ঐক্যবদ্ধ ভারত চাননি মহম্মদ আলি জিন্না, পাক বংশোদ্ভুত লেখকের বইতে চাঞ্চল্যকর দাবি

আপডেট: September 14, 2020, 9:14 pm

সোনার দেশ ডেস্ক:


সম্প্রতি নেহেরু বিরোধী হাওয়া বেশ কিছু নতুন তথ্য দিচ্ছে। একাংশের মতে ভারত ভাগের পিছনে মাস্টার মাইন্ড ছিল ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জহরলাল নেহেরুর। অনেকেই এই বক্তব্যে সমর্থন জানাচ্ছেন। পাকিস্তানের জনক মহম্মদ আলি জিন্নার সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে তিনিও ভারত ভাগে সমান উৎসাহ দিয়েছিলেন।
তবে এই তত্ব পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছেন ইশতিয়াখ আহমেদ। ইশতিয়াখ পাক বংশোদ্ভুত সুইডিশ রাজনৈতিক গবেষক। সম্প্রতি নিজের নতুন বইJinnah: His Successes, Failures and Role in History-তে জিন্নাকেই ভারত ভাগের জন্য পুরোপুরি দায়ী করেছেন তিনি। তাঁর দাবি পাকিস্তানের জনক জিন্না কখনও চাননি ভারত ঐক্যবদ্ধ থাকুক। ভারত বিভক্ত হওয়ার শেষ দিন পর্যন্ত মহাত্মা গান্ধী ও জহরলাল নেহেরু তাঁর মত পরিবর্তনের চেষ্টা চালিয়ে ছিলেন। কিন্তু ব্যর্থ হন। ইশতিয়াখের বক্তব্য নিজের স্বার্থের জন্য ধর্মের ভিত্তিতে ভারত ও পাকিস্তান দুটি দেশ হয়ে গিয়েছিল।
ইশতিয়াখ আহমেদ জানাচ্ছেন জিন্না ধর্মের ভিত্তিতে ভেদাভেদে বিশ্বাসী ছিলেন। কংগ্রেসকে বেকায়দায় ফেলার কোনও সুযোগই নষ্ট করেননি তিনি। একাধিকবার কংগ্রেসকে হিন্দু পার্টির তকমা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন জিন্না। মহাত্মা গান্ধীকে বর্ণহিন্দু বলে আখ্যা দিয়েছেন তিনি। ইশতিয়াখ তাঁর বইয়ে লিখেছেন ১৯৪০ সালের ২২শে মার্চের কথা। লাহোরে দাঁড়িয়ে জিন্নার বক্তব্য তুলে ধরেছেন তিনি।
ইশতিয়াখ আহমেদ জানাচ্ছেন জিন্না নিজের বক্তব্যে বলেছিলেন ঐক্যবদ্ধ ভারতের বিপক্ষে। মুসলিম লিগও তাতে সমর্থন জানিয়েছিল। এই বিষয়ে একটি রেজোলিউশনও পাশ হয়ে যায় ওই মাসেরই ২৪ তারিখ।
অন্যদিকে পাকিস্তানি-আমেরিকান ইতিহাস গবেষক আয়েশা জালাল জানাচ্ছেন জিন্না কংগ্রেসের সঙ্গে ক্ষমতা বন্টনের বা ভাগাভাগিতে রাজি ছিলেন না। ১৯৩০ সালের শুরু থেকেই ভারত ভাগের পরিকল্পনা ছকে রেখেছিলেন তিনি। তিনি ভেবেছিলেন ব্রিটিশ রাজ যখনই ভারত ত্যাগ করুক না কেন, কেন্দ্রে ক্ষমতায় যিনি বসবেন, তার সঙ্গে ভাগাভাগি করতে হবে গদি। এই সমীকরণে রাজি ছিলেন না তিনি। ফলে পাকিস্তানের জন্ম। যেখানে সর্বেসর্বা ছিলেন জিন্না।
প্রায় একই কথা বলেন ইশতিয়াখ আহমেদ। তাঁর বইতে তিনি বলেন নিজের বক্তব্যে, ভাষণে ভারত ভাগের ভাবনাই তুলে ধরতে চেয়েছিলেন জিন্না। ভারত যাতে ঐক্যবদ্ধ না হয়, তার জন্য সবরকম চেষ্টা করেছিলেন তিনি। আর সেই কাজে সাফল্যও পেয়েছিলেন।
তথ্যসূত্র: kolkata24x7