এত দেরি, তবু আক্ষেপ নেই সাকিবের

আপডেট: আগস্ট ২৫, ২০১৭, ১:৩৬ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


২০০৭ সালে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে টেস্ট আঙিনায় পা রাখা সাকিব আল হাসানের। মাঝে পেরিয়ে গেছে ১০টি বছর। এই সময়ে খেলতে পেরেছেন মাত্র ৪৯ টেস্ট। অথচ তার বছর চারেক পর টেস্ট ক্যারিয়ার শুরু করা বিরাট কোহলি এরই মধ্যে খেলে ফেলেছেন ৬০ টেস্ট! স্টিভেন স্মিথও এগিয়ে অনেকটা, ২০১০ সালে ক্রিকেটের লম্বা ফরম্যাট শুরু করে অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক খেলেছেন ৫৪ টেস্ট। তাদের চেয়ে অনেক আগে পাঁচ দিনের ক্রিকেট শুরু করে কেবল ম্যাচের হাফসেঞ্চুরির অপেক্ষায় সাকিব। মাইলফলকটা স্পর্শ করতে খুব বেশি সময় লেগে গেলেও অবশ্য তাতে আক্ষেপ নেই বিশ্বের সেরা এই অলরাউন্ডারের।
আগামী রোববার থেকে শুরু হচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্ট। মিরপুরের ওই ম্যাচ দিয়েই টেস্টের হাফসেঞ্চুরি পূরণ করবেন সাকিব। এর আগে বাংলাদেশের হয়ে ৫০ বা তার বেশি টেস্ট খেলেছেন তিনজন। ৬১ টেস্ট খেলে এগিয়ে মোহাম্মদ আশরাফুল। বর্তমান অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নামবেন নিজের ৫৫ নম্বর টেস্টে। আর সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশারের ক্যারিয়ার থেমেছে ঠিক ৫০ টেস্ট খেলেই।
অনেকটা সময় পেরিয়ে ৫০ টেস্টের মাইলফলক ছুঁতে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা সাকিবের তেমন কোনও অভিযোগ নেই। বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন তেমনটাই, ‘জীবনে খুব বেশি আফসোস নেই। ওদিক থেকে চিন্তা করলে যা হয়েছে, তাতেই আলহামদুলিল্লাহ। বেশি খেলতে পারলে ভালো লাগতো। তবে খেলতে যেহেতু পারিনি, তাই আফসোসও নেই। যে ম্যাচগুলো খেলেছি, তাতে কতটা পারফরম করেছি, সেটাই আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। সামনের দুই ম্যাচে চেষ্টা করব ভালো কিছু করতে। এ বছর আমাদের দলের অনেকেই খুব ভালো করেছে। আশা করি এই সিরিজেও ভালো কিছু হবে।’
গত ১০ বছরে বাংলাদেশর ক্রিকেট অনেক পরিণত হয়েছে। সাকিবও হয়েছেন অভিজ্ঞ। ভারতের বিপক্ষে প্রথমবার মাঠে নামা সাকিবের সঙ্গে এখনকার সাকিবের পার্থক্য কতটা- এমন প্রশ্নে এই অলরাউন্ডারের জবাব, ‘প্রথম টেস্ট খেলার সময় চিন্তা ছিল না কেমন খেলব কিংবা কতদিন খেলব। এখন পরিবেশ অন্য রকম, দায়িত্ব বেড়েছে। সত্যি কথা বলতে সব কিছুই আলাদা।’
১০ বছর ধরে টেস্ট ক্যারিয়ারের পথ পাড়ি দিলেও এবারই প্রথম অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পাঁচ দিনের ম্যাচে নামতে যাচ্ছেন সাকিব। তাই তিনি ভীষণ রোমাঞ্চিত, ‘এটা একটা রোমাঞ্চকর ব্যাপার। ওদের সঙ্গে ওয়ানডে বা টি-টোয়েন্টি খেলেছি। তবে টেস্ট এই প্রথম। অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ড টেস্টকে আলাদাভাবে মূল্যায়ন করে, যেটা অন্যরা করে না। এ রকম একটা দেশের বিপক্ষে টেস্ট খেলাটা সত্যি রোমাঞ্চকর ব্যাপার।’
সব মিলিয়ে ৪৯ টেস্টে সাকিবের রান ৩৪৭৯। টেস্টে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ইনিংসের মালিকও তিনিই। গত নিউজিল্যান্ড সফরে ওয়েলিংটন টেস্টে ২১৭ রানের ইনিংস খেলে তামিমের ২০৬ রান টপকে গিয়েছিলেন তিনি। সাকিবের খেলা ৪৯ টেস্টের ৩২টিই দেশের মাটিতে। যাতে ৪১.৩৫ গড়ে তার রান ২১৯২। আছে দুই সেঞ্চুরি ও ১৪টি ফিফটি। আর দেশের বাইরে ১৭ টেস্টে ৪০.২১ গড়ে তার রান ১২৮৭। যেখানে তিন সেঞ্চুরি পাশাপাশি করেছেন ৭ হাফসেঞ্চুরি। ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বোলিংয়েও সমান দক্ষ বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার। ৪৯ টেস্টে সাকিবের উইকেট ১৭৬টি। যা তাকে বসিয়েছে টেস্টে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারির তালিকায় শীর্ষে।-বাংলা ট্রিবিউন