ওমিক্রন নিয়ে আতঙ্ক সর্বোচ্চ সতর্কতাই এই মুহূর্তের করণীয়

আপডেট: ডিসেম্বর ৫, ২০২১, ১২:০১ পূর্বাহ্ণ

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সীমান্ত বন্ধ করে দিয়ে কয়েকটি দেশ করোনার ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট মোকাবিলার উপায় খোঁজার সময় পাচ্ছে। তবে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট মোকাবিলায় যেসব পদক্ষেপ নেয়া হয় এবং যে অভিজ্ঞতা অর্জন করা গেছে সেগুলো ওমিক্রনের বেলাতেও কার্যকর। অর্থাৎ দক্ষিণ আফ্রিকায় ওমিক্রন চাউর হওয়ার পর যে ধরনের উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার কথা বলা হচ্ছিল- বিষয়টি তেমন নয়। তবে বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক ঠিকই ছড়িয়ে গেছে। অবশ্য আতঙ্ক ছড়ানোর কারণও আছে। দায়িত্বশীল বিশ্ব সংস্থাগুলো যে ভাবে ওমিক্রনকে উদ্বেগজনক বলে প্রচার করছিল তাতে সত্যিকার অর্থেই বিশ্ব জুড়ে অবিবেচ্য-আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। উন্নত দেশগুলোই বরং বিষয়টি নিয়ে অবিবেচনাপ্রসূত কর্মকা- করে বসেছে। তবে খুবই অল্প সময়ের মধ্যেই জানা গেল প্রথমদিকে যেভাবে প্রচার করা হয়েছেল ওমিক্রন তত শক্তিশালী নয়। এমনকি ডেল্টার মারণ ক্ষমতার তুল্য নয়। শনিবার সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী ৩৮ টি দেশে ওমিক্রন ছড়ালেও আশার খবর এই যে, এই ভাইরাসে এখন পর্যন্ত কেউ মারা যায়নি।
তারপরেও ওমিক্রন নিয়ে এখনও খুব বেশি কিছু জানা যায়নি। তারপরও এটিকে উদ্বেগের কারণ আখ্যা দেয়া হয়েছে। এর ব্যাখ্যায় বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ভ্যারিয়েন্টটি অনেক বেশি পরিবর্তিত হয়েছে এবং প্রাথমিক তথ্যে দেখা যাচ্ছে অন্য ভ্যারিয়েন্টগুলোর তুলনায় এটি বেশি সংক্রামক হতে পারে। তবে আরও বেশি পরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন। ওমিক্রমনের সংক্রমণ ক্ষমতা বেশি বিধায় এ ব্যাপারে সতর্ক থাকারও কোনো বিকল্প নেই।
বাংলাদেশের জন্য উদ্বেগ বাড়িয়ে ওমিক্রন ইতোমধ্যেই ভারতে শনাক্ত হয়েছে। নতুন এই ভাইরাস ভারতে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ভাইরাসটির আগমণ বিলম্বিত করতে পারে এবং সময় পাওয়া যেতে পারে। তবে প্রত্যেক দেশ এবং প্রতিটি জনগোষ্ঠীকে নতুন করে আক্রান্ত বাড়ার বিষয়ে অবশ্যই প্রস্তুত থাকতে হবে। এ তথ্য বাংলাদেশকে আগাম সতর্কতা দিয়েছে। বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই সীমান্তে সতর্কাবস্থা দিয়েছে। কিন্তু ওমিক্রনের উৎস দেশ দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে আসা দুই শতাধিক বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন অথচ তাদের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। এটা অবশ্যই উদ্বেগের কারণ। ওরা কোয়ারেন্টিন অবজ্ঞা করেছেন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, করোনাভাইরাসের নতুন ধরনটির বিরুদ্ধে টিকার নতুন সংস্করণ আনার প্রয়োজন হবে ধরে নিয়ে ওষুধ কোম্পানিগুলোর এখনই তোড়জোড় শুরু করা উচিত। আবার এও বলা হচ্ছে কোভিডের জন্য প্রস্তুত ফাইজারের টিকা ওমিক্রন ঠেকাতে কার্যকর। কিন্তু ওমিক্রন কী, কতটা মারণঘাতিÑ এসব ব্যাপার এখনো বেশ ধোয়াটে। এই পরিস্থিতি সতর্কতা অবলম্বন ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার প্রতি জোর দেয়াই সমীচীন হবে। মাস্ক পরার ব্যাপারে বাধ্যবাধকতার বিষয়টিও এই মুহূর্তে বিবেচনা করা যেতে পারে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ