এসএসসি পরিক্ষার্থীকে দলগতধর্ষণের ঘটনায় ৫ জনকে গ্রেফতার

আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২২, ১১:০৭ অপরাহ্ণ

নাটোর প্রতিনিধি:


নাটোর শহরের হাফরাস্তা এলাকায় এসএসসি পরিক্ষার্থীকে দলগতধর্ষণের ঘটনায় তিন ধর্ষকসহ ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে শহরের হাফরাস্তা এলাকার সাগর মিয়ার ভাড়া বাসায় এঘটনা ঘটে। এছাড়া ধর্ষণের সহযোগিতার অভিযোগে মৃদুল হোসেন এবং তার স্ত্রী মিথিলা পারভীনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

গ্রেফতারকৃতরা হলো- শহরের কানাইখালী এলাকার আফজাল হোসেনের ছেলে রনি মিয়া, মৃত মোহাম্মদ আলীর ছেলে রকি এবং আব্দুল মজিদের ছেলে সোহান। এ ঘটনার সাড়ে চার ঘণ্টার মধ্যে তাদেরকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

পুলিশ ও এলাকাবাসীরা জানায়, মঙ্গলবার বিকেলে রাজশাহীর বিনোদপুর থেকে আরডিএ মার্কেটের কর্মচারী আবির হোসেন (২১) তার এসএসসি পরিক্ষার্থী প্রেমিকাকে নিয়ে নাটোরের হরিশপুর এলাকার বন্ধু মুহিনের বাসায় আসেন। পরে মুহিন বিয়ে দেওয়ার কথা বলে শহরের হাফরাস্তা এলাকায় মৃদুল ও মিথিলা দম্পতির বাসায় নিয়ে যান।

ওই দম্পতি ধর্ষক রনি, রকি ও সোহানকে সেখানে ডেকে নিয়ে আসে। এ সময় তারা দলবদ্ধভাবে ওই ছাত্রীকে গলায় চাকু ধরে ধর্ষণ করে এবং ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করে। পরবর্তীতে তাদের কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে তারা। টাকা না দিলে ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। পরবর্তীতে ধর্ষিতা এবং তার প্রেমিক ছাড়া পেয়ে রাত আনুমানিক ১১ টার দিকে নাটোর থানায় গিয়ে অভিযোগ করেন।

ঘটনার খবরে সঙ্গে সঙ্গে সক্রিয় হন নাটোর থানা পুলিশ। ওইদিন মঙ্গলবার রাতেই মিথিলা ও মৃদুলকে শহরের হাফরাস্তা এলাকার ভাড়া বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়। এছাড়া তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় বুধবার ভোররাতে সদর উপজেলার তেলকুপি নুরানীপাড়া থেকে তিন ধর্ষককে আটক করে পুলিশ। জড়িত অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

নাটোর সদর থানার এসআই জামাল উদ্দীন জানান, আমরা ধর্ষিতার অভিযোগ পাওয়ার পর পরই অভিযানে নামি। ঘটনার পর পরই শহরের হাফরাস্তা থেকে দুই সহযোগী এবং তেলকুপি নূরানীপাড়া থেকে তিন ধর্ষককে আটক করা হয়। তিন ধর্ষক শহরের চিহ্নিত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ এবং মাদক ব্যবসায়ী। তাদের বিরুদ্ধে নাটোর সদর থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। ধর্ষণের শিকার ওই ছাত্রীকে মেডিকেল পরীক্ষার জন্য নাটোর আধুনিক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।