এবার শিকাগো থেকে সরলো কলম্বাসের দুটি ভাস্কর্য

আপডেট: জুলাই ২৫, ২০২০, ১০:৩২ অপরাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোর দুটি পার্ক থেকে ইতালীয় অভিযাত্রী ক্রিস্টোফার কলম্বাসের দুটি ভাস্কর্য অস্থায়ীভাবে সরিয়ে নিয়েছে শহর কর্তৃপক্ষ।
কয়েকদিন আগে বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনকারীরা শিকাগোর গ্র্যান্ট পার্কে থাকা কলম্বাসের একটি মূর্তি উপড়ে ফেলার চেষ্টা করেছিল।
কর্তৃপক্ষ পরে আরিগো পার্কে থাকা অন্য আরেকটি মূর্তিও সরিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
শুক্রবার স্থানীয় সময় ভোরের দিকে গ্র্যান্ট পার্ক থেকে কলম্বাসের মূর্তিটি অপসারণ করা হয় বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
গ্র্যান্ট পার্কের পাশাপাশি আরিগো পার্কে থাকা কলম্বাসের মূর্তিও সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।
পরে শিকাগোর মেয়র লরি লাইটফুট এক বিবৃতিতে জানান, তার নির্দেশেই মূর্তি দুটি অস্থায়ীভাবে সরানো হয়েছে।
“পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত মূর্তি দুটি অস্থায়ীভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে,” বলেছেন লাইটফুট।
কলম্বাসের মূর্তি সরানোর পাশাপাশি শিকাগো কর্তৃপক্ষ এখন শহরটিতে থাকা অন্য সব মূর্তি এবং ভাস্কর্যের বিষয়ও পুনর্মূল্যায়ন করবে বলে লাইটফুট জানিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে চলমান বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের মধ্যে জুনে মিনেসোটার সেইন্ট পলে কলম্বাসের ১০ ফুট দীর্ঘ একটি মূর্তি বিক্ষোভকারীরা উপড়ে ফেলেছিল।
ভার্জিনিয়ার রিচমন্ডেও কলম্বাসের একটি মূর্তি উপড়ে আন্দোলনকারীরা পাশের হ্রদে ফেলে দেয়। বস্টনে ইতালীয় অভিযাত্রীর আরেকটি ভাস্কর্যের মাথা আলাদা করে ফেলা হয়।
কেবল কলম্বাসের মূর্তিই নয়, আন্দোলনকারীদের তোপের মুখে পড়েছে বিভিন্ন দাস ব্যবসায়ীর মূর্তিও। বিক্ষোভকারীরা হোয়াইট হাউসের সামনে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড্রু জ্যাকসনের ঘোড়ায় চড়া আইকনিক মূর্তিটিও উপড়ে ফেলার চেষ্টা করেছিল।
মিনিয়াপোলিসে পুলিশ হেফাজতে কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বর্ণবৈষম্য এবং পুলিশি নির্যাতনের বিরুদ্ধে তুমুল আন্দোলন শুরু হয়।
বিক্ষোভকারীরা ফ্লয়েডের খুনিদের শাস্তি, বর্ণবৈষম্যের প্রতিকার দাবির পাশাপাশি বিভিন্ন শহরে থাকা দাস ব্যবসায়ী ও ঔপনিবেশিক চরিত্রের মূর্তির উপরও হামলে পড়ে।
“মূর্তিটি সরিয়ে নেওয়া দেখতে অসাধারণ লাগছে,” শুক্রবার গ্র্যান্ট পার্কে অন্য একটি বার্তা সংস্থাকে দেওয়া মন্তব্যে এমনটাই বলেছেন শিকাগোর বাসিন্দা ব্রেন্ডা আরমেন্টা।
কলম্বাসের অভিযানের পথ ধরেই আমেরিকা মহাদেশের সন্ধান পেয়েছিল ইউরোপ, যে ইতিহাসকে ধরে রাখতেই যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে ইতালীয় এই অভিযাত্রীর অসংখ্য ভাস্কর্য আছে।
বিভিন্ন দেশের পাঠ্যপুস্তকেও পঞ্চদশ শতকে ‘নতুন বিশ্ব’ আবিষ্কারের কৃতিত্ব কলম্বাসকে দেওয়া হয়।
অন্যদিকে আদিবাসী আমেরিকানরা দীর্ঘদিন ধরেই কলম্বাসকে গৌরবান্বিত করার চেষ্টার বিরোধিতা করে আসছেন।
তাদের ভাষ্য, কলম্বাসের অভিযানের পথ ধরে আদি আমেরিকানদের সঙ্গে ইউরোপীয়দের সাক্ষাতের পরের ইতিহাসে জড়িয়ে আছে আটলান্টিকের দাস ব্যবসা এবং গণহত্যা-নির্যাতন চালিয়ে আমেরিকা মহাদেশের আদি বাসিন্দাদের হটিয়ে শ্বেতাঙ্গ ইউরোপীয়দের ঔপনিবেশিক শাসন প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ ঘটনাপ্রবাহ।
তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ