ওমিক্রণ প্রতিরোধে ‘বুস্টার ডোজ’ দিচ্ছে খুব ভালো ফল জেলা পর্যায়ের করোনা প্রতিরোধ কমিটির পর্যালোচনা

আপডেট: জানুয়ারি ২৮, ২০২২, ১২:৩৭ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


রাজশাহীতে আবারও উর্ধ্বমুখী করোনা সংক্রমণ। চোখ রাঙাচ্ছে নতুন ভ্যারিয়েন্ট ‘ওমিক্রণ’। যা নিয়ে উদ্বিগ্নতা প্রকাশ করছেন স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা। তবে আশার কথা হলো- ওমিক্রণ প্রতিরোধে খুব ভালো ফল দিচ্ছে ‘বুস্টার ডোজ’। এতে সংক্রমণ বাড়লেও সরকারের ভ্যাক্সিনেশন কার্যক্রমের আওতায় আসা ব্যক্তিদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ায় ওমিক্রণ তেমন একটা সুবিধা করতে পারছে না। বিশেষ করে যেসব ব্যক্তি ‘বুস্টার ডোজ’ নিয়েছেন তাদের ওমিক্রণে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কম। ওমিক্রণ সংক্রমণের পর রাজশাহীর করোনা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে এমন কথা জানিয়েছেন, রাজশাহী জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটি।

রাজশাহীতে করোনা সংক্রমণ ও প্রতিরোধসহ সার্বিক ব্যবস্থাপনায় গঠিত জেলা পর্যায়ের কমিটির সভায় করোনা প্রতিরোধে ভ্যাক্সিনেশন কার্যক্রমের বুস্টার ডোজের ইতিবাচক ফলাফলের কথা জানিয়ে রাজশাহী জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল বলেন, ভ্যাকসিন শরীরকে শেখায় কিভাবে কোভিডের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে। কিন্তু ওমিক্রণ মোকাবেলায় বিদ্যমান ভ্যাকসিন যথাযথভাবে কাজ না করলেও বুস্টার ডোজ ইতিবাচক ফল দিচ্ছে। বুস্টার ডোজের মাধ্যমে অধিক এন্টিবডি তৈরি হয়ে করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব। কারণ অধিক এন্টিবডি ভাইরাসকে নতুন সেলে প্রবেশে বাঁধা দেয়।

তিনি আরও বলেন, করোনা ভাইরাসের ওমিক্রণ ভ্যারিয়েন্ট কিংবা কোভিডের মারাত্মক অসুস্থতায় আশানুরুপ প্রতিরোধ সক্ষমতা রয়েছে বুস্টার ডোজে। সবকিছু পর্যালোচনা করেই করোনার লাগাম টানতে এরমধ্যেই রাজশাহীতে বুস্টার ডোজ শুরু হয়েছে। যারা বুস্টার ডোজ নিয়েছেন তাদের ওমিক্রণ আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি খুবই কম। আবার এরা আক্রান্ত হলেও গুরুতর শারীরিক জটিলতা দেখা দেওয়ার সম্ভাবনারও কম।

জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল আরও বলেন, তিনি নিজে বুস্টার ডোজ নিয়েছেন। গত কিছুদিন আগে তিনি করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। বুস্টার ডোজের কারণে দ্রুত সময়ের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন। এছাড়া গুরুতর তেমন শারীরিক জটিলতারও তৈরি হয় নি।
রাজশাহী সিভিল সার্জন ডা. আবু সাইদ মোহাম্মদ ফারুক বলেন, বর্তমানে করোনা প্রতিরোধে ভ্যাক্সিনেশন কার্যক্রমকে বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। কারণ এটা সংক্রমণ প্রতিরোধে অন্যতম প্রধান হাতিয়ার। আমাদের কাছে পর্যাপ্ত পরিমাণ টিকা মজুদ আছে। বুস্টার ডোজ ভালো ফল দিচ্ছে। এটি করোনা আক্রান্ত রোগীর মারাত্মক শারীরিক জটিলতা রুখে দিতে বেশ কার্যকর।

রাজশাহীতে এ পর্যন্ত ১৯ লাখ ৫৩ হাজার ২৫৪ জন প্রথম ডোজের ভ্যাক্সিন নিয়েছেন। দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন ১২ লাখ ২৭ হাজার ৮১১ জন। এছাড়া ২৬ হাজার ৭৮২ জন মানুষকে বুস্টার ডোজ প্রদান করা হয়েছে। ২ লাখ ৬৩ হাজার ৬১৯ জন শিক্ষার্থী ভ্যাক্সিনেশন কার্যক্রমের আওতায় এসেছে। করোনা প্রতিরোধে বাকিদের দ্রুত সময়ের মধ্যে ভ্যাক্সিন নেয়ার কথা বলা হচ্ছে।
এদিকে, রাজশাহীতে বর্তমানে ১ লাখ ৫৯ হাজার ৩৮৭ ডোজ টিকা মজুদ আছে। এর মধ্যে ফাইজার রয়েছে ৪৭ হাজার ৭০৬ ডোজ, সিনোভ্যাকস ১ লাখ, মর্ডানা ১ হাজার, অ্যাস্ট্রাজেনেকা ৮ হাজার ৮৮১ ও সিনোফর্মা ১ হাজার ৮০০ ডোজ।

বৃহস্পতিবার (২৭ জানুয়ারি) বেলা ১২ টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সভায় এসব তথ্য উপস্থাপন করা হয়। সভায় জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিলের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন, সিভিল সার্জন ডা. আবু সাইদ মোহাম্মদ ফারুক, পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের উপ-পরিচালক ড. কস্তুরী আমিন কুইন, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. জুলফিকার আখতার হোসেন, জেলা তথ্য অফিসের উপ-পরিচালক নাফেয়ালা নাসরিন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মুহাম্মদ শরিফুল হক, এনএসআই এর যুগ্ন পরিচালক ছানোয়ার হোসেন, আরএমপির সহকারী পুলিশ কমিশনার সাইফুল ইসলাম, সহকারী পুলিশ সুপার রুবেল আহমেদ, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ভেটেরিনারি সার্জন ড. ফরহাদ হোসেন, জেলা শিক্ষা অফিসার নাসির উদ্দিন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ