এবার শিরোপার লড়াইয়ে রাজশাহী-ঢাকা

আপডেট: ডিসেম্বর ৭, ২০১৬, ১১:৪৭ অপরাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক :



লিগ পর্বের অর্ধেক পেরিয়ে যাওয়ার পর অধিকাংশই রাজশাহী কিংসকে বাতিলের খাতায় ফেলে দিয়েছিলেন। সেই দলটি এরপরই ঘুরে দাঁড়াল জয়ের সঞ্জীবনী ক্ষুধাকে সঙ্গী করে। বাকিটা তো ইতিহাসই। প্রত্যাবর্তনের অসাধারণ গল্প লিখে চতুর্থ আসরের ফাইনালে জায়গা করে নিলো স্যামি-সাব্বিরের দল। গতকাল বুধবার অঘোষিত সেমিফাইনাল হয়ে ওঠার মঞ্চে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে খুলনা টাইটান্সকে ৭ উইকেটে হারিয়ে ঢাকা ডায়নামাইটসের শিরোপা নির্ধারণী প্রতিপক্ষ হলো কিংসরা।
প্রথম কোয়ালিফায়ারে মঙ্গলবার খুলনা টাইটান্সকেই ৫৪ রানে হারিয়ে আসরের প্রথম দল হিসেবে ফাইনালের টিকিট কেটেছে সাকিব-নাসিরের ডায়নামাইটস। আগামী ৯ ডিসেম্বর মিরপুরের হোম অব ক্রিকেটেই শিরোপার মহারণে মুখোমুখি হবে ঢাকা-রাজশাহী।
মিরপুরের শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে শুরুতে ব্যাট করে নির্ধারিত ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১২৫ রান তোলে খুলনা টাইটান্স। আরিফুল হকের অপরাজিত ৩২, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ২২ ও নিকোলাস পুরানের ২২ রানে এই সংগ্রহ দাঁড় করায় দলটি। জবাব দিতে নেমে সাব্বির রহমানের অপরাজিত ৪৩ রানে ৪ বল ও ৭ উইকেট হাতে রেখেই জয়ে নোঙর ফেলে রাজশাহী কিংস।
লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দ্বিতীয় ওভারেই মুমিনুল হককে (২) হারিয়ে এগোতে থাকে খুলনা। পরে আফিফ হোসেন ধ্রুবকে নিয়ে ২৯ রানের জুটি গড়েন নুরুল হাসান। ২ চারে ১১ বলে ১৪ রানে নুরুলের ফেরার পর আফিফের সঙ্গে যোগ দেন সাব্বির রহমান।
আফিফ-সাব্বির সেখান থেকে ৩৩ রানের দারুণ আরেকটি জুটি গড়ে টাইটান্সের স্বপ্নকে কক্ষপথেই রাখেন। যদিও এসময় টি-টোয়েন্টির সঙ্গে বড্ড বেমানান গতিতে রান তোলেন সাব্বির। তবে অন্যপ্রান্তে সাবলীল ছিলেন তরুণ আফিফ। ফেরার আগে ৩ চারে ২৭ বলে ২৬ রানের অবদান রেখেছেন অনূর্ধ্ব-১৯ দলের এই তরুণ।
এরপর জেমস ফ্রাঙ্কলিনকে নিয়ে লক্ষ্যের দিকে এগোতে থাকেন সাব্বির। দুজনে অবিচ্ছিন্ন ৬২ রানের জুটিতে শেষ পর্যন্ত ম্যাচ জিতিয়েই মাঠ ছেড়েছেন। আসরের একমাত্র সেঞ্চুরিয়ান সাব্বির ২ চার ও ১ ছয়ে ৫২ বলে ৪৩ রানে অপরাজিত ছিলেন। আর ফ্রাঙ্কলিন ২ চার ও ১ ছয়েই ২৪ বলে ৩০ রানের হার না মানা ইনিংস খেলেন।
খুলনার হয়ে একটি করে উইকেট নিয়ে চেষ্টা করেছিলেন কেভন কুপার, মোশাররফ হোসেন ও মাহমুদউল্লাহ। কিন্তু অল্প পুঁজির দিনে তাদের চেষ্টা সফলতার মুখ দেখার মত যথেষ্ট ছিল না।
এর আগে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে এদিন তৃতীয় ওভারেই জোড়া ধাক্কা খায় খুলনা। ওভারের প্রথম বলে ১ রানে থাকা হাসানুজ্জামানকে রান আউটে সাজঘরে ফেরান নুরুল হাসান। পরে তৃতীয় বলে আব্দুল মজিদকেও (১১) রান আউটেই ক্রিজ ছাড়া করেন মেহেদি হাসান মিরাজ।
সেখান থেকে চতুর্থ ওভারে শুভাগত হোমকে (৪) সাজঘরে ফিরিয়ে খুলনার বিপদ বাড়ান ফরহাদ রেজা। এরপর দারুণ খেলতে থাকা নিকোলাস পুরানকে (২২) ফরহাদের ক্যাচ বানিয়ে সেই বিপদটা আরো বাড়ান আফিফ হোসেন ধ্রুব। ফেরার আগে অবশ্য ২টি করে চার-ছয়ে ১০ বলে ইনিংস সাজিয়ে বড় কিছুর ইঙ্গিতই দিচ্ছিলেন পুরান। পরে বেনি হাওয়েলকে নিয়ে ২২ রানের জুটিতে প্রতিরোধের চেষ্টা করেছিলেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ। কিন্তু প্যাটেলের বলে ১২ রানে থাকা হাওয়েল স্যামির হাতে ক্যাচ দিলে সেটিও থেমে যায়।
বেশিক্ষণ টেকেননি আশার ভেলা হয়ে থাকা মাহমুদউল্লাহও। চাপের মাঝে টি-টোয়েন্টির সঙ্গে বেমানান গতিতে রান তুলতে থাকা তার প্রতিরোধের দেয়ালটি ভেঙে যায় ২২ রানেই। প্যাটেলের বলে ক্যাচ দেওয়ার আগে ২ চারে ২৮ বলে এই রান তুলেছেন টাইটান্স অধিনায়ক। পরের দিকে বলার মতো অবদান রাখতে পারেননি কেভন কুপার (৪), নাঈম ইসলাম জুনিয়র (০), মোশাররফ হোসেনরা (৪)। সকলেই ব্যর্থ হয়ে ফিরেছেন। এরপরও সংগ্রহটা যে একটা ভদ্রস্থ জায়গায় গেল সেটির পেছনে অবদান আরিফুল হকের। এই অলরাউন্ডার ২ চার ও ১ ছয়ে ২৯ বলে ৩২ রানে অপরাজিত ছিলেন। শেষ উইকেট জুটিতে জুনাইদ খানকে (১*) নিয়ে ২৩ রান যোগ করেছেন আরিফুল। রাজশাহীর হয়ে বল হাতে বিধ্বংসী ছিলেন সামিত প্যাটেল। ৪ ওভারে ১৯ রানে ৩টি উইকেট তুলে নিয়েছেন তিনি। এছাড়া কেসরিক উইলিয়ামস, ফরহাদ রেজা, আফিফ হোসেন ধ্রুব ও ড্যারেন স্যামির ঝুলিতে গেছে একটি করে উইকেট।
এদিকে রাজশাহী কিংস ফাইনালে উঠায় সকল খেলোয়াড় ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অভিনন্দন জানিয়েছেন জেলা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট সমিতির সম্পাদক ইনতেখাব আলম বাবর ও টাউন ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানী।