এসডিজি বাস্তবায়নে জেলা বাজেট উন্নয়নের সর্বস্তরে জনগণ সম্পৃক্ত হবে

আপডেট: জুলাই ২৭, ২০২০, ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ

জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) বাস্তবায়নে জেলা পর্যায় বাজেট থাকা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। ২৫ জুলাই পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট সলিউশনের সদ্য প্রকাশিত ‘টেকসই উন্নয়ন প্রতিবেদন-২০২০’ নিয়ে এক ওয়েবিনার আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।
পরিকল্পমন্ত্রীর এই পরামর্শ পাঁচ দশক ধরে দাবি ও পরামর্শ হিসেবে চলে আসছে। ওই দাবি এতোই সঙ্গত যে, দেশের সংবিধান তার নিশ্চয়তা বিধানে নির্দিষ্ট করা আছে। তারপরও স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার ক্ষমতায়ন হয় নিÑ যেখান থেকে জেলা বাজেটের সূত্রপাত হতে পারতো। সরকার তার রাজনৈতিক দর্শন বাস্তবায়নের জন্য বাজেট তৈরি করবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু ওই বাজেট প্রস্তাবনা দেশের কতসংখ্যক মানুষের জন্য, সেখানে জনমানুষের সম্পৃক্ততা কেমন হবেÑ সেটা একটি বৃহত্তর প্রশ্ন বটে। বাজেট বাস্তবায়নের পথ ধরেই দেশের উন্নয়ন হবে। কিন্তু সেই উন্নয়নের সাথে দেশের মানুষের কোনো সম্পর্ক না থাকলে সেটা প্রকৃত উন্নয়নের অভীধায় পড়ে কি? একটি গ্রামে রাস্তা বানাতে হলে বা একটি প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা বা শিক্ষার ব্যবস্থা করতে গেলে রাজধানীতে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। প্রতিটি নিয়ন্ত্রণবিধি ঢাকা থেকে শুধু উদ্ভূত নয় তার কার্যকরি প্রয়োগও হয় কেন্দ্রে। কেন্দ্রীয় সরকারে যে ব্যবস্থা তাতে প্রতিটি বিষয় নানা আমলাতান্ত্রিক স্তরে বারবার বিবেচিত হয়ে, অন্ততপক্ষে প্রায় ডজনখানেক ঘাট পেরিয়ে তবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ সম্ভব হয়। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, দেশের উন্নয়ন প্রক্রিয়াটা এমন জটিলই। আর উন্নয়ন সেটা জটিল প্রক্রিয়ার মধ্যে পড়ে বিলম্বিত সময় অতিবাহিত হয়, ব্যয় বাড়ে বহুগুণ এবং ব্যাপকভাবে দুর্নীতির সুযোগ থাকে।
ক্ষমতা বিকেন্দ্রীয়করণ করে স্থানীয় সরকারকে উৎপাদন ও উন্নয়ন দর্শনের প্রতিশ্রুতি বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের। দলটি ২০০৯ সালে নির্বাচনি ইশতেহারের ৬ নং অনুচ্ছেদে ‘অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ’ কর্মসূচি হিসেবে ‘স্থানীয় সরকারকে’ চিহ্নিত করে বলা হয়েছিল: “ক্ষমতার বিকেন্দ্রায়ণ করে ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পরিষদকে শক্তিশালী করা হবে। জেলা পরিষদকে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আইন-শৃংখলা ও সকল প্রকার উন্নয়নমূলক কর্ম-পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে। প্রতিটি ইউনিয়ন সদরকে স্থানীয় উন্নয়ন ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু, পরিকল্পিত পল্ল¬ী জনপদ এবং উপজেলা সদর ও বর্ধিষ্ণু শিল্পকেন্দ্রগুলোকে শহর-উপশহর হিসেবে গড়ে তোলা হবে।” এ ছাড়াও নির্বাচনি ইশতেহারের পাশাপাশি প্রচারিত ‘আওয়ামী লীগের রূপকল্প (ভিশন ২০২১)’ দলিলের দুই নং ধারায় (যার শিরোনাম: রাজনৈতিক কাঠামো, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ ও গণঅংশায়ন) উল্লে¬খ করা হয়েছে: “স্থানীয় সরকারকে প্রাধান্য দিয়ে রাজনৈতিক কাঠামোতে আমূল পরিবর্তন সাধন করা হবে। উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নিয়ামক ভূমিকা পালন করবে স্থানীয় সরকার। এ উদ্দেশে জেলা ও উপজেলার স্থানীয় সরকারকে স্বনির্ভর ও স্বশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা হবে।”
সংবিধান মোতাবেক শক্তিশালী স্থানীয় সরকার এখন সময়ের দাবি। গত পাঁচ দশকে শক্তিশালী স্থানীয় সরকার বিষয়ক গবেষণা, আলোচনা ও আন্দোলনের মূল প্রতিপাদ্য ছিল প্রশাসনিক বিকেন্দ্রিকরণ। এক্ষেত্রে প্রশাসনিক ক্ষমতার বিকেন্দ্রিকরণের পাশাপাশি জাতীয় বাজেট ও উন্নয়ন পরিকল্পনার বিকেন্দ্রিকরণের বিষয়টি বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতিরই অংশ। এর আগের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত জেলা বাজেটের একটা রূপরেখাও পেশ করেছিলেন। দুটি জেলা মডেল করে জেলা বাজেট ঘোষিত হয়েছিল। কিন্তু পরে বিষয়টি আর এগোয় নি। পরিকল্পনা মন্ত্রী জেলা বাজেটের গুরুত্ব বুঝে আবারো বিষয়টি সামনে এনেছেন। তিনি জেলা বাজেটের সাথে এসডিজি বাস্তবায়নের গুরুত্ব অনুধাবন করেছেন। আমরাও বিশ্বাস করি যে, টেকসই উন্নয়ন সফলতার জন্য শক্তিশালী স্থানীয় সরকারই অধিক গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যময়। উন্নয়নের সর্বস্তরে জনগণই সম্পৃক্ত হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ