এবার পেঁয়াজে অস্বস্তি সরকারের সতর্ক পদক্ষেপ এখনই

আপডেট: মে ১৭, ২০২২, ১২:০০ পূর্বাহ্ণ

হঠাৎ বেড়ে গেছে পেঁয়াজের দাম। যদিও এখনো নাগালের মধ্যে। তবে হঠাৎ করেই দাম বাড়ার প্রবণতা খারাপ কিছুরই ইঙ্গিত দেয়। বাংলাদেশ ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধের সিদ্ধান্ত জানানোর পরেই হঠাৎ করেই পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। দেশের খুচরা ও পাইকারি উভয় বাজারে দেশি ও ভারতীয় পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। সংবাদ মাধ্যমের তথ্য জানাচ্ছে, এক সপ্তাহের ব্যবধানে দ্বিগুণ বেড়েছে পেঁয়াজের দাম। ইদের আগে ২৫ টাকা কেজি ছিল পেঁয়াজ। ক্রেতাদের এখন সেই পেঁয়াজ কিনতে হচ্ছে ৫০ টাকা কেজি দরে।
টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহে দেশি পেঁয়াজের দাম বেড়েছে কেজিতে ৩৯ শতাংশ। পেঁয়াজ ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভারত থেকে পেঁয়াজ আসা বন্ধ রয়েছে। এ কারণে দেশের খুচরা ও পাইকারি উভয় বাজারে দেশি ও ভারতীয় পেঁয়াজের দাম বেড়েছে।
রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে রসুনের দামও বেড়েছে। শুক্রবার দেশি রসুনের কেজি বিক্রি হয়েছে ৯০ থেকে ১০০ টাকা, যা একদিন আগেই ছিল ৪০ থেকে ৫০ টাকা। কয়েক দিন আগে ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া আমদানি করা রসুনের দাম বেড়ে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা হয়েছে।
টিসিবির তথ্যও বলছে, গত সপ্তাহের ৫০ টাকা কেজি রসুন এই সপ্তাহে বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা কেজি দরে। সরকারি হিসাবেই এক সপ্তাহের ব্যবধানে রসুনের কেজিতে বেড়েছে ৩০ টাকা। অর্থাৎ গত সপ্তাহে রসুনের কেজিতে দাম বেড়েছে ৩৯ শতাংশ।
সামনে অজুহাতের সুযোগ তৈরি হলেই ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়ে দেয়। ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ ঘোষণার পরের দিনই মূল্য বেড়ে যাবে এটা কোনো যুক্তিতেই আসে না। অথচ ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধের অজুহাত দেখিয়ে দাম বাড়ান হয়েছে।
সয়াবিন তেলের ক্ষেত্রে দেশবাসী তেলেসমাতি কারবার প্রত্যক্ষ করলো। কীভাবে সিন্ডিকেশন করে সারা দেশে সয়াবিনের সঙ্কট সৃষ্টি করে ফায়দা লুটার প্রয়াস চালানো হল। তখনও অজুহাত ছিল বাজারে সয়াবিন তেলের সরবরাহ কম, তাই দাম বেড়েছে। কিন্তু সরকার যখন মজুদদারদের বিরুদ্ধে কঠিন অবস্থান নিল তখন ব্যবসায়ীদের কারসাজি দেশবাসীর সামনে আসতে থাকলো। দেশের বিভিন্ন গুদামে লক্ষ লক্ষ লিটার সয়াবিন অবৈধ মজুদ থেকে বেরিয়ে এলো।
পেঁয়াজের ক্ষেত্রেও যে এমন ঘটনা ঘটবে না তা জোর দিয়ে বলা যায় না। কেননা ব্যবসায়ীরা প্রস্তুত হয়েই থাকে- যাতে বাজার অস্থিতিশীল করে অধিক মুনাফা ঘরে তোলা যায়। তাই পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির প্রবণতা হাল্কা ভাবে দেখার কোনো সুযোগ নেই। স্বার্থন্বেষী ব্যবসায়ী গোষ্ঠি যাতে পেঁয়াজের বাজারে নৈরাজ্য সৃষ্টি না করতে পারে তার জন্য সরকারের প্রস্তুতি ও সতর্কতা থাকা বাঞ্ছনীয়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ