এবার ইদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনায় ২৭৩ জন নিহত সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সরকারের অঙ্গীকারের বাস্তবায়ন চাই

আপডেট: আগস্ট ১, ২০২১, ১২:১৯ পূর্বাহ্ণ

সব মহামারিই দিন দিন ভয়ঙ্কর আকার ধারণ করেছে। করোনা মহামারিতে মৃত্যু ও সংক্রমণে প্রতিদিন অনাকাক্সিক্ষত রেকর্ড হচ্ছে। রেকর্ড ভাঙা-গড়ার প্রশ্নে আরেক মহামারি সড়ক দুর্ঘটানাও পিছিয়ে নেই।
বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে কঠোর লকডাউনের কারনে মাত্র ৮দিন গণপরিবহন চলাচল করলেও বাকি ৭দিন কঠোর বিধি-নিষেধের কারনে সকল মোটরযান বন্ধ থাকলেও বিদায়ী পবিত্র ইদুল আজহায় যাতায়াতে দেশের সড়ক-মহাসড়কে ২৪০টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৭৩ জন নিহত ৪৪৭ জন আহত হয়েছে। সড়ক, রেল ও নৌ-পথে ২৬২টি দুর্ঘটনায় ২৯৫ জন নিহত ও ৪৮৮ জন আহত হয়েছে। শুক্রবার (৩০ জুলাই) বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির সমিতির পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
সংগঠিত দুর্ঘটনা বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোট যানবাহনের ২৮.৪৮ শতাংশ মোটরসাইকেল, ২৮.৭৮ শতাংশ ট্রাক-পিকআপ-কাভার্ডভ্যান-লরি, ৭.৪১ শতাংশ কার-মাইক্রো-জিপ, ৮.৬০ শতাংশ নছিমন-করিমন-ট্রাক্টর-লেগুনা-মাহিন্দ্রা, ১০.৩৮ শতাংশ অটোরিক্সা, ৭.৭১ শতাংশ ব্যাটারী রিক্সা-ইজিবাইক-ভ্যান-সাইকেল, ও ৮.৬০ শতাংশ বাস এসব দুর্ঘটনায় জড়িত ছিল।
সংগঠিত দুর্ঘটনার ২৫.৮৩ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষ, ৪৪.২৫ শতাংশ পথচারীকে গাড়ী চাপা দেয়ার ঘটনা, ১৮.৩৩ শতাংশ নিয়ন্ত্রন হারিয়ে খাদে পড়ার ঘটনায়, ৭.৯১ শতাংশ অন্যান্য অজ্ঞাত কারনে ও ০.৮৩ শতাংশ চাকায় ওড়না পেঁছিয়ে এবং ০.৮৩ শতাংশ ট্রেন-যানবাহন সংঘর্ষের ঘটনা সংগঠিত হয়েছে।
দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মোট সংঘটিত দুর্ঘটনার ৩৩.৩৩ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ৪৩.৩৩ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে, ১৮.৩৩ শতাংশ ফিডার রোডে এবং ০.৮৩ শতাংশ রেল ক্রসিং এ সংঘটিত হয়। এছাড়াও সারাদেশে সংঘটিত মোট দুর্ঘটনার ৩.৩৩ শতাংশ ঢাকা মহানগরীতে, ০.৮৩ শতাংশ চট্টগ্রাম মহানগরীতে সংঘটিত হয়।
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, বিগত ইদগুলোতে সরকারের নানা মহলের তৎপরতা থাকায় দুর্ঘটনার লাঘাম কিছুটা টেনে ধরা সক্ষম হলেও কঠোর লকডাউনের কারণে মানুষের যাতায়াত সীমিত থাকার পরেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারী না থাকায় এবারের ইদযাত্রায় সড়কে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি তুলনামূলকভাবে বেড়েছে। সরকার সড়কের অবকাঠামোর উন্নয়নে যতটা মনযোগী সড়ক নিরাপত্তায় ততটা উদাসীন। বিগত একযুগে ধারাবাহিকভাবে সড়ক নিরাপত্তায় নানা প্রতিশ্রুতি, নানা চমকপ্রদ বক্তব্য, নানা আশ^াস, নানা উদ্যোগ নেয়া হলেও কোনকিছুই যেন বাস্তবায়নে আলোর মুখ দেখে না। এরই মধ্যে বাস্তবায়নের আগেই সড়ক আইন আরো দুর্বল করার ষড়যন্ত্র চলছে। ফলে সড়কে মৃত্যুর মিছিল থামানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
প্রশ্ন হচ্ছে, সড়ক দুর্ঘটনার এ মহামারী দিন দিন কি বাড়তেই থাকবে; না কোন এক সময় নিয়ন্ত্রণে আসবে। বৈশ্বিক মহামারী করোনার এক একটি ঢেউ পূর্বের তুলনায় ভয়ঙ্কর আকার ধারণ করছে। তারপরেও এটি এক সময় নিয়ন্ত্রণ করা যাবে বলে বিজ্ঞানীরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। ইতোমধ্যে বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান টিকা আবিষ্কার করেছে। টিকা দেয়া শুরু হয়েছে, এর সুফলও মিলছে। আমাদের দেশেও টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে, এর সুফলও হয়তো একসময় পাওয়া যাবে, করোনার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা করা যায়। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনার মহামারী কবে নিয়ন্ত্রণে আসবে তা কারও জানা নেই। এর বড় কারণ হচ্ছে যা যা করলে সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভর তার কোনটাই ঠিকমতো করা হয় না। সড়ক দুর্ঘটনা কেন ঘটে, নিয়ন্ত্রণ করতে কী কী করণীয়, তার সবই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জানা আছে।
রোগ নিয়ন্ত্রণে টিকা আবিষ্কারই যথেষ্ট না, যথা সময়ে, যথা নিয়মে তার প্রয়োগ করা জরুরি। সড়ক দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছে, এর কোন প্রতিষেধক বা টিকা যথাযথভাবে প্রয়োগ হয় না। শুধু বিচ্ছিন্নভাবে লোক দেখানো কিছু কাজ হয়। এ কারণে সড়ক দুর্ঘটনা বন্ধ হচ্ছে না।
সড়ক দুর্ঘটনায় মানুষ হতাহতের ঘটনা কাম্য নয়। সরকার বিভিন্ন সময় সড়ক দুর্ঘটনা কমিয়ে আনার অঙ্গীকার করেছে। আমরা সরকারের অঙ্গীকারের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন দেখতে চাই।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ