এসএসসি পরিক্ষা: ৭ বছরে সর্বনিম্ন পাশের হার! পাশের হার ও বর্ধিত জিপিএ-৫ এ এগিয়ে মেয়েরা

আপডেট: নভেম্বর ২৯, ২০২২, ১:০৬ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক :


মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষায় রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে বিগত ৭ বছরের মধ্যে এবার পাসের হার সর্বনি¤œ। তবে আশার কথা হচ্ছে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে দ্বিগুনেরও বেশি। পাশের হার এবং জিপিএ-৫ উভয় ক্ষেত্রেই ছেলেদের থেকে এগিয়ে রয়েছে মেয়েরা। তবে সার্বিক ফলাফল বিশ্লেষণে রাজশাহীর শিক্ষাবিদরা বলছেন, করোনা মহামারীর কারণে এসএসসি পরিক্ষার ফলাফলের এমন চিত্র। অনলাইন ক্লাস কার্যক্রম তেমন একটা ফলদায়ক হয় নি। একইসঙ্গে বৈষম্যগুলোও স্পষ্ট হয়েছে। এ বিষয়ে নজরদারি বাড়াতে হবে।
রাজশাহীতে এবার এসএসসি পরিক্ষায় পাশের হার ৮৫. ৮৮ শতাংশ। যা গত বছরের তুলনায় ৮.৮৩ শতাংশ কম। আবার এবছর জিপিএ-৫ এর সংখ্যা ৪২ হাজার ৫১৭ জন। যা বিগত ৭ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। আর এক বছরের ব্যবধানে ১৪ হাজার ৮০৮ জন জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে। এবছর জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের মধ্যে ২৩ হাজার ৩৭৫ জন ছাত্রী এবং ১৯ হাজার ১৪২ জন ছাত্র। জিপিএ-৫ এ ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা এগিয়ে রয়েছে।
রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের অধীনে বিভাগের আট জেলায় এ বছর এসএসসি পরিক্ষায় অংশ নেয় ১ লাখ ৯৭ হাজার ৩১৪ জন শিক্ষার্থী। এরমধ্যে ২ হাজার ১৯০ জন শিক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন। বহিষ্কৃত হয়েছেন ১৮ জন। আর মোট পরিক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্রের সংখ্যা ১ লাখ ১ হাজার ২১০ এবং ছাত্রী ৯৩ হাজার ৯১৪ জন। এবার বিজ্ঞান শাখায় ৮৭ হাজার ৯৩৭ জন, মানবিকে ১ লক্ষ এবং ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় ৯ হাজার ৩৭৭ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়।
অংশ নেয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে পাস করেছে ১ লক্ষ ৬৭ হাজার ৫৮১ জন। যেখানে ছাত্রদের পাশের হার ৮৫.৬২ শতাংশ। আর ছাত্রীদের পাশের ৮৬.১৭ শতাংশ। অর্থাৎ ০.৫৫ শতাংশ এগিয়ে রয়েছে মেয়েরা।
গত বছর রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে পাশের হার ছিলো ৯৪. ৭১ শতাংশ। ২০২০ সালে পাশের হার ছিলো ৯০.৩৭ শতাংশ; যেখানে জিপিএ-৫ পেয়েছিলো ২৬ হাজার ১৬৭ জন, ২০১৯ সালে পাশের হার ছিলো ৯১.৬৪ শতাংশ; জিপিএ-৫ পেয়েছিলো ২২ হাজার ৭৯৫ জন, ২০১৮ সালে ছিলো ৮৬.০৭ শতাংশ; জিপিএ-৫ পেয়েছিলো ১৯ হাজার ৪৯৪ জন, ২০১৭ সালে ছিলো ৯০.৭০ শতাংশ; জিপিএ-৫ পেয়েছিলো ১৭ হাজার ৩৪৯ জন এবং ২০১৬ সালে ছিলো ৯৫.৭০ শতাংশ; জিপিএ-৫ পেয়েছিলো ১৭ হাজার ৫৯৪ জন।
রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে পাশের হারে এমন ভাটা পড়ায় উদ্বিগ্নতা প্রকাশ করেছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্টরা।
শিক্ষা বোর্ড কর্মকর্তারা জানান, করোনার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে এসএসসি পরীক্ষার পাশের হারে। অনলাইন ক্লাস খুব বেশি ফলপ্রসু হয় নি। তবে করোনা মহামারীকালীন পরিস্থিতি বিবেচনায় পাশের হার স্বাভাবিক রয়েছে বলে মনে করছেন রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের সচিব মো. হুমায়ূন কবীর।
তিনি বলেন, মোট পাশের হার কমার পেছনে মূল কারণ হলো করোনা। করোনার কারণে শিক্ষার্থীরা ক্লাস করতে পারে নি। আর অনলাইন ক্লাস তেমন একটা কাজে দেয় নি। আর আমাদের মোট পাশের হার কমলেও জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা বিগত বছরগুলোর তুনলায় অনেক বেড়েছে। তবে তিনি শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, করোনার এই নেতিবাচক প্রভাবের কারণে এবার এইচএসসি পরিক্ষাতেও খারাপ প্রভাব পড়তে পারে। তবে তা কাটিয়ে উঠতে তারা সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
২০২১ সালের করোনা কালীন সময়ে ফলাফল ভালো হলেও ২০২২ সালে করোনা পরবর্তী সময়ে সার্বিক ফলাফলে এমন দুরাবস্থার কারণ সম্পর্কে তিনি জানান, ২০২১ সালে শিক্ষার্থীদের সিলেবাস কম ছিলো। পাশের নম্বর কমানো হয়েছিলো। একারণে সে সময় আসল চিত্রটা ফুটে উঠে নি। যেটা এবারের ফলাফলে ফুটে উঠেছে।
ফলাফলের সার্বিক বিষয়ে রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আব্দুল খালেক জানান, এবারের এসএসসি পরিক্ষার রেজাল্টে করোনার নেতিবাচক দিকটিকে স্পষ্ট করেছে। করোনার মধ্যে শিক্ষার্থীরা সঠিক পরিচর্যা পায় নি। অনলাইন ক্লাসের ব্যবস্থা করা হলে শহরের প্রতিষ্ঠানগুলো হয়তো তা কার্যকরভাবে করতে পেরেছে। কিন্তু উপজেলা পর্যায়ের প্রতিষ্ঠাগুলোতে যে তা সম্ভব হয় নি নানা প্রতিবন্ধকতায় তা সবারই জানা। এদিক দিয়ে কিছু বৈষম্যও স্পষ্ট হয়েছে এটা বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে এ বিষয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সংশ্লিষ্টদের নজরদারি আরও বাড়াতে হবে।
উল্লেখ্য, রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের অধীনের আটটি জেলার মধ্যে বগুড়া জেলা এগিয়ে রয়েছে। বগুড়ায় পাশের হার ৮৮.৩৪ শতাংশ, রাজশাহী জেলায় ৮৪.৪৬ শতাংশ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় ৮৫.০৭ শতাংশ, নাটোরে ৮২.৪৮ শতাংশ, নওগাঁয় ৮৬.৭৮ শতাংশ, পাবনায় ৮৪.৫৬ শতাংশ, সিরাজগঞ্জে ৮৬.৬৯ শতাংশ এবং জয়পুরহাটে ৮৮.০৫ শতাংশ।