এবার হলো না, প্রত্যাশায় থাকলো রাজশাহীবাসী

আপডেট: ডিসেম্বর ৯, ২০১৬, ১১:৪৭ অপরাহ্ণ

ক্রীড়া প্রতিবেদক



শরীরে শীতের গরম পোশাক। সেই পোশাকের ওপর রাজশাহী কিংসের জার্সি। এনিয়ে রাজশাহী নগরীর দড়িখড়বোনায় বড় পর্দায় বিপিএলের চতুর্থ আসরের ফাইনালে খেলা দেখা উপভোগ করছেন বেশ কয়েকজন ক্রিকেটপ্রেমী। শুধু তারা নয়, যেন পুরো রাজশাহীবাসীর চোখ ছিল টেলিভিশনের পর্দায়।
গতকাল মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রাজশাহী ও ঢাকার মধ্যকার ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আর এই ম্যাচে ঢাকার কাছে হেরে রাজশাহী বিপিএলের এই আসরে রানারআপ হয়েছে। দর্শকদের প্রত্যাশা ছিল, নাম বদলে ফাইনালে উঠে আসা রাজশাহী কিংস চ্যাম্পিয়ন হয়ে রেশম নগরীতে ফিরে আসবে। কিন্তু সে আশা পুরুণ হলো রাজশাহীবাসীর। তবে চ্যাম্পিয়ন শিরোপার হতাশাকে কাটিয়ে উঠে সামনের আসরের দিকে চোখ পদ্মাপাড়ের ক্রিকেটপ্রেমীদের।
নগরীর আলুপট্টিতে বড় পর্দায় নিজেদের দলের পরাজয়ের গ্লানীকে বুকে ধারণ করে শীতের রাতে বাড়ি ফিরতে ফিরতে কয়েকজন ক্রিকেটপ্রেমী বলে যাচ্ছেন, এবার আমরা শিরোপা আনতে পারলাম। তবে ঠিক আগামীবার রাজশাহীর মাটিতে বিপিএলের পরের শিরোপা আনবো। যদি আমাদের দলের কর্ণধাররা আরও ভালো দল গঠন করে।
আগের বিপিএল আসরে ফাইনালে উঠতে পারেনি রাজশাহী। কিন্তু এবার ‘দুরন্ত রাজশাহী’ বদলে ‘রাজশাহী কিংস’ হিসেবে শিরোপা লড়াই করেছে মিরপুরে। তাই রাজশাহী নগরীর বড় বড় মোড় ছাড়াও নিজ নিজ বাড়ি ছোট পর্দায় দেখছেন রাজশাহী ও ঢাকার মধ্যেকার ফাইনাল খেলা। সেই সাথে চলছে বিভিন্ন এলাকায় বনভোজনের আয়োজন। এমনি একজন ক্রিকেটপ্রেমী মমিন বাবু বলেন, আমরা কয়েকজন বন্ধু চাঁদা তুলে খেলা দেখার পাশাপাশি বনভোজেন আয়োজন করেছি।’ নগরীর কেদুর মোড় এলাকার শামীম রহমান বলেন, ‘আমাদের রাজশাহী ফাইনালে খেলছে।

উল্লাসের বহিপ্রকাশ হিসেবে বনভোজন করছি। তবে রাজশাহী চ্যাম্পিয়ন হলে বনভোজনের আয়োজনটা সার্থক হবে।’ শামীমের সেই উল্লাসটা উদযাপন করার ক্ষেত্রটা তৈরি করে দিতে পারেনি সাব্বির-ফরহাদ রেজারা।
রাজশাহী নগরীর ব্যস্ততম রাস্তাগুলো বিপিএলের ফাইনাল খেলা উপভোগ করার জন্য শুক্রবার সন্ধ্যার আগে থেকেই রাস্তা ফাঁকা ছিল। অটোরিকশার তেমন ভিড় ছিল। নগরীর উপশহর এলাকার ব্যবসায়ী জিএম বাবুল চৌধুরীর একমাত্র ছেলে মাখদুমের জন্মদিন ছিল শুক্রবার। আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। ছেলেসহ পরিবারকে নিয়ে নগরীতে ঘুরে বেড়াবেন। কিন্তু অন্যদের ফাইনাল খেলা উপভোগ করার প্রস্তুতি দেখে সেই পরিকল্পনা বাতিল করে দোকানে রাজশাহী-ঢাকার ফাইনাল খেলা উপভোগ করেছেন।
এদিকে রাজশাহী নগরী নয়, পুরো জেলায় একই অবস্থা তৈরি হয়েছে। এছাড়াও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ, রাজশাহী কলেজের মতো বড় বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আবাসিক হলগুলোতে ফাইনাল খেলা উপভোগ করছে। এসব হলগুলোতে আবার ঢোল নিয়ে রাজশাহী কিংসকে সমর্থন দিয়েছেন। অনেক আবার ঢাকা দলকেও সমর্থন দিয়েছে বলে জানা গেছে। তবে তাদের সংখ্যা খুব কম। কারণ ঢাকা থেকে রাজশাহীতে এসেছেন পড়ালেখার জন্য। তাই নিজের এলাকার দলকে তারা সমর্থন দিয়েছে। এমনটাই জানালেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী ও জয়হাটের ছেলে ইকরামুল হক।
নগরীর আলুপট্টি এলাকার মেহেদি হাসান বলেন, আমরা রাজশাহীবাসী খেলাপ্রেমী। আর ক্রিকেট খেলা হলে তো কথাই নাই। সবার সাথে খেলা দেখার আনন্দই আলাদা। তাই বিপিএলে আমাদের রাজশাহী ফাইনাল খেলছে। এতে করে বন্ধুরা সবাই একসাথে হয়ে বড় পর্দায় খেলা উপভোগ করছি।
নগরীর তেরখাদিয়া এলাকার সাকি রহমান পথিক বলেন, আমার বাড়ি পাশেই শহীদ কামারুজ্জামান স্টেডিয়াম। কিন্তু আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম না হওয়ায় আমরা সে আনন্দ থেকে বঞ্চিত। তারপরও এসব বড় পর্দায় খেলা দেখানোর কারণে আমরা বন্ধুরা অনেকে একসাথ খেলা উপভোগ করছি। অনেকটা ‘দুধের স্বাধ ঘোলে মেটানোর মত’।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ