শুরুতে ৮১-৮২ অর্থ বছরে বাংলাদেশের নেওয়া বৈদেশিক ঋণ ছিল মোট জিডিপির প্রায় সাড়ে ৬ শতাংশের মতো। রেমিটেন্স ছিল দুই শতাংশ। আশির দশকের শেষে ৮৯-৯০ তেও এই অবস্থা কমবেশি চলতে থাকে। স্বাধীনতার চার দশক পর সাহায্য নির্ভর দেশ ধীরে ধীরে দেশজ উৎপাদন ও বাণিজ্য নির্ভর হয়ে ওঠা শুরু করে। এখন এদেশের বৈদেশিক সাহায্য জিডিপির ২ শতাংশেরও কম রেমিটেন্স ও বৈদেশিক আয় যথাক্রমে ১০ ও ২০ শতাংশ, যা একটি দেশের (সুস্থ ও স্বাস্থ্যবান) নির্ভরযোগ্য অর্থনীতির বহিঃপ্রকাশ। আর এসব স্বপ্নীল অর্জন সম্ভব হয়েছে এদেশের পরিশ্রমী কৃষক, শ্রমিক ও প্রবাসীদের কল্যাণে।
স্বাধীনতার পরবর্তী আড়াই দশকে বাংলাদেশের গড় জিডিপির বৃদ্ধি সাড়ে ৪, পরের দশবছরে কমবেশি গড়ে ৫ এবং পরবর্তী দশকে গড় প্রবৃদ্ধি ৬ থেকে সাড়ে ৬। ২০০৭-১০ বিশ্বব্যাপী চলমান বিশ্বমন্দায় মাত্র ৪টি দেশের অর্থনীতি অবিচল দাঁড়িয়ে ছিল। বাংলাদেশ যার একটি। তার অন্যতম ভীত ছিলো রেমিটেন্স। আশির দশকে বাংলাদেশে দারিদ্রসীমার নিচে বসবাসরত লোক ছিল ৬১.৯ শতাংশ। সর্বশেষ পরিচালিত ২০১০ সালের জরিপে এটি কমিয়ে দাঁড়িয়েছে ৩১.৫ শতাংশ। অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান অনুসারে বাংলাদেশে এই মুহূর্তে দারিদ্রসীমার নিচে বসবাস করা মানুষের সংখ্যা ২০ শতাংশের কম। চলমান দশকে নি¤œ আয় মানুষের আয়, শ্রমিকদের মজুরি বেড়েছে কয়েকগুণ। আর এজন্য ধনী-দরিদ্রের আয় বৈষম্য কমেছে প্রশ্নাতীতভাবেই।
সরকারি-বেসরকারি নানা উদ্যোগের ফলে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরে অতিদরিদ্র জনগোষ্ঠির হার ২৩ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশে নেমে এসেছে। (বেসরকারি সংস্থা দুস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্রের (ডিএসকে) ‘সিড়ি’ প্রকল্পের আওতায় একটি গৃহস্থালি জরিপে উঠে এসেছে এই চিত্র। ২৮ আগস্ট ২০১৬ তারিখে জরিপ প্রতিবেদন উপস্থাপন করে অর্থনীতিবিদ বিনায়ক সেন বলেন, শহরে দারিদ্রের হার ১৯৯১ সালে ৪৩ শতাংশ ছিল। ২০১৬ সালে তা ১৪ শতাংশে পৌঁছেছে। আর এখন অতি দরিদ্র রয়েছে মাত্র ৫ শতাংশ, যা ১৯৯১ সালে ছিল ২৩ শতাংশ। জাতিসংঘের হিসাবে এই, অঙ্কটি তিন শতাংশে নেমে এলে শহরে অতি দারিদ্র শূন্যের কোঠার বলে ধরে নেয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, বলা যায় এই হার শূন্যের কোঠার কাছাকাছি। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২১ সালের মধ্যে এই অতি দারিদ্রের অবসান ঘটানো সম্ভব। সিঁড়ি প্রকল্পের সমাপ্তি উপলক্ষে জরিপ প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। ২০০৯ সালে শুরু হওয়া এ প্রকল্পের মেয়াদ আগস্ট/১৬ মাসে শেষ হয়।
(চলবে)