এলসিতে পেঁয়াজ আসায় বাঘায় চাষিদের মাথায় হাত

আপডেট: জানুয়ারি ১, ২০১৭, ১২:১৩ পূর্বাহ্ণ

আমানুল হক আমান, বাঘা


বাঘায় এলসিতে পেঁয়াজ আসায় লোকসানের আশঙ্কা করছেন চাষিরা। পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হয়েছে। কিন্তু দাম না পেয়ে মাথায় হাত চাষিদের। বাজারে চাহিদা না থাকায় উৎপাদন ব্যয় উঠাতে পারছে না।
জানা গেছে, বিভিন্ন এনজিও ও মহাজনদের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে পেঁয়াজ আবাদ করেছিলেন চাষিরা। এখন কিভাবে ঋণ পরিশোধ করবেন এই চিন্তায় ঘুম নেই চাষিদের। বাজারে প্রতি মণ পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬৫০ টাকা থেকে ৭৫০ টাকায়। কিন্তু প্রতি মণ পেঁয়াজের গড় উৎপাদন খরচ হয়েছে ৯০০ টাকা থেকে এক হাজার টাকা। ফলে উৎপাদিত পেঁয়াজ বিক্রি করে উৎপাদন খরচ পাচ্ছে না চাষিরা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে লক্ষ মাত্রার চেয়ে ২০০ একরের বেশি জমিতে পেঁয়াজ আবাদ হয়েছে। চলতি মৌসুমে এক হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষ হয়েছে। উপজেলার পদ্মার চরের কালিদাসখালীর আনোয়ার শিকদার বলেন, চলতি মৌসুমে তিনি ৩ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ আবাদ করেছেন। ইতোমধ্যেই তার পেঁয়াজ উত্তোলন করা হয়েছে। তিন বিঘা জমিতে পেঁয়াজ উৎপাদনে খরচ হয়েছে ৬৫ হাজার টাকা। কিন্তু উৎপাদিত পেঁয়াজ বিক্রি করে পাওয়া গেছে ৫২ হাজার টাকা। চকরাজাপুর চরের ফজল উদ্দিন খাঁ বলেন, পেঁয়াজের দাম যেভাবে কমেছে অন্য দ্রব্যের দাম সেই তুলনায় কমেনি। সার কিটনাশক ওষুধের দাম দিন দনি বাড়ছে। বাজারে পেঁয়াজের চাহিদা নেই। ক্রেতারা পেঁয়াজের ভালো দাম দিতে চাচ্ছে না।
আরেক পেঁয়াজ চাষি ডালিম হোসেন বলেন, এলসিতে পেঁয়াজ আসার কারণে চলতি মৌসুমে পেঁয়াজ উৎপাদন করে  লোকসান দিতে হচ্ছে। তিনি আরো বলেন,  আগামী মৌসুমে পদ্মার চরের অধিকাংশ চাষির পক্ষেই টিকে থাকা সম্ভব হবে না। এবছর অধিকাংশ চাষি বিভিন্ন এনজিও এবং ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে পেঁয়াজ আবাদ করেছে। উৎপাদিত পেঁয়াজ বিক্রি করে ঋণের টাকা পরিশোধ করা সম্ভব হবে না। সারা বছর কি খেয়ে বাঁচব সেই চিন্তায় ঘুম নেই।
পেঁয়াজ ব্যবসায়ী নাজমুল হোসেন বলেন, এলসিতে পেঁয়াজ আসার জন্য মোকামে দেশি পেঁয়াজের তেমন চাহিদা নেই। এছাড়া স্থানীয় বাজারে পাইকারী ক্রেতার সংখ্যা কম। ফলে পেঁয়াজ নিয়ে কৃষকরা দুশ্চিন্তায় আছেন। সরকার যদি এলসির মাধ্যমে পেঁয়াজ আসা বন্ধের উদ্যোগ নেয়, তবে কৃষকরা বাঁচতে পারবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাবিনা বেগম বলেন, চলতি মৌসুমে উৎপাদনের চেয়ে বেশি আবাদ হওয়ার দাম কম পাচ্ছে কৃষকরা।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ