এবার গোমস্তাপুরে ১৫ হাজার ৭২০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা

আপডেট: জানুয়ারি ১৮, ২০২২, ১:১২ পূর্বাহ্ণ


গোমস্তাপুর প্রতিনিধি:


কুয়াশা মাখা ভোরে বোরো আবাদ চাষাবাদে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার কৃষকেরা। সম্প্রতি কয়েক বছর ধানের দাম অব্যাহত ভাল থাকায় এ মৌসুমে কৃষকের মাঝে উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূল থাকলে বোরো ধান বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে উপজেলা কৃষি বিভাগ জানিয়েছেন।
উপজেলা কৃষি বিভাগ জানায়, চলতি বছরে উপজেলায় ১৫ হাজার ৭২০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭১ হাজার ৯৭০ মেট্রিকটন। এছাড়া বোরো বীজতলা তৈরি করা হয়েছে ১০৫০ হেক্টর জমিতে। তার মধ্যে উফসী জাতের বীজতলা ১০২০ হেক্টর জমিতে। বীজতলার মধ্যে জিরা ৩৫০ হেক্টর, ব্রিধান-৮১ হচ্ছে ২৩০ হেক্টর, ব্রিধান- ৩৬ হচ্ছে ১৮০ হেক্টর, ব্রিধান-২৯ হচ্ছে ৭০ হেক্টর, ব্রিধান ৮৯ হচ্ছে ৬০ হেক্টর, ব্রিধান-৮৪ হচ্ছে ৫০ হেক্টর,ব্রিধান-২৮ হচ্ছে ৩০ হেক্টর, ব্রিধান- ৫৮ হচ্ছে ২০ হেক্টর, ব্রিধান-৮৬ হচ্ছে ১৫ হেক্টর, ব্রিধান-৮৮ হচ্ছে ১৫ হেক্টর, ব্রিধান-৯২ হচ্ছে ৯.৯৮৪ হেক্টর, বঙ্গবন্ধু ১০০ হচ্ছে ০.০১৭ হেক্টর জমিতে। এছাড়া হাইব্রিড জাতের বীজতলা রয়েছে ২০ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে এসএলএইটএইচ হচ্ছে ৫ হেক্টর, নবীন ৩.৫ হেক্টর, রুপালী-৭ হচ্ছে ৪.৫ হেক্টর, এসিআই-১ হচ্ছে ৩.৫ হেক্টর,টিয়া হচ্ছে ২.৫ হেক্টর ও তেজগোল্ড ১ হেক্টর জমিতে বপন করা রয়েছে ।

গোমস্তাপুর উপজেলার মাঠগুলো ঘুরে দেখা গেছে, বীজতলা পরিচর্যা ও মাঠের চাষাবাদ প্রস্তুত করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠে ধানের কচি চারার সবুজ গালিচা, কোথাও কোথাও গভীর নলকুপ থেকে চলছে পানিসেচ, ট্রাক্টর-পাওয়ার টিলার দিয়ে চলছে জমি চাষের কাজ, গরু-মহিষ দিয়ে মাঠ সমান করার কাজ। আবার কেউ কেউ জমিতে ধান রোপণের জন্য বীজতলা থেকে তুলছেন ধানের চারা। অন্যদিকে কুয়াশামাখা দিনে কৃষকের শরীরে রয়েছে হালকা শীতের পোষাক, মাথায় গরম কাপর। কাজের মধ্যে রয়েছে ফুরফুরে মেজাজ। কেউ বা জমিতে হাল চাষ দিচ্ছেন; কেউ জমির আইলে কোদাল মাড়ছে। আবার কেউ জৈব বা রাসায়নিক সার দিতে ব্যস্ত, কেউ সেচের জন্য ড্রেন নির্মাণ কিংবা পাম্পের বা শ্যালো মেশিনের জন্য ঘর তৈরি করছেন। আবার অনেকে পানি সেচ দিয়ে ভিজিয়ে রাখছেন।

রহনপুর পৌর এলাকার কৃষক বদিউজ্জামান জানান, তিনি রহনপুর পৌর এলাকার কাশিমপুর মাঠে ৩ বিঘা জমিতে বোরো ধান রোপন করেছেন। তবে ধান রোপনের শ্রমিক অতিরিক্ত মজুরী নিচ্ছেন। গতবছর জিরা ধান চাষবাদ করে লাভবান হয়েছি। এবারও সে আশায় আবাদ শেষ করলাম।

গোমস্তাপুর ইউনিয়নের কৃষক শাহিন আলম জানান, গত আমন মৌসুমে ব্রি-জাতের ব্রি -৮১, জিরাশাইল ধানের ফলন ও বাজারমূল্য ভালো পাওয়ায় চলতি মৌসুমে আবাদ করতে আগ্রহী হচ্ছি। তার জমিতে এখন সরিষা আছে। সরিষা কেটে ধান রোপন করবেন বলে তিনি জানান।

ধান রোপনের শ্রমিক আনিসুর রহমান বলেন, গত কয়েক বছর করোনা মহামারীতে বিপর্যস্ত হয়ে আছি, বাইরে কাজে যেতে না পাড়া এবং এলাকায় তেমন কোন কাজ না থাকায় পরিবারের মধ্যে অভাব অনটনের মধ্যে পড়ে গেছি, বোরো মৌসুমে সকালে কুয়াশা ও ঠান্ডার পরিমাণ বেশি হলেও বোরো ধান লাগাতে একটু কষ্ট হচ্ছে। গোমস্তাপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সীমা কর্মকার বলেন, বোরো মৌসুমে এবার বীজ তলায় তেমন ক্ষতি লক্ষ্য করা যায় নি। বীজতলার চারার ক্ষতি থেকে রক্ষার জন্য বীজতলার উপর সকাল সন্ধ্যায় পলিথিন দিয়ে রাখা,দড়ি দিয়ে শিশির ভাঙা,বীজতলা থেকে বীজ রোপনের পূর্বে বীজতলায় পানি রাখা,রোপনের সময় লাইন, লোগো ও পার্চিং করে ধান রোপন করার জন্য বিভিন্ন দিকনির্দেশনা মূলক পরামর্শ দেয়া হয়েছে কৃষকদের। এ ছাড়া বিভিন্ন ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের সাথে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন এবং মাঠ দিবস পালন করা হয়েছে।

এদিকে অধিকাংশ মাঠের জমিতে ধানের চারা রোপণের কাজ দ্রুত গতি শেষ করছেন কৃষকেরা গতকাল সোমবার পর্যন্ত ২ হাজার হেক্টরের অধিক জমিতে বীজ বপন করা হয়েছে। তিনি বলেন, আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে চলিত মৌসুমে বোর ধান লক্ষ্য মাত্রা চেয়ে বেশি উৎপাদন হবে বলে তিনি ধারণা করছেন ।