এবার সরকারি গম পাচারের অভিযোগ || এসব অভিযোগ ধামাচাপাই পড়বে ?

আপডেট: জুলাই ১৭, ২০১৭, ১২:৫৭ পূর্বাহ্ণ

আবারো সরকারি খাদ্য গুদাম থেকে গম পাচারের অভিযোগ। মাঝেমধ্যেই এ ধরনের অভিযোগ উঠছেÑ কিন্তু কেন?Ñ এ প্রশ্নটি সবার। এসব অভিযোগ কি প্রকৃত অর্থে খতিয়ে দেখা হয়- নাকি ঘটনা সত্য- দুষ্টচক্রের বিস্তৃতি বড়, ফলে সব কিছু ধামাচাপা পড়ে যায়। ঘটনার প্রকৃত ব্যাখ্যা জনসম্মুখে আসে না বলে তা সব সময় অজানাই থেকে যায়।
এবার গোদাগাড়ীতে খাদ্য গুদামের গম পাচারের সময় গম ভর্তি দুইটি ট্রলি আটক করে স্থানীয় জনতা। শনিবার ভোর সাড়ে ৬টার দিকে গোদাগাড়ী পৌর এলাকার মাদারপুর খাদ্য গুদাম থেকে বাইরে যাওয়ার সময় ট্রলি দুটি আটক করা হয়। ট্রলির চালক কাগজ দেখাতে ব্যর্থ হলে ট্রলি দুইটি আটকিয়ে রাখে জনতা। পরে খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি এলএসডি) ঘটনাস্থলে গিয়ে আটককৃত গমের ট্রলি দুইটি পুনরায় গুদামে ফেরত নিয়ে যান।
খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দাবি গমগুলি কিছুটা খারাপ হয়ে যাওয়ায় পাল্টিয়ে ভালো গম আনার উদ্দেশ্যেই ট্রলিতে করে পাঠানো হচ্ছিল। তবে বিষয়টি উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা ও জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রককে জানানো হয় নি। ওসি এলএসডির একক সিদ্ধান্তেই গম পরিবর্তনের কাজটি হচ্ছিলো বলে তিনি জানান।
এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন দৈনিক সোনার দেশসহ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
গেল ঈদের দুদিন আগে ২৪ জুন ছুটির দিনে রাজশাহী সদর খাদ্য্য গুদামের দুই নম্বর পবা ইউনিটের সাত নম্বর গুদাম থেকে ট্রাকভর্তি চাল বের করা হয়। অভিযোগ ছিল সরু চাল বের করে তদস্থলে মোটা চাল কিংবা নি¤œমানের চাল ভরে দেয়ার উদ্দেশ্যেই ওই চাল বাইরে নেয়া হয়। তবে ওই দিন চূড়ান্ত মুহূর্তে গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত হলে আরেকটি ট্রাকে করে চাল স্থানান্তর সম্ভব হয়নি বলে পত্রিকার খবরে উল্লেখ করা হয়েছিল।
উল্লিখিত ঘটনা দুটিই সরকারি ছুটির দিনে সংঘটিত হয়েছে। সরকারি জরুরি প্রয়োজনে ছুটির দিনেও খাদ্য পরিবহন হতে পারে কিন্তু সেটা সরকারি পদ্ধতি অনুসরণ করেই হতে হয় বলেই আমাদের জানা। কিন্তু ওই দুটি ঘটনা জরুরি কোনো কাজ বলে মনে হয়নি। দুটি ঘটনাই সরকারি নিয়ম অনুসরণ করে করা হয়েছে বলে আমাদের জানা নেই। বরং সংবাদ মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অসংলগ্ন কথাবার্তা প্রকাশ পেয়েছে। আর কোনো সরকারি কাজ নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া ব্যতিত কোনো কমকর্তার একক সিদ্ধান্তে হয়Ñ এমন বক্তব্যও উদ্ভটের মত শোনায়। অন্তত উপজেলা পর্যায়ের কমকর্তাও জানবে না এটা কেমন করে হয়? খাদ্যগুদামের নষ্ট গম পরিবর্তন করতে হবে আর বিষয়টি কর্তৃপক্ষের গোচরে থাকবে না এটা বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়নি। নষ্ট গম যে পরিবর্তন করতে হবে তারও তো একটা পদ্ধতি আছে নিশ্চয়Ñ তা হলে সেটা মানা হলো না কেন? সংশ্লিষ্ট গুদাম কর্মকর্তার বক্তব্যই বেশ সন্দেহের উদ্রেক করে। তার কথার মধ্যেই দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এর একটি স্পষ্ট ব্যাখ্যা জনসম্মুখে আসা দরকার। নতুবা মানুষের মধ্যে এই ধারণাই পুষ্ট হতে পারে যে, এসব ঘটনার সাথে উপরের কর্মকর্তারাও জড়িত আছেন।  গোদাগাড়ীর গম পাচারের অভিযোগ তদন্ত করে দোষিদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবেÑ এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ