এবার লন্ডনকে ‘হায়দরাবাদ’ বানিয়ে নেবেন সাকিব!

আপডেট: July 25, 2020, 2:37 pm

সোনার দেশ ডেস্ক:


তার অন্ধ ভক্ত ছাড়া বাকিদের অনেকেই ভ্রূ কুচকেছিলেন। সমালোচকরাও কম যাননি। সমালোচনার তীর ছুড়েছিলেন সাকিব আল হাসানের গায়ে। বিশ্বকাপের মত বড় আসরের আগে যখন গোটা দল ভিনদেশি কোচিং স্টাফের অধীনে একাগ্রচিত্তে নিবিড় অনুশীলনে ব্যস্ত, তখন সাকিব ছিলেন আইপিএল খেলতে ভারতে। তা নিয়ে কটাক্ষ ও তীর্যক মন্তব্য কম হয়নি।
কিন্তু পরে বিশ্বকাপে সাকিব ব্যাট-বল হাতে জ্বলে উঠে সমালোচকদের মুখ বন্ধ করে দেন। ভক্তরা নিজেদের প্রিয় তারকার উদ্ভাসিত ব্যাটিং নৈপুণ্য দেখে উদ্বেলিত হয়ে পড়েন। আর অতিবড় সাকিব বিরোধীর মুখেও ‘চুনকালি’ মেখে যায়। তারা হয়ে যান হতবাক ও বিশ্বকাপের মাঠে সাকিব বনে যান ‘মহানায়ক’।
প্রতি ম্যাচেই তার ব্যাট শাসন করেছে প্রতিপক্ষ বোলারদের। সব দলের বোলিং আক্রমণ ভেঙে চুরমার হয়ে যায় সাকিবের অতিমানবীয় উইলোবাজিতে। তার এমন পারফরম্যান্সে সব ক্রিকেট অনুরাগিই পুলকিত অনুভব করেন। সাকিবকে বিশ্বের সব বাঘা বাঘা বোলারকে অবলীলায় অতি স্বচ্ছন্দে খেলতে দেখে সবার চোখ ছানবরা! সাকিব হয়ে ওঠেন গত বিশ্বকাপের সবচেয়ে আলোচিত পারফরমার।
সাকিব ভাল পারফরমার, তিন ফরম্যাটে অনেকদিন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের তকমা গায়ে আটা ছিল। সেটাও খুব ভাল জানা। তাই বলে এত ভাল খেলা কী করে সম্ভব? এমন ভাল যে সাকিব আগে কখনও খেলেননি! এত ভাল ব্যাটিংয়ের রহস্য কী? কী ছিল সেই ব্যাট হাতে রানের ফলগুধারা বইয়ে দেয়ার পেছনের গল্প?
সে ভাল খেলার রহস্য খুঁজতে গিয়ে সবার ভুল ভাঙে। পরে সবাই বুঝতে পারে যে, বিশ্বকাপের আগে আইপিএল চলাকালীন হায়দরাবাদে বসে নিজেকে অন্যভাবে তৈরি করছিলেন সাকিব। প্রচন্ড ক্যারিয়ার সচেতন ও শতভাগ পেশাদার মানসিকতাসম্পন্ন ক্রিকেটার সাকিব খুব ভাল জানেন কখন কী করতে হবে।
তাই গতবছর বিশ্বকাপের আগে আইপিএল চলাকালিন সময়েই নিজেকে বিশ্বকাপের জন্য আলাদাভাবে প্রস্তুত করেছিলেন। আইপিএল খেলার কারণে দেশে জাতীয় দলের প্রাথমিক অনুশীলনে যোগ দিতে না পারলেও, নিজে সানরাইজার্সের প্র্যাকটিসের বাইরে সময় বের করে বাড়তি অনুশীলন করেছেন। দেশ থেকে নিজের গুরু ও মেন্টর প্রসিদ্ধ কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দীনকে উড়িয়ে নিয়ে যান ব্যক্তিগত অনুশীলনের জন্য।
এর আগে প্রচন্ড ফিটনেস ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে ওজন কমিয়ে ফিটনেস ঠিক রাখার কাজ সেরে রেখেছিলেন। তার ব্যাটিং ও বোলিংয়ের সবকিছু যার নখদর্পনে, সেই গুরু সালাউদ্দীনের নিবিড় পরিচর্যায় নিজের সমস্যাগুলো বের করে তার সমাধান এবং গুরু সলাউদ্দীনের সুক্ষ্ম কিছু টিপস নিয়ে নিজের ব্যাটিংশৈলিতেও এক ধরনের পরিবর্তন আনেন সাকিব। হায়দরাবাদের ঐ নিবিড় অনুশীলনটাই ছিল বিশ্বকাপে ভাল করার মূল রহস্য।
এককথায় নিজ জাতীয় দলের সঙ্গে তেমনভাবে অনুশীলন করতে না পারলেও, সাকিব আইপিএল খেলার সময় বাড়তি সময়ের অতিকার্যকর ‘পারসোনাল প্র্যাকটিস’ এর মাধ্যমে নিজেকে পুরোপুরি প্রস্তুত করেন এবং একদম চেনা ছন্দে চলে আসেন। তারই বহিঃপ্রকাশ বিশ্বকাপে আট ম্যাচে ২ সেঞ্চুরি আর ৫ হাফসেঞ্চুরিসহ ৬০৬ রান এবং ১১ উইকেট ।
জানা গেছে, এখন এক বছরের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ক্রিকেটে ফেরার আগে আবার সেই একইরকমভাবে নিজেকে তিলে তিলে গড়ে তুলতে বদ্ধ পরিকর সাকিব এবং আগামী ২৯ অক্টোবর সাসপেন্সন মুক্ত হওয়ার আগেই নিজেকে শারীরিকভাবে শতভাগ ফিট এবং ক্রিকেটীয় স্কিলে পুরোপুরি তৈরি করে ফেলতে দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ এ বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার।
তাই যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফেরার আগের সময়টা নিজেকে তৈরি করার কাজে ব্যয় করার কথা ভাবছেন সাকিব। প্রাথমিকভাবে তার লক্ষ্য ছিল দেশে ফিরে ফিজিক্যাল ট্রেনিং করা, জিমে যাওয়া এবং স্কিল ট্রেনিংয়ে ব্যাটিং ও বোলিংটাকে ঝালিয়ে নেয়ার। কিন্তু পরে সিদ্ধান্ত পাল্টে যুক্তরাষ্ট্র থেকে লন্ডল গিয়ে ব্যক্তিগত পর্যায়ের অনুশীলন করার চিন্তা করেছেন সাকিব।
জানা গেছে, আসন্ন কুরবানির ঈদটা যুক্তরাষ্ট্রে স্ত্রী-সন্তানদের সঙ্গেই করবেন সাকিব। তারপর হায়দরাবাদে যেমন নিজ গরজে অনুশীলন করেছিলেন, তেমনি লন্ডন গিয়ে ফিজিক্যাল ট্রেনিংয়ের পাশাপাশি স্কিল ট্রেনিংটাও চালাবেন বিশ্বসেরা এ অলরাউন্ডার। তার সব কাজের সঙ্গী গুরু সালাউদ্দীনের সঙ্গে নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে মাঠে ফেরার আগের সম্ভাব্য করণীয় নিয়ে খোলামেলা আলাপ করেছেন সাকিব।
শনিবার (২৫ জুলাই) সকালে জাগো নিউজের সঙ্গে আলাপে কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দীন তা স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, ‘সাকিব অত্যন্ত ক্যারিয়ার সচেতন ক্রিকেটার। সে মাঠে ফেরার আগে নিজেকে আবার তৈরি করতে বদ্ধ পরিকর ও দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ।’
সালাউদ্দীনের কথায় পরিষ্কার, সাকিব ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত অপেক্ষা করার পাত্র নন। তার আগেই নিজেকে পুরোপুরি খেলার জন্য তৈরি করে রাখতে আগ্রহী। যাতে শাস্তিমুক্ত হয়েই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরা সম্ভব হয়। তাই এখন থেকেই ফিটনেস ট্রেনিং এবং আর অল্প কিছুদিন পর স্কিল ট্রেনিংয়ের চিন্তায় বিভোর।
সালাউদ্দীন আরও জানান, ‘সবকিছু ঠিক থাকলে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি কিংবা শেষদিকে দেশে আসতে পারে সাকিব। তার আগেই নিজেকে শারীরিক ও মানসিকভাবে তৈরি করে ফেলার চিন্তায় মশগুল সে। পাশাপাশি লন্ডন গিয়ে ব্যাটিং-বোলিং অনুশীলনটাও খুব ভালোভাবে করার ইচ্ছে ওর। এজন্যই ঈদের পর যুক্তরাষ্ট্র থেকে লন্ডন যাবে সাকিব। সেখানেই ব্যক্তিগতভাবে অনুশীলন করবে।’
তার মানে ধরেই নেয়া যায়, আগস্টের ৫ থেকে ১০ তারিখের ভেতরে লন্ডন গিয়ে পুরো আগস্ট এবং সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত ফিজিক্যাল ও স্কিল ট্রেনিং করে নিজেকে তৈরি করে ফেলতে চাইছেন সাকিব। এরপর দেশে ফিরে হয়তো আরও বাড়তি কিছু অনুশীলন করে নিজেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত করে নেবেন তিনি।
তথ্যসূত্র: জাগোনিউজ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ