বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকী

এবার চালের দাম বাড়ছে সতর্ক পদক্ষেপ এখনই শুরু হোক

আপডেট: November 18, 2019, 1:02 am

পেঁয়াজ নিয়ে যে তেলেসমাতি হচ্ছে তা ধারণারও অতীত। দেশের মানুষ বিস্মিতও বটে। কারোরই অভিজ্ঞতার মধ্যে নেই যে, পেঁয়াজের ঝাঁঝ এতো ব্যাপকতর হতে পারে। ২শো টাকার উপরে পেঁয়াজের কেজি- এমনটি আর কখনো হয় নি। পেঁয়াজ নেহাতই মশলাজাতীয় পণ্য। এটা না খেলে স্বাস্থ্যগত কিংবা পুষ্টির কোনো সমস্যার সৃষ্টি হবে- ব্যাপারটি মোটেও তা নয়। পেঁয়াজের না খাওয়ার সাথে দারিদ্র বা ক্ষুধা মুক্তিরও কোনো কারণ নেই। কিন্তু পেঁয়াজের মূল্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির পথ ধরে হঠাৎ করেই চালের দাম বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। নতুন ধানের ঘ্রাণ যখন গ্রাম জনপদ মাতিয়ে বেড়াচ্ছে তখনই চালের মূল্যবৃদ্ধি উদ্বেগের কারণ বই কী! পেঁয়াজ না খেলেও চলে কিন্তু বাঙালির ভাত না হলে চলে না। চালের দাম বাড়লে সমাজের দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারে চাপ পড়ে। এই চাপ বিশেষ করে দরিদ্র শ্রেণির মানুষের জন্য সামলানো সত্যিই কঠিন ব্যাপার। চালের দাম বৃদ্ধি বিলম্বিত হলে দারিদ্র বিমোচন কর্মসূচির অধঃগতি হওয়ার আশংকাও থাকে। বিরোধীদল পেঁয়াজ নিয়ে রাজনৈতিক ইস্যু বানাতে ব্যর্থ হলেও চালের মূল্য বৃদ্ধি সহনীয় মাত্রা অতিক্রম করলে সেটি রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে দাঁড়াতে সময় লাগবে না। অতএব এই পরিস্থিতি ক্ষমতাসীনদের জন্য মোটেও স্বস্তির হবে না।
দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনের তথ্যমতে, রাজশাহীর বাজারে হঠাৎ করেই চালের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। এটা সারা দেশেরই চিত্র। চালের দাম প্রকারভেদে তিন থেকে পাঁচ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। কিন্তু কেন এই মূল্যবৃদ্ধি? এই প্রশ্নটা খুবই স্বাভাবিক যে, বাজারে ইতোমধ্যেই আমন ধান উঠতে শুরু করেছে। এই সময়ে চালের মূল্যবৃদ্ধিটা অস্বাভাবিকই বটে। এই অস্বাভাবিকতা ভাবতে গিয়ে শঙ্কা জাগাচ্ছে যে, পেঁয়াজের মত সিন্ডিকেশন করে চালের দামও আস্বাভাবিক পর্যায়ে নেয়া হবে কি? এই শঙ্কা শুধু সাধারণ মানুষেরই নয়- খাদ্যমন্ত্রী স্বয়ং এ ব্যাপারে সংশয় প্রকাশ করেছেন। তিনি রোববার (১৭ নভেম্বর) সকালে রাজধানীতে খাদ্য ভবনে চালকল মালিকদের সঙ্গে এক বৈঠকের শুরুতে তাদের সতর্কতা দেন।
সংবাদ মাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী চালকল মালিকদের উদ্দেশ্যে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ‘পেঁয়াজ নিয়ে অযথা একটা কেলেঙ্কারি হয়েছে। চাল নিয়ে পেঁয়াজের মতো এরকম যেন না হয়, সেজন্য আপনাদের ডেকেছি।’
তবে চালের দাম বৃদ্ধির ব্যাপারে সরকার যে সতর্ক তা চালকল মালিকদের সাথে খাদ্যমন্ত্রীর বৈঠক তারই সাক্ষ্য দেয়। কিন্তু শুধু এই বৈঠক করেই যে, চালের দাম নিয়ন্ত্রণ করা যাবে সেটা ভাবার কোনো কারণ নেই। কেননা পেঁয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে সরকারের পদক্ষেপগুলি খুব কার্যকর হয়েছে সেটা বলা যাবে না। বরং দেশের মানুষের ধারণা পেঁয়াজ নিয়ে ব্যবসায়ীরাই সামনে থেকে খেলেছে। সেখানে পেঁয়াজের ক্রেতারাই অসহায় হয়ে ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের তেলেসমাতি পর্ব লক্ষ্য করেছে। চালের দাম বৃদ্ধির ব্যাপারে শুধু হুশিয়ারিতে কাজ হবে বলে মনে হয় না। বরং ব্যবসায়ীরা সিন্ডকেশন করে দাম বাড়াবার মতলব চাউর হলে বাজার নিয়ন্ত্রণে দ্রুততার সাথে বাস্তবিক পদক্ষেপ নেয়ার সক্ষমতা প্রস্তুত করতে হবে। যাতে করে ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে দেশের মানুষকে জিম্মি করতে না পারে। পদক্ষেপটা এখনই শুরু হোক।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ