ওমিক্রন মোকাবিলায় অগ্রিম প্রস্তুতি নিতে হবে রাজশাহীতে দ্রুতই করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালের কার্যক্রম শুরু করা হোক

আপডেট: জানুয়ারি ১১, ২০২২, ১২:০৩ পূর্বাহ্ণ

যে কোন দূর্যোগ মানেই দূর্ভোগ। আর সেটা যখন করোনার মতো বিশ্ব মহামারী তখন সেটাতে সাধারণ মানুষের দূর্ভোগের অন্ত থাকে না। করোনার মতো মহামারী পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশ্ব যখন টালমাটাল; সে সময় উন্নয়নশীল দেশের কাতারে দাঁড়িয়ে কিছু ত্রুটি থাকলেও বাংলাদেশ তা সুন্দরভাবেই মোকাবিলা করেছে। তবে নতুন করে করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট ‘ওমিক্রন’ চোখ রাঙ্গাচ্ছে। মহামারী পরিস্থিতি বিবেচনায় রাজশাহী সদর হাসপাতালকে করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতাল হিসেবে ব্যবহারে প্রশাসনিক অনুমোদন ও সংস্কার কাজ তা দ্রুত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন করে চালু করতে হবে।
করোনার প্রথম ঢেউ শুরু হলে মাসিক ১২ লাখ টাকা চুক্তিতে রাজশাহী খিস্টিয়ান মিশন হাসপাতালকে করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়। পরে ওই বছরের সেপ্টেম্বরেই রাজশাহীর একমাত্র বিশেষায়িত হাসপাতালটি করোনার প্রকোপ কমে যাওয়ার কথা বলে বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। যদিও এই হাসপাতালের অব্যবস্থাপনার বিভিন্ন চিত্র গণমাধ্যমে উঠে আসে। এরপরে নড়েচড়ে বসে প্রশাসন।
পরবর্তীতে করোনার ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট সংক্রমণকালীন সদর হাসপাতালকে ‘করোনা ডেডিকেটেড’ হাসপাতাল হিসেবে ব্যবহারের প্রশাসনিক অনুমোদন দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। প্রায় আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে ১৫০ শয্যা ও ১৫ আইসিইউ সংবলিত হাসপাতাল হিসেবে প্রস্তুতে সংস্কার কাজে গত ২৬ নভেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দেয়া হয়। কিন্তু সেই সময় পেরিয়ে গেলেও নানা জটিলতা ও সমন্বয়হীনতায় সংস্কার কাজই এখনো পুরোপুরো শেষ হয় নি। এরমধ্যে প্রশাসনিক অনুমোদনের পরও সদর হাসপাতালকে করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতাল হিসেবে ব্যবহার করা হবে? না কি সদর হাসপাতাল আগের কার্যক্রম চালু করবে? না কি ডেন্টাল ইউনিট হিসেবে ব্যবহার হবে? এই বিষয়টি নিয়ে নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়েছে। এ ব্যাপারে বিভিন্ন যুক্তি প্রদর্শণ করছে বিভাগীয় স্বাস্থ্য ও সিভিল সার্জন অফিস। চলছে কাগজ চালাচালি। এতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের স্বাভাবিক চিকিৎসা কার্যক্রম এখনোও পূর্বের অবস্থায় ফেরে নি। সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকিতে থাকছে হাসপাতালালের অন্যান্য সাধারণ রোগী ও চিকিৎসা সংশ্লিষ্টরা। আর সবচেয়ে বেশি দূর্ভোগের শিকার হচ্ছেন হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের রোগীরা।
রাজশাহী সিভিল সার্জনের তত্ত্বাবধানে সংস্কার কাজ শুরু করে পিডিবি ও একটি বেসরকারি কোম্পানি। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের এক মাসের অধিক পেরিয়ে গেলেও কাজ শেষ হয় নি। এছাড়া কবে নাগাদ এখানে চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু হতে এ বিষয়েও নির্দিষ্ট করে কোন তথ্য দিতে পারে নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। অথচ সেখানে করোনা রোগীদের স্থানান্তর করে হাসপাতালের চিকিৎসা কার্যক্রমকে স্বাভাবিক করার পরিকল্পনার কথা বলছেন রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী।
তার ভাষ্যমতে, দূর্যোগকালীন হাসপাতালে করোনার রোগীর চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে গিয়ে অন্যান্য সাধারণ রোগীদের অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। এর রেশ এখনো কাটে নি। বার্নের সুবিধা সম্পন্ন ইউনিটে করোনা রোগীদের সেবা দেয়া হচ্ছে। করোনার শুরু থেকে মাত্র ১৪ টা বেড নিয়ে দ্বিগুনেরও বেশি রোগীর চিকিৎসা দিতে হচ্ছে বার্ন ইউনিটকে। এতে এই ইউনিটের পোড়া রোগীরা সাধারণ ওয়ার্ডে কষ্ট সহ্য করছে। বেড না পেয়ে বার্নের ক্ষত নিয়ে মেঝেতেই চিকিৎসা নিচ্ছে। এছাড়া সংক্রমণ ঝুঁকিও কমছে না। একারণে সদর হাসপাতাল ডেডিকেটেড হাসপাতার হিসেবে প্রস্তুত হলেই সেখানে করোনা রোগীর চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে বলে জানান। নতুন করে ওমিক্রনের সংক্রমণ বিস্তার লাভ করার আগেই করোনার এই ডেডিকেটেড হাসপাতালের কার্যক্রম শুরু একান্তই জরুরি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ