এশিয়ায় চালের উৎপাদন কমেছে বাংলাদেশকে এখনই সতর্ক পদক্ষেপ নিতে হবে

আপডেট: আগস্ট ৯, ২০২২, ১২:৪৪ পূর্বাহ্ণ

সংবাদ মাধ্যমের খবরে বলা হচ্ছে-প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে ভারতসহ এশিয়ার শীর্ষস্থানীয় চাল রপ্তানিকারক দেশগুলোতে চলতি বছর উৎপাদন কম হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এর ফলে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই খাদ্যশস্যটির দাম বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। শুক্রবার রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
গত দুই বছরে বাম্পার ফলন এবং রপ্তানি বাড়লেও চালের দাম বৃদ্ধির প্রবণতা অব্যাহত ছিল। এমনকি করোনা মহামারির সময়ও এই চিত্র দেখা গেছে। সম্প্রতি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে অন্যান্য শস্যের দামও বেড়েছে। কিন্তু বিশ্বের ৯০ শতাংশ চাল উৎপাদনকারী এশিয়ার দেশগুলোতে বৈরী আবহাওয়ার কারণে এই খাদ্যশস্যটির দাম আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ী ও বিশ্লেষকরা। ভারতে এ বছর ধানের আবাদ ১৩ শতাংশ কমেছে ফলে গত বছরের তুলনায় এক কোটি টন বা প্রায় ৮ শতাংশ উৎপাদন হ্রাস পেতে পারে।
এই তথ্য নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক। বাংলাদেশের চাল উৎপাদনে খুব একটা হেরফের না হলেও প্রতি বছর ভারত থেকে চাল আমদানি করতে হয়। সঙ্কটের মাত্রা তুঙ্গে পৌঁছলে বাংলাদেশেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। চাল বাংলাদেশের মানুষের প্রধান খাদ্য। এ ব্যাপারে বাংলাদেশের সবিশেষ গুরুত্বারোপের সুযোগ রয়েছে।
রাশিয়া- ইউক্রেন যুদ্ধের ফলেও পরিস্থিতি বিশ্বজুড়েই খারাপ যাচ্ছে। যুদ্ধের ফলে যে মন্দার সূতপাত হয়েছে তা বিশ্বের সব দেশকেই কমবেশি আক্রান্ত করেছে। যুদ্ধ পরিস্থিতি এই আশংকাও সামনে এনেছে যে, যুদ্ধের কারণে পৃথিবীতে ক্ষুধা-বঞ্চনার পরিধি ব্যাপক হবে। বিশ্বজুড়ে চরম খাদ্য সঙ্কট দেখা দিতে পারে। জাতিসংঘ বলছে-বিশ্বের ৪ কোটি মানুষ খাদ্য নিরাপত্তার ঝুঁকিতে পড়েছে। তবে এ সংকটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে আফ্রিকার সাব সাহারা অঞ্চল।
বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ। কৃষির ওপর বাংলাদেশের নির্ভরতা বলার অপেক্ষা রাখে না। বাংলাদেশের টেকসই কৃষি ব্যবস্থা এর আগেও পৃথিবীর অর্থনৈতিক মন্দার প্রভাব থেকে সুরক্ষা দিয়েছে। কিন্তু এবার যুদ্ধের অভিঘাতে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে তা প্রকৃতঅর্থেই খাদ্যনিরাপত্তায় ব্যাপক ঝুঁকির সৃষ্টি হয়েছে। ইতোমধ্যে ডলারের মূল্যে ক্রম উর্ধগতি, জ্বাালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি এবং ফলে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে মূল্যস্ফীতি অসহনীয় পর্যায়ে যেতে বসেছে। এটাকে সরকার নানা উদ্যোগ নিয়ে মোকাবিলার চেষ্টা চালাচ্ছে। বর্ষা-খরায় পড়ে আউশের আবাদ কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সামনে ধানের মূল আবাদ বোরা মৌসুম। বোরো মূলত সেচ নির্ভর ফসল। আর সেচ কাজে ডিজেল ও সার্বক্ষণিক বিদ্যুতের প্রয়োজন হবে। সে ব্যাপারে এখনই পরিকল্পনা কৌশল নির্ধারণ করতে হবে। বোরো আবাদ যাতে কোনোভাবেই বিঘিœত না হয় সে ব্যাপারে প্রস্তুতি এখন থেকেই নিতে হবে। খাদ্য নিরাপত্তায় চলতি আউস ও বোরোর আবাদ খুবই গুরুত্বপূর্ণ হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ