এবার যাত্রা শুরু মধুমতি ও কপোতাক্ষ এক্সপ্রেসের

আপডেট: জুন ৪, ২০২০, ১২:০১ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


বনলতার এক্সপ্রেসের পরে রাজশাহী থেকে যাত্রা শুরু করেছে আন্তঃনগর মধুমতি এক্সপ্রেস ও কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস। করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে টানা ৬৯ দিন বন্ধ থাকার পরে বুধবার (৩ জুন) এ দু’টি ট্রেন রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন থেকে যাত্রা করে। এর আগে গত ৩১ মে চাঁপাই-রাজশাহী থেকে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। যা নিয়মিত চলমান রয়েছে।
পশ্চিম রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার উপরে জোর দিয়েছে। তার অংশহিসেবে যাত্রার আগে ওয়াশপিটে পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি জীবাণুমুক্ত করা হয় ট্রেনের ভেতর ও বাইরে। ট্রেনের মধ্যে শারীরিক দূরত্ব নিশ্চিত করার জন্য একটি সিট ফাঁকা রেখে আরেকটি সিটে বসতে দেয়া হচ্ছে যাত্রীদের। এছাড়া স্টেশন এলাকায় প্রতিনিয়তই মাইকিং করে বলা হচ্ছে করোনাভাইরাসের বিষয়ে। এও বলা হচ্ছে, মাস্ক ছাড়া স্টেশন এলাকায় প্রবেশ থেকে বিরত থাকতে। এছাড়া মানতে হবে স্বাস্থ্যবিধি, থাকতে হবে নিরাপদ দূরত্বে। তবে বিধি-নিষেদের বিষয়গুলো মানতে যাত্রীদের অনীহা লক্ষ্য করা গেছে।
রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনের ব্যবস্থাপক আবদুল করিম জানান, ভোর ৬টায় কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ট্রেনটি খুলনা থেকে রাজশাহীর উদ্দেশে ছেড়ে আসে। রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছেছে ১১: ৫০ মিনিটে। পরে সোয়া ২টায় ট্রেনটি আবারও রাজশাহী থেকে খুলনার উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। ট্রেনটি রাত ৮টার দিকে খুলনায় রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছাবে।
এদিকে, বুধবার সকাল ৮টায় মধুমতি এক্সপ্রেস ট্রেনটি রাজশাহী থেকে ছেড়ে যায়। দুপুর ১টায় ট্রেনটি রাজবাড়ী পৌঁছে। এরপর বিকেল ৩টায় সেটি আবারও রাজশাহীর উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে। রাজশাহী এসে পৌঁছায় রাত ৮টায়। অর্থাৎ, বন্ধের পর চালু হলেও আগের নির্ধারিত শিডিউল অনুযায়ীই ট্রেন দু’টি নিজ নিজ গন্তব্যে চলাচল করবে।
কপোতাক্ষ এক্সপ্রেসের যাত্রী সাইফুল ইসলাম জানান, ট্রেনের ভেতরের পরিবেশ ভালো। অনেকটাই ফাঁকা ফাঁকা ছিলো ট্রেন। এভাবে ট্রেন চলাচল করলে সংক্রমণের ঝুঁকি কমবে বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, ট্রেনে বিভিন্ন হকার ও ফেরিওয়ালাদের উঠা বন্ধ রাখতে হবে। এই দিকটা খেয়াল রাখতে হবে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে।
জানা গেছে, গত ৩১ মে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের অধীনে থাকা চারটি ট্রেন চলাচল শুরু করেছে। এগুলো হলো-বিরতিহীন আন্তঃনগর ট্রেন ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ-ঢাকা), ‘লালমনি এক্সপ্রেস’ (লালমনিরহাট-ঢাকা), ‘চিত্রা এক্সপ্রেস’ (খুলনা-ঢাকা) এবং ‘পঞ্চগড় এক্সপ্রেস’ (পঞ্চগড়-ঢাকা)। প্রতিটি ট্রেনে অর্ধেক আসনে যাত্রী নেওয়া হচ্ছে। শতভাগ টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে অনলাইনে। কাউন্টার থেকে কোনো টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে না। তবে প্রথম দিকে ট্রেনগুলোতে স্বাস্থবিধি মানার চিত্র লক্ষ্য করা গেলেও ধীরে ধীরে পুরনো চেহারায় ফিরছে ট্রেনযাত্রা। এতে উদ্বেগ বাড়ছে আবারও।
প্রসঙ্গত, করোনাভাইরাস ঠেকাতে গত ২৫ মার্চ পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের সব রুটে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। শুধু মালবাহী কয়েকটি ট্রেন চলেছে।
করোনা সংক্রমন রোধে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে জীবাণুনাশক কক্ষ স্থাপন করা হয়। যাত্রীরা সেই কক্ষের মধ্যে দিয়ে প্রবেশ করছে। হাত স্যানিটাইজেশন ও নিরাপদ শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখছে। যাত্রীদের ১৯ দফা নির্দেশনা মেনে ট্রেনে উঠতে হচ্ছে।