এল ক্লাসিকোর আগে ‘নেতা’র ভূমিকায় পিকে

আপডেট: ডিসেম্বর ২, ২০১৬, ১২:১২ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক



রিয়াল-বার্সা দ্বৈরথ মানেই আগুনে লড়াই। সেই আগুনে ঘি ঢালার কাজটি সাম্প্রতিক অতীতে জেরার্ড পিকের চেয়ে বেশি আর কেউ করেছেন বলে মনে হয় না।
মাঠে বার্সেলোনার ডিফেন্সের ভরসা তিনি, আর মাঠের বাইরে সত্যিকার অনুপ্রেরণাদায়ী নেতা। সেই নেতৃত্বগুণে পিকে নিজেও এমন মুগ্ধ যে ভবিষ্যতে তিনি নিজেকে বার্সেলোনার কোচ হিসেবে দেখেন না, দেখেন সভাপতি হিসেবে! বতর্মান কোচ লুইস এনরিকেও মনে করেন, ভবিষ্যতে ক্লাবের সভাপতি হওয়ার মতো গুণ পিকের আছে। কাতালান ক্লাবটির সাবেক কোচ ও বার্সার সদস্য পেপ গার্দিওলাও কয়েক দিন আগে বলেছিলেন, পিকে যদি সত্যিই একদিন সভাপতি পদে নির্বাচন করেন, তাহলে তাঁর ভোট পিকের বাক্সেই পড়বে।
পিকের ওই অনুপ্রেরণাদায়ী ভূমিকা বার্সার এখন বড় দরকার। আগামী পরশু মৌসুমের প্রথম এল ক্লাসিকোর আগে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়ালের চেয়ে ৬ পয়েন্ট পিছিয়ে বার্সা। রিয়াল সোসিয়েদাদের বিপক্ষে সর্বশেষ ম্যাচে ১-১ গোলে ড্র করতে হয়েছে। বার্সা সেদিন এতটাই খারাপ খেলেছে যে ওই ম্যাচ থেকে ১ পয়েন্ট পাওয়াটাকেই ‘অলৌকিক’ মনে হয়েছে এনরিকের কাছে। এল ক্লাসিকোতে মাঠে বার্সার মূল ভরসা হয়ে থাকবেন ‘এমএসএন’ ত্রয়ী, তবে মাঠে নামার আগে পিকের সতীর্থদের উজ্জীবিত করার ক্ষমতা তাই হয়ে উঠেছে এর চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বার্সেলোনার অধিনায়ক নন। এর কারণ হয়তো একটাই, কাতালান ক্লাবটিতে অধিনায়ক নির্বাচন করা হয় কে কত বেশি দিন ধরে খেলছেন, তার ভিত্তিতে। পিকের যে বার্সায় নিরবচ্ছিন্ন ক্যারিয়ার নয়। বার্সেলোনার যুব প্রকল্পে লিওনেল মেসির সঙ্গে বেড়ে উঠলেও ২০০৪ সালে নাম লিখিয়েছিলেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে। ঘরের ছেলে আবার ঘরে ফেরেন ২০০৮ সালে।
মূল কাজ ডিফেন্ডার হিসাবে, তবে আরেকটি ভূমিকাও সানন্দেই পালন করেন পিকে। রিয়ালের সমর্থকদের উসকে দেওয়ার কাজটি হয়তো তাঁর প্রিয় বিনোদন। ২০১৫ সালে বার্সেলোনার ‘ট্রেবল’ জয়ের উদ্যাপনে দেওয়া শুভেচ্ছা বক্তব্যে যেমন কলম্বিয়ার সংগীতশিল্পী কেভিন রোল্ডানকে বিশেষ ধন্যবাদ জানিয়েছিলেন। এই ধন্যবাদ জানানো ছিল আসলে রিয়ালকে একটা খোঁচা দেওয়া। দলটির সবচেয়ে বড় তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর ৩০তম জন্মবার্ষিকীতে পারফর্ম করেছিলেন রোল্ডান। অথচ এর কয়েক ঘণ্টা আগেই লা লিগায় অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের কাছে ৪-০ গোলে হেরে থেমে গিয়েছিল রিয়ালের জয়রথ। ওই মৌসুমে রিয়ালের পতনেরও শুরু সেই ম্যাচ থেকেই। পিকে তাই রোল্ডানকে ‘কৃতজ্ঞতা’ জানিয়ে বলেছিলেন, ‘তোমাকে দিয়েই সবকিছুর শুরু।’ এই ঘটনার পর কয়েক মাস স্পেনের হয়ে খেলার সময়ও ‘দুয়ো’ শুনতে হয়েছিল তাঁকে।
গত এপ্রিলে সর্বশেষ এল ক্লাসিকোতে প্রথম গোলটিও তিনিই করেছিলেন। রিয়াল পরে ঘুরে দাঁড়িয়ে ২-১ গোলে সেই ম্যাচ জিতলেও লিগের শেষ দিনে গিয়ে শিরোপা জেতে বার্সেলোনা। গত মৌসুমের ফর্মটা এবার অবশ্য ঠিক দেখাতে পারছে না বার্সেলোনা। এল ক্লাসিকোতে তাই রিয়াল পরিষ্কার ফেবারিট। সতীর্থদের তাতিয়ে তুলতে এটিকেই অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করছেন পিকে, ‘শনিবার মাদ্রিদের চেয়ে আমাদের বেশি কিছুর জন্য খেলতে হবে। ওদের হারলেও সমস্যা নেই, কিন্তু আমাদের হারলে চলবে না।’ দেখা যাক, পিকের কথা কাজে আসে কি না!-প্রথম আলো অনলাইন

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ