এবার পাবনায় স্কুলভবনে রডের বদলে বাঁশ

আপডেট: জানুয়ারি ১২, ২০১৭, ১১:৪৫ অপরাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক
চুয়াডাঙ্গা, রাজশাহী ও মৌলভীবাজারের পর এবার পাবনার একটি স্কুলে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার করা হয়েছে।
সম্প্রতি ভূমিকম্পে স্কুলের প্লাস্টার খসে বাঁশের অংশ বিশেষ বের হলে বিষয়টি সবার নজরে আসে। শিক্ষকরা বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানিয়েছেন। এর আগে চুয়াডাঙ্গা ও রাজশাহীতে ভবন নির্মাণে এবং মৌলভীবাজারে রেললাইনে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের খবর উঠে আসে গণমাধ্যমে।
পাবনা শহর থেকে ৪৫ কিলোমিটার দূরে সুজানগর উপজেলার বিন্যাডাঙ্গি গ্রামে ১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় বিন্যাডাঙ্গি রেজি. বেসরকারি বিদ্যালয়। সরকারিকরণ হয় ২০১৩ সালে। বর্তমানে ছাত্র-ছাত্রী সংখ্যা ১৫০ জন। প্রথমে টিনের ঘরে পাঠদান হলেও ১৯৯৪ সালে স্কুলের একটি ভবন নির্মিত হয়। ভবনটি নির্মাণে ঠিকাদার ছিলেন সুজানগরের সুলতান মাহমুদ ও আব্দুর রউফ নামে দুই ব্যক্তি। ভবন নির্মাণের সময় রডের পরিবর্তে বাঁশ ও কাঠ ব্যবহার করেন তারা। সম্প্রতি ভূমিকম্পে স্কুল ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দেয়। পরে প্লাস্টার খসে যাওয়ায় বেরিয়ে আসে বাঁশ ও কাঠের অংশ বিশেষ। এর পর বিষয়টি সবার নজরে আসে।
শিক্ষকরা জানান, ভবন নির্মাণে বাঁশ-কাঠ ব্যবহার করা দুঃখজনক। এর ফলে পুরো ভবনই এখন অত্যন্ত ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। আতঙ্কের মধ্যে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করাতে হচ্ছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ জানান, সম্প্রতি ভূমিকম্পে বিদ্যালয় ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দেয়। পরে সেখানে দেখা যাচ্ছে বাঁশের চটা, কঞ্চি, কাঠের অংশ। বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা অফিসসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানানো হয়েছে।
স্থানীয় অভিভাবক জিয়াউর রহমান, নুরুল আমিন, আকরাম হোসেন বলেন, ‘ভবন নির্মাণের সময় আমরা ঠিকাদারকে বলেছিলাম কাজটা ভালমতো করতে। কিন্তু ঠিকাদার আমাদের কাজ দেখতে দেয়নি। এখন দেখতে পারছি ভবনে রডের বদলে বাঁশ-কাঠ ব্যবহার করা হয়েছে। আমরা তদন্তের মাধ্যমে ওই সব ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানাচ্ছি।’
এ বিষয়ে সুজানগর উপজেলা প্রকৌশলী জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘দীর্ঘদিন আগের হওয়ায় ভবন নির্মাণের ফাইল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। আমি নতুন এসেছি, আমি এ সম্পর্কে কিছু জানিনা। স্টোর রুমে ফাইল খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হচ্ছে।’
ভবনে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সৈয়দা নার্গিস আক্তার। তিনি বলেন, ‘বিষয়টি আমার সহকারী শিক্ষা অফিসার জানিয়েছেন। স্কুলের প্রধান শিক্ষকের কাছ থেকে প্রতিবেদন চেয়েছি। প্রতিবেদন পেলে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’- রাইজিংবিডি