ওবায়দুল কাদেরের আগমনে চাঙা আ’লীগ || ১৮ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী বিভাগীয় কর্মী সমাবেশ

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০১৭, ১২:০৬ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক



আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের রাজশাহীতে আগমন উপলক্ষে নেতাকর্মীরা চাঙা হয়ে উঠেছেন। দলের সাধারণ সম্পাদকসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের আগমনকে কেন্দ্র করে চলছে সাংগঠনিক তৎপরতা। ইতোমধ্যে জেলা ও মহানগর আওযামী লীগ ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। চলছে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় বৈঠক। নেতৃবৃন্দ বলছেন, তারা বিভিন্ন থানা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। নেতাকর্মীরা উজ্জ্বীবিত হয়েছেন। সকলেই রাজশাহী বিভাগীয় কর্মী সমাবেশ সফল করার জন্য একযোগে কাজ করছেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৮ ফেব্রুয়ারি শনিবার সকাল দশটায় রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে রাজশাহী বিভাগীয় কর্মী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এ সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। দলের যুগ্মসম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানকের সভাপতিত্বে সমাবেশ পরিচালনা করবেন সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। সমাবেশে সংগঠনের অপর সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুর রহমানসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত থাকবেন। এছাড়া অংশ নেবেন, রাজশাহী বিভাগের আট জেলার সাংসদরা।
কর্মী সমাবেশের সার্বিক প্রস্তুতির ব্যাপারে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও রাজশাহী মহানগর সভাপতি এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, সমাবেশ সফল করার জন্য ইতোমধ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। মহানগর ও জেলার সমন্বয় সভা করা হয়েছে। নগরীর সাংগঠনিক ৩৭টি ওয়ার্ড ও ৫টি থানার নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে। থানা ও ওয়ার্ডের নেতারা তাদের আওতাধীন নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। সমাবেশ সফল করতে তৃণমূলের কর্মীদের উদ্বুদ্ধ করছেন। নেতাকর্মীরাও সমাবেশ সফল করার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিয়েছেন। আশা করছি, নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সমাবেশ আওয়ামী পরিবারের মিলন মেলায় পরিণত হবে।
এদিকে বিভাগীয় কর্মী সমাবেশকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা। নেতাদের আহবানে সাড়া দিয়ে তৃণমূল নেতাকর্মীরা সমাবেশ সফল করার জন্য কাজ শুরু করেছেন। নগরীর ছয় নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি সোহেল রানা বাবু বলেন, আমরা ওয়ার্ড পর্যায়ে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। ইতোমধ্যে বেশ কয়েক দফা বৈঠকও করা হয়েছে। এছাড়া ‘ম্যান টু ম্যান’ কথা বলেছি আমরা। আমার ওয়ার্ডের সকল কর্মী ও সমর্থকরা সমাবেশে যোগ দেবেন। আমরা আশা করছি, সমাবেশ সফল হবে।
গোদাগাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বদিউজ্জামান বলেন, ইতোমধ্যে আমরা উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা করেছি। ইউনিয়ন পর্যায়েও সভা হয়েছে। ইউনিয়ন নেতারা ওয়ার্ডে পর্যায়ে যোগাযোগ করেছেন। দলের সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের প্রতি কর্মী-সমর্থকদের আগ্রহ রয়েছে। বিশেষ করে উনার বক্তব্য শোনার জন্য নেতাকর্মীরা অপেক্ষায় রয়েছেন। আর এ কারণেই কর্মীসমর্থকরা স্ব-ইচ্ছায় সমাবেশে যোগ দেবেন।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, সমাবেশকে সফল করার জন্য জেলার নয়টি উপজেলা এবং চারটি পৌরসভায় ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। এর আগে দলের সম্পাদক বিভাগীয় পর্যায়ে কর্মী সমাবেশ করেন নি। এছাড়া ওবায়দুল কাদের দলের কর্মী এবং সমর্থকদের কাছে অত্যন্ত শ্রদ্ধাভাজন। তিনি আওয়ামী লীগের ‘ক্যারিশম্যাটিক’ নেতা। তার আগমন উপলক্ষে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। তাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে উচ্ছ্বাস। আমরা আশা করছি, সমাবেশ সফল হবে।
অপরদিকে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার বলেন, নগরীর ৫টি সাংগঠনিক থানা এবং ৩৭টি ওয়ার্ডের নেতাকর্মীদের নিয়ে মহানগর আওয়ামী লীগ বর্ধিত সভা করেছে। বর্ধিত সভায় সমাবেশ সফল করার জন্য সভাপতি এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন।  পাশাপাশি ইতোমধ্যে প্রত্যেকটি ইউনিটের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। নেতাকর্মীদের সাড়াও ব্যাপক। ১৮ ফেব্রুয়ারি সমাবেশের দিন ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দান কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতিতে সরব থাকবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ