‘এর চেয়ে বেশি সুইং কিভাবে সম্ভব’

আপডেট: নভেম্বর ১৭, ২০১৯, ১২:৫৩ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


গোলাপি বল তো অনেক বেশি সুইং করবে, কিভাবে সামলাবেন?-প্রশ্ন শুনে হতাশার মাঝেও হাসি ফুটল মুমিনুল হকের মুখে। ইন্দোরে লাল বলে যে সুইং করিয়েছেন ভারতের তিন পেসার, কলকাতায় এর চেয়ে খুব বেশি হবে না বলেই বিশ্বাস তার। বাংলাদেশ অধিনায়ক মনে করেন, ইন্দোরে শামি-ইশান্ত-উমেশকে খেলেই ভালো প্রস্তুতি হয়ে গেছে তাদের।
হলকার স্টেডিয়ামে তিন দিনে ইনিংস ও ১৩০ হেরে গেছে বাংলাদেশ। লাল বলেই সফরকারীরা সামলাতে পারেনি ভারতীয় পেসারদের সুইং। গোলাপি বলে আরও সহায়তা পাবেন তারা, পাবেন আরও বেশি সুইং। কিভাবে তাদের সামলাবে বাংলাদেশ? অধিনায়কের আশা, একটা পথ ঠিক বের হয়ে যাবে।
“আমার মনে হয়, কৃত্রিম আলোয় যতটা অনুশীলন করা যায় তত ভালো। আমরা যে সুইংয়ে খেলেছি, এর চেয়ে সুইং আর মনে হয় না কোথাও সম্ভব। অনেক বেশি সুইং ছিল। এখানে খেলে ভালো অনুশীলন হয়ে গেছে! একটু চ্যালেঞ্জ থাকবে। চ্যালেঞ্জটা ইতিবাচকভাবেই নেওয়া উচিত।”
“হাতে খুব বেশি সময় নেই। আমাদের সবার গোলাপি বলে অনুশীলন করা উচিত। কলকাতায় মুস্তাফিজ খেলবে কি না, এখনও বলা কঠিন।”
কিপিং না করলেও এই ম্যাচে পাঁচ নম্বরে ব্যাটিং করেছেন মুশফিকুর রহিম। দলের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যানকে চারে না খেলানো নিয়ে ম্যাচ জুড়ে সমালোচনা হয়েছে। মুমিনুল জানান, মুশফিকের ব্যাটিং পজিশন পরিবর্তনের কথা ভাববেন তারা।
“এটা নিয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। যদি টিম ম্যানেজমেন্ট মনে করে তাহলে আমার মনে হয় এটা ইতিবাচক ব্যাপার হবে। যদি মুশফিক ভাইকে ওপরে নেওয়া যায়। হ্যাঁ, নেওয়া যায়। আমার মনে হয়, দল ভেবে সিদ্ধান্ত নেবে।”
ইনিংস ব্যবধানে হেরে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ শুরু করার পেছনে ব্যাটসম্যানদের দায় বেশি দেখছেন অধিনায়ক।
“আমরা ভালো ব্যাট করিনি। তবে এর মধ্যেও ইতিবাচক দিক আছে। মুশফিক খুব ভালো খেলেছেন দুই ইনিংসেই। লিটন ভালো খেলেছে। মিরাজও ভালো করেছে আজ। তবে আমরা দল হিসেবে খেলতে পারিনি। জুটি করতে পারিনি। এটা খুব ভালো দলীয় পারফরম্যান্স নয়।”
“ব্যাটিং অ্যাপ্রোচ আমার মনে হয় ঠিক ছিল না। এই ধরনের প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলতে আপনাকে ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করতে হবে। আপনারা খেলা দেখেছেন, ওরা আলগা বল খুব কম করে। আমার মনে হয়, টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানদের আরও বেশি ধৈর্য নিয়ে ব্যাটিং করা উচিত।”
নেতৃত্বের শুরুটা মন মতো হলো না। তবে তাতে চিন্তিত নন মুমিনুল হক। আপাতত তার ভাবনা পরের টেস্টের আগে দলকে চাঙ্গা করা নিয়ে।
“আমার মনে হয়, একটা সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে যাওয়ার পর নিজেকে চাঙ্গা রাখা বড় একটা পরীক্ষা। দিবা-রাত্রির টেস্ট ওরা খেলেনি, আমরাও খেলিনি। আমার কাছে এটা নতুন একটা সুযোগ। একই সঙ্গে রোমাঞ্চকরও। আবার কবে গোলাপি বলে খেলব, সে দিক থেকে এটা নতুন সুযোগ, নতুন রোমাঞ্চ।” আগের দিন সংবাদ সম্মলনে প্রধান কোচ রাসেল ডমিঙ্গো বলেছিলেন, উন্নতির জন্য বাংলাদেশের টেস্ট দলের কাঠামোয় পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। তার কথায় সায় আছে অধিনায়কের।
“যদি কাঠামোগত পরিবর্তন হয়ে, এটা ভালো একটা ব্যাপার হবে। এটা খেলোয়াড়দের মানসিক প্রস্তুতিতেও সহায়ক হবে।”