এবার বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে তৎপর দালালরা

আপডেট: December 3, 2016, 12:06 am

গোদাগাড়ী প্রতিনিধি



রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে অবৈধভাবে শতাধিক বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়েছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। দুই দালালের সহযোগিতায় নতুন সংযোগের আবেদনের পর অনুমোদনের আগেই এসব গ্রাহকরা বাড়িতে সংযোগ পেয়েছেন। গতকাল শুক্রবার এ সংক্রান্ত খবর গণমাধ্যমে প্রকাশ পাওয়ার পর এবার ওই দালালরা বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে তৎপর হয়ে উঠেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশের পর গতকাল সকালে কামারপাড়া এলাকার বাবু ও উপজেলা সদর শ্রীমন্তপুর এলাকার বিদ্যুৎ অফিসের এক দালাল উপজেলার ঘনশ্যামপুর গ্রামে গিয়ে সংযোগ দেয়া বাড়িগুলোর সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে চান। সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার জন্য এই দুই দালাল চর অনুপনগর এলাকা থেকে জহুরুল ইসলাম নামে এক ইলেকট্রিশিয়ানকেও সঙ্গে নিয়ে যান। তবে বাড়ির মালিকরা সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে দেননি।
উপজেলার বাসুদেবপুর ইউনিয়নের ঘনশ্যামপুর, পাহাড়পুর, নামাজগ্রাম, বামনডাঙ্গা এলাকায় অনুমোদন না মিললেও ২৮টি সংযোগ দেয়া হয়েছে। বসানো হয়েছে ভুয়া মিটারও। এসব মিটারের কোনো তথ্য বিদ্যুৎ অফিসে নেই। অনুমোদনের আগে এসব মিটার বসানো হওয়ায় সেগুলো সঠিক কী না তারও কোনো তথ্য নেই বিদ্যুৎ অফিসের কাছে। শুধু এই দুই দালালের প্ররোচনায় এসব গ্রাহককে সংযোগ দেয়া হয়েছে।
গ্রাহকরা জানান, ওই দুই দালালকে তারা জনপ্রতি ৯ হাজার টাকা করে দিয়েছেন। এরপর দালাল ও বিদ্যুৎ অফিসের কর্মচারিদের যোগসাজসে তাদের বাড়িতে সংযোগ দেয়া হয়। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট দফতরেই হৈচৈ শুরু হলে গত ২০ নভেম্বর পিডিবির কর্মকর্তারা গিয়ে তাদের বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। কিন্তু ওই দিনই বিকেলে ওই দুই দালাল এবং বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মচারীরা গিয়ে পুনরায় বিদ্যুতের সংযোগ দিয়ে যান। এরপর শুক্রবার তারা আবার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে চান। তবে গ্রাহকররা তা করতে দেননি।
পাহাড়পুর নামাজগ্রামের মৃত আনসুর রহমানের ছেলে নজরুল ইসলামও এভাবে আবেদন অনুমোদনের আগেই সংযোগ পেয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে গতকাল শুক্রবার বিকেলে তিনি বলেন, তারা কেউই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে দেননি। তবে দালালরা মোকসেদ বামনডাঙ্গা গ্রামের মৃত সাবেদ আলীর ছেলে আনারুল ইসলাম ও এন্তাজ আলীর ছেলে হাবিবুর রহমানের অবৈধ মিটার বাড়ির দেয়াল থেকে খুলে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে নিয়ে গিয়ে বসিয়েছেন। যদিও এর কারণ সম্পর্কে দালালরা কোনো ব্যাখা দিয়ে যান নি।
বিদ্যুৎ অফিসের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো গ্রাহক নতুন সংযোগের জন্য আবেদন করলে পিডিবির একজন প্রকৌশলী তার বাড়িতে গিয়ে সরেজমিন তদন্ত করবেন, বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে বাড়ির দূরত্ব ৩০ মিটারের কম কী না। ৩০ মিটারের কম হলে তার আবেদন গৃহিত হবে। এরপর তার নামে ব্যাংকে হিসাব খুলে মিটার ইস্যু করা হবে। কিন্তু গোদাগাড়ীতে ওই দুই দালাল প্রভাব খাটিয়ে প্রায় শতাধিক বাড়িতে সংযোগ দিয়েছেন আবেদন অনুমোদনের আগেই।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে গোদাগাড়ী বিদ্যুৎ বিক্রয় ও সরবরাহ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রশিদ বলেন, অনুমোদন হওয়ার আগে সংযোগ দেয়া সম্পূর্ণভাবে অবৈধ। এ বিষয়টি আমার জানা নেই। এর সঙ্গে বিদ্যুৎ অফিসের কেউ জড়িত থাকারও কথা নয়। কেউ জড়িত থাকলে ফাইলপত্র দেখে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
দালালদের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টার বিষয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। সরেজমিন তদন্ত করে দালাল ও গ্রাহকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তবে অভিযোগ পাওয়া গেছে, দালালরা ওই গ্রামে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে যাওয়ার সময় স্থানীয় লোকজন বিষয়টি নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রশিদকে জানান। কিন্তু এখনও পর্যন্ত তিনি অবৈধ গ্রাহক বা দালালদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেননি। ফলে তার ভূমিকা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ