ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ দিবস’র আলোচনায় মেয়র লিটন অনেক ত্যাগ ও তিতিক্ষার ফসল এ দেশ

আপডেট: মার্চ ৭, ২০২১, ৯:৩৩ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


ঐতিহাসিক ৭ মার্চ দিবস উদযাপন উপলক্ষ্যে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র বলেন, অনেক ত্যাগ ও তিতিক্ষার ফসল এ দেশ। যে দেশটি স্বাধীনতা অর্জনে অনেক রক্তবন্যা বয়েছে। এ দেশটাকে নানাভাবে শোষণ করা হয়েছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালে ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে বাঙালি জাতিকে প্রস্তুত থাকার আহবান জানিয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর সেই আহ্বান ও পরবর্তীতে স্বাধীনতার ঘোষণার মাধ্যমে বীর বাঙালিরা মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ে বিজয় অর্জন করে।
রোববার (৭ মার্চ) দুপুরে নগরভবনের সিটি হল সভাকক্ষে এ আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সিটি মেয়র আরো বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যা করে দেশকে পুনরায় পাকিস্তান বানানোর অপচেষ্টা চালানো হয়েছিল। তবে নানা লড়াই সংগ্রাম পেরিয়ে পরবর্তীতে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পান বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের মহাসড়কে। দেশ আজ উন্নয়নশীল দেশের কাতারে শামিল হয়েছে। জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধা দারিদ্রমুক্ত ও সুখী সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়ে তুলতে হবে। মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে এদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখতে হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের প্রফেসর ড. শাহ আজম শান্তনু বলেন, ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ বাঙালি জাতির মুক্তিসংগ্রাম ও স্বাধীনতার ইতিহাসে একটি অবিস্মরণীয় দিন। ১৯৭১ সালের এ দিনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রেসকোর্স ময়দানে যে কালজয়ী ভাষণ দিয়েছিলেন বাঙালির জন্য তা ছিল মুক্তির ডাক। এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। যা ছিল মূলত স্বাধীনতার ডাক।
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ পৃথিবীর কালজয়ী ভাষণগুলোর অন্যতম। এই মহামন্ত্র মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে বাঙালি জাতিকে উৎসাহিত করে। রেসকোর্স ময়দানে ১৮ মিনিটের সেই কালজয়ী ভাষণ সমগ্র জাতিকে উজ্জীবিত করে। ১৯৭১ সালের সেই ৭ মার্চের সেই ভাষণটি মুক্তির সনদ। ইউনেস্কো বঙ্গবন্ধুর সেই ভাষণটিকে ২০১৭ সালে ওয়ার্ল্ড ডকুমেন্টরি হেরিটেজের মর্যাদা দিয়ে মেমোরি অব দি ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টারে এ অন্তর্ভুক্ত করেছে। এটি বাঙালি জাতির জন্য গর্বের বিষয়। ঐতিহাসিক সেই ভাষণের ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু ঘোষণা করেন স্বাধীনতার। অকুতোভয় এ নেতার নেতৃত্ব অদম্য সাহসে বাঙালি জাতিকে মুক্তি সংগ্রামের জন্য আহবান জানানো হয়েছে।
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর আজন্মলালিত স্বপ্ন স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ বিনির্মাণের। জাতির পিতার স্বপ্ন ক্ষুধা দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলছেন তারই সুযোগ্যকন্যা আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই অগ্রযাত্রায় সকলকে শামিল হতে হবে।
আলোচনা সভা ও ভাষণ প্রচার উপ-কমিটির আহবায়ক রাসিকের ১৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল মমিনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন রাসিকের প্যানেল মেয়র-২ ও ১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর রজব আলী, ৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কামরুজ্জামান, ১৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর তৌহিদুল হক সুমন, ২২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল হামিদ সরকার টেকন, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. এবিএম শরীফ উদ্দিন, রাসিক কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আজমির আহম্মেদ মামুন। অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন, রাসিকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান মিশু।
বক্তব্য শেষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তাঁর পরিবারের শহিদ সদস্য, শহিদ এ.এইচ.এম কামারুজ্জামানসহ জাতীয় চার নেতা ও মহান মুক্তিযুদ্ধে শহিদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন, নগরভবন মসজিদের পেশ ইমাম আবুল খায়ের।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, ৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কামাল হোসেন, ৮ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর এসএম মাহাবুবুল হক পাভেল, ১১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর রবিউল ইসলাম তজু, ১৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আনোয়ার হোসেন, ১৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুস সোবহান, ১৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর বেলাল আহমেদ, ১৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শহিদুল ইসলাম, ২০নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর রবিউল ইসলাম, ২৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর তরিকুল আলম পল্টু, ২৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আকতারুজ্জামান,২৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আশরাফুল হাসান বাচ্চু, ২৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাসুদ রানা, সংরক্ষিত নারী আসনের কাউন্সিলর আয়েশা খাতুন, মুসলিমা বেগম বেলী, মাজেদা বেগম, নাদিরা বেগম।
অনুষ্ঠানে মেয়রের উপদেষ্টা আজাহার আলী, রাসিকের ভারপ্রাপ্ত সচিব আলমগীর কবির, প্রধান প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী নুর ইসলাম তুষারসহ রাসিকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। শেষে প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ করা হয়। প্রতিযোগিতায় ক বিভাগে রাফছান সানী সিফাত প্রথম স্থান, ফাতেমাতুজ জোহুরা আয়রা দ্বিতীয় স্থান ও আব্দুল্লাহ আল হাসান আরাফ তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে। তাদের সনদপত্র ও পুরস্কার তুলে দেন সিটি মেয়র।