এবার ভাঙন ধরলো বসতবাড়িতে পদ্মা তীরবর্তী সড়কে ধস

আপডেট: নভেম্বর ৫, ২০১৬, ১২:১১ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক



নগরীর সেখেরচক বিহারীবাগান এলাকার পদ্মা তীরবর্তী সড়কের ধসে এবার ভাঙন ধরলো বসতবাড়িতে। ভাঙনে বাড়ির সীমানাপ্রাচীর নদীগর্ভে পড়েছে। বসতবাড়িতে দেখা দিয়েছে অসংখ্য ফাটল। ফাটলে বাড়ির দেওয়ালগুলো ভাঙতে শুরু করেছে।
গত ২৯ অক্টোবর ওই এলাকার পদ্মার পাড়ের সড়কসহ ফুটপাতে ধস নামে। ধসে ২০০ মিটারের মতো সড়ক প্রায় ছয় ফুট দেবে যায়। এলাকাবাসীর ডাকেও সংশ্লিষ্ট দফতর তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা না নেয়ায় এখন ওই এলাকার বসতবাড়িতে ফাটল ধরেছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।
এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন, এক সপ্তা আগে রাস্তায় ফাটল দেখা দেয়ার পর গত ২৯ অক্টোবর সড়কে ধস নামে। এর এক সপ্তা পর বসতবাড়িতে ভাঙন ধরে। এত দীর্ঘ সময় পেয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয় নি। এলাকাবাসী বারবার ডাকলেও কোনো সাড়া দেয় নি। শুধুমাত্র এলাকায় এসে পরিদর্শন করা ছাড়া বিশেষ কিছুই করেন নি।
গতকাল শুক্রবার ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সড়ক দেবে যাওয়ায় পাশের তিনটি বাড়ি ভেঙে পড়েছে। এলাকার অন্য বাড়িগুলোতেও দেখা দিয়েছে ফাটল। ইতোমধ্যে সড়ক ঘেঁষে গড়ে ওঠা ইদরিস, আবুল কালাম ও আলমগীরের বাড়ি ভেঙে পড়েছে। গতকাল দেখা যায়, বাড়িঘর ভেঙে পড়ায় আসবাবপত্র সরিয়ে অন্যত্র নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন বাড়ির বাসিন্দারা।
কথা হয় ইদরিসের ছেলে কাওসারের সঙ্গে। তিনি বাসাবাড়ির মালপত্র একত্রিত করে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাবার জন্য অপেক্ষ করছেন। তিনি বলেন, ভাই, বলার আর কিছু নেই। যা যাবার সব গেছে। বাড়ি ভেঙে পড়েছে। এখন মালপত্র সরিয়ে অন্যত্র নিয়ে যাচ্ছি। টিকাপাড়ায় বাড়ি ভাড়া নিয়েছি। ওখানেই এখন থাকব। কর্তৃপক্ষ তো এসে শুধু পরিদর্শন করা ছাড়া আর কোনো ব্যবস্থা নিলো না। নিলে হয়ত এই অবস্থা দাঁড়াত না।
এই বিষয়ে বক্তব্য নেয়ার জন্য বারবার ফোন দেয়া হলেও পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেসুর রহমান ফোন ধরেন নি।
তবে সড়কে ধস নামার পর পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, বন্যার পানি বা ব্লক সরে যাওয়ার জন্য সড়কের ধস নামে নি। সড়কের নিচে থাকা আর্বজনা পচে গিয়ে ধস নামতে পারে। সিটি করপোরেশন বলেছিল, বন্যার পানি নেমে যাওয়ার কারণেই ধস নেমেছে। কারণ মাটির ওপর রোলার দিয়ে তারপর সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে।
সড়কে ধস নামার পর এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেছিলেন, এক সপ্তা আগে থেকে ফাটল দেখা দেয়। প্রতিদিন ফাটল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ধসও নামে। গতকাল ধস নামার পরিমাণ বেড়ে যায়। সিটি করপোরেশনের পানি নিষ্কাশনের ড্রেন না থাকলে এতক্ষণে বাড়িগুলো ভেঙে পড়ে যেত। এলাকাবাসী জানায়, গত বছরেই বর্ষার সময় পদ্মার তীর রক্ষার ব্লক ধসে নদীগর্ভে চলে গেছে। একটা ব্লকও নেই। এবছর বর্ষার সময় মূল সড়কে ফাটল থাকা সত্ত্বেও পাশ দিয়ে ফুটপাত নির্মাণ করা হয়েছে।