ওবায়দুল কাদেরের রাজশাহী সফর || কর্মী-সমর্থকরা কী পেল?

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২০, ২০১৭, ১২:০৬ পূর্বাহ্ণ

কঠোর পরিশ্রমী ও স্পষ্টবাদী মন্ত্রী হিসেবে ইতোমধ্যেই দেশবাসীর নজর কেড়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এখন পর্যন্ত তাঁকে নিয়ে কোনো ধরনের বিতর্ক শোনা যায় নি। ওবায়দুল কাদের একেবারে ছাত্রলীগ কর্মী থেকে আওয়ামী লীগের মত একটি বৃহত্তর সংগঠনের সাধারণ সম্পাদকের পদে আসীন হয়েছেন। দলের প্রতি তাঁর অনুগত্য, ত্যাগ ও অঙ্গীকার প্রশ্নাতীত। তিনি সরকারের মধ্যে, সংগঠনের মাঠে ময়দানে সর্বত্রই তাঁর সরব উপস্থিতি লক্ষণীয়। ভারতের পশ্চিসবঙ্গের একটি চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় চরিত্র ‘ফাটাকেস্ট’ হিসেবেও জনাব ওবায়দুল কাদেরকে অবহিত করা হয়ে থাকে। ওই চলচ্চিত্রের ফাটাকেস্টোর প্রাণচাঞ্চল্য, কর্মচাঞ্চল্য, সততা, নিষ্ঠা ও দেশপ্রেমর জন্য চলচ্চিত্রমোদিদের সমর্থন আদায় করতে সক্ষম হয়েছে। জনাব ওবায়দুল কাদের যা বলছেন দেশের মানুষ তা কৌতুহল নিয়ে শুনছেন, বিচার বিশ্লেষণ করছেন এবং আশান্বিত হচ্ছেন।
শুক্র ও শনিবার দুইদিন রাজশাহী সফর করে গেলেন ওবায়দুল কাদের। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে এটা তাঁর প্রথম রাজশাহী সফর। দলীয় কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে এ নিয়ে প্রাণচাঞ্চল্য ও কৌতুহল ছিল ব্যাপক। কর্মী সমাবেশে তিনি আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রেখে গেছেন। সারা দেশের কর্মীসমর্থকদের উদ্দেশ্যে তিনি একই কথা বলছেন। যা বলছেন- তা দলের জন্য, দেশের জন্য, অসাম্প্রদায়িক ও কল্যাণকামী রাষ্ট্র গঠনের বাতারণ তৈরির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং পালনীয়।
তিনি আওয়ামী লীগ কর্মী-সমর্থকদের হুশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, বিএনপি দল হিসেবে দুর্বল হলেও তাদের সমর্থন কিন্তু দুর্বল নাই। ভোটের রাজনীতিতে বিএনপিকে তুচ্ছ করে দেখার উপায় নেই।  সংবিধান অনুযায়ী ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এইজন্য তিনি নেতাকর্মীদের সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানান।
ওবায়দুল কাদের স্পষ্টতই বলেছেন, আওয়ামী লীগে জনপ্রিয় গড ফাদার চাইনা, জনপ্রিয় লিডার চাই। দলে অনুপ্রবেশকারী পরগাছাদের কোনো স্থান নেই। যারা নিজেদের দল ভারী করার জন্য আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারীদের আনেন তারা সাবধান হয়ে যান। আর যারা দলে থেকে অপকর্ম করেন তারাও সংশোধন হয়ে যান। আমরা যারা ক্ষমতায় আছি তারা কর্মীদের ব্যবহার করি। সমস্যা কর্মীদের মধ্যে না, সমস্যা হচ্ছে আমরা যারা নেতা তাদের মধ্যে। তাই আপনারা যারা কর্মী হিসেবে কাজ করছেন তারা কখনো কারো স্বার্থ রক্ষার পাহারাদার হিসেবে কাজ করবেন না।
তিনি নেতাদের উদ্দেশ্যে বলেন, কোথাও কোনো পকেট কমিটি করবেন না। তৃণমূল পর্যায়ে ত্যাগী নেতাদের নিয়ে কমিটি করবেন। দুঃসময়ে যারা দলের জন্য কাজ করেছেন তাদের নিয়ে কমিটি করুন। দল ক্ষমতায় এসে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এই দেশের প্রভূত উন্নয়ন হয়েছে। উন্নয়নের মহাসড়কে এগিয়ে চলেছে দেশ। উন্নয়ন নিয়ে আমাদের আর মাথা ব্যথা নেই। উন্নয়ন আরো হবে। এখন শুধু আমাদের আচরণের উন্নয়ন করতে হবে।
জনাব ওবায়দুল হক যা সারা দেশে বলে বেড়াচ্ছেন দেশের মানুষ তো আওয়ামী লীগকে তেমনি দেখতে চায়। মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী সংগণের কাছে সেটাই প্রত্যাশা। কিন্তু জনাব কাদেরের কথা শুধু কথার মধ্যেই যাতে সীমাবদ্ধ না থাকে, সেটাও দেশের মানুষের প্রত্যাশা। আগামী নির্বাচনেই তাঁর বক্তব্য ও প্রতিশ্রতির প্রমাণ দেশের মানুষের কাছে উত্থাপন করতে হবে। কেননা দেশের মানুষ আওয়ামী লীগের কাছ থেকেই দেশের জন্য, মানুষের জন্য কল্যাণকর নেতৃত্বই কামনা করে। বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া সংগঠন আওয়ামী লীগের কাছ থেকে চাওয়া একটু বেশিই হবে এটাই স্বাভাবিক। নিশ্চয় বঙ্গবন্ধু কন্যার সাথে জনাব কাদেরের যে দ্বৈরথ শুরু হয়েছে তা মানুষের সার্বিক কল্যাণে মুক্তিযুদ্ধের পরিপূর্ণ চেতনার এক নতুন বাংলাদেশের অভ্যুদয় হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ