‘ওবামাকেয়ার’ বাতিলের পথে পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের

আপডেট: জানুয়ারি ১৪, ২০১৭, ১১:৫৯ অপরাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


ওবামাকেয়ার নামে পরিচিত প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার পরিচয়বাহী স্বাস্থ্যসেবা আইন বাতিলের পথে প্রথম পদক্ষেপ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ।
অ্যাফোর্ড্যাবল হেলথ কেয়ার অ্যাক্ট-২০১০, যা ওবামাকেয়ার নামে পরিচিত, বাতিলের জন্য ২৭ জানুয়ারির মধ্যে খসড়া আইন প্রস্তাবের জন্য চারটি নির্দেশনা কমিটি গঠনের প্রস্তাব শুক্রবার প্রতিনিধি পরিষদে ২২৭-১৯৮ ভোটে পাস হয়েছে, জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।  এর আগে বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্র সিনেটও একই প্রস্তাব অনুমোদন করে।
প্রতিনিধি পরিষদের কোনো ডেমোক্রেট সদস্য নির্দেশনা কমিটি গঠনের প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয়নি। নয় রিপাবলিকান সদস্যও এর বিপক্ষে ভোট দেয়।
এই প্রস্তাব পাসের মাধ্যমে ওবামাকেয়ার বিলুপ্ত করতে নিজেদের দেয়ার প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন শুরু করল রিপাবলিকানরা। যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট রিপাবলিকান দলীয় ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলোর মধ্যেও এটি বাতিলের কথা ছিল।
ওবামাকেয়ার বাতিলের প্রস্তুতি গ্রহণ করা শুরু হলেও এর বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় কংগ্রেসের রিপাবলিকান ও ডেমোক্রেট, উভয় দলীয় সদস্যরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, জানিয়েছে বিবিসি।
ওবামাকেয়ারের আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের দুই কোটিরও বেশি নাগরিক চিকিৎসা সেবার আওতায় এসেছিল। এখন রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের খেলায় তা বাতিল হলে এদের কী হবে তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার ক্ষমতা ছাড়ার সপ্তাহখানেক আগে গ্রহণ করা পদক্ষেপটি ওবামার জন্য একটি বিপর্যয়, কিন্তু এই বিপর্যয় সামাল দেয়ার সময় আর নেই তার। ২০ জানুয়ারি ক্ষমতার পালাবদলে ট্রাম্পের হাতে ক্ষমতা তুলে দিয়ে বিদায় নিবেন ওবামা।
প্রতিনিধি পরিষদের ভোটাভুটির পর দেওয়া এক বিবৃতিতে পরিষদের স্পিকার রিপাকলিকান পাল রায়ান বলেন, “ওবামাকেয়ার বাতিলের পথে প্রথম পদক্ষেপ নেয়ার মাধ্যমে এই আইনটি যেসব সমস্যা তৈরি করেছিল তা থেকে আমেরিকানদের মুক্তি দেওয়ার দিকে এগিয়েছি আমরা।
“ধাপে ধাপে সমস্যাগুলোর ঠিক করার পথ দেখাবে এই পদক্ষেপ এবং তা আমেরিকানদের স্বাস্থ্যসেবার নিয়ন্ত্রণ তাদের নিজেদের হাতে তুলে দেবে।”
চাকরির সুযোগ-সুবিধার মধ্যে চিকিৎসা সেবার সুযোগ নেই যুক্তরাষ্ট্রের এমন লাখ লাখ মানুষ ওবামাকেয়ারের মাধ্যমে হ্রাসকৃত মূল্যে স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ পেয়েছিলেন। এটি অসুস্থ ও বয়স্কদের চিকিৎসা বাবদ খরচের রাশ টেনে ধরেছিল এবং ইতোমধ্যেই অসুস্থ হয়ে পড়া লোকদের ইন্স্যুরেন্সের আওতা নেয়ার জন্য কোম্পানিগুলোকে বাধ্য করেছিল।  কিন্তু বাড়তে থাকা প্রিমিয়াম, বাড়তি ফিসের কারণে কিছু সমস্যাও তৈরি করেছিল।- বিডিনিউজ