ওরা এখন শিকলমুক্ত, সুস্থ জীবনে ফিরছে

আপডেট: মে ৬, ২০২২, ১২:৪৭ পূর্বাহ্ণ

তপন কুমার সরকার, আত্রাই:


নওগাঁর আত্রাই উপজেলাধীন ব্রজপুর গ্রামে লবা প্রামানিক এর মানসিক ভারসাম্যহীন চার ছেলে-মেয়ে ও সিংসাড়া গ্রামের মন্টু শিকলমুক্ত হয়ে সুস্থ জীবনে ফিরতে শুরু করেছে। তাদের পাবনা মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ স্বাভাবিক জীবনে ফিরানোর মানবিক মহানুভবতার কাজটি করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইকতেখারুল ইসলাম।

প্রায় ১০ বছর শিকল বন্দি জীবনের সুবাদে তাদের স্বামী-স্ত্রী, সন্তানরা মুখ ফিরিয়ে নিয়ে দাদা-নানা, বাবার বাড়িতে পাড়ি জমিয়েছে। কেউবা আবার বিয়ে করে নতুন ভাবে সংসার শুরু করেছে। নেয়নি অসুস্থ মানুষগুলোর কোনো খবর।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ব্রজপুর গ্রামের চাল-চুলোহীন ভাঙ্গা টিনের বেড়ার পুরোনো ছাপড়ার কুঁড়েঘড়ে মা-বাবার সাথে দিনাতিপাত করছে চার ভাই-বোন। অপরদিকে সিংসাড়া গ্রামে মা জরিনা অসুস্থ মন্টুকে নিয়ে দুটি ছাগল বাড়িতে রেখে ও মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালাচ্ছেন।

শারীরিক সক্ষমতা ততোটা না আসলেও দুর্বল শরীর নিয়ে ধীরে ধীরে সাংসারিক কাজকর্মে অংশ নিতে দেখা গেছে তাদের। আর কয়েক মাস নিয়মিত ওষুধ সেবন ও নিয়ম কানুন মেনে চললে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন।

এতো কিছুর মাঝেও যখন গত ২ মে সোমবার প্রধানমন্ত্রীর ইদ উপহার নিয়ে ইউএনও তাদের বাড়িতে হাজির হয়েছেন তখন তারা শত যন্ত্রনা ভুলে উৎসবের আনন্দে অশ্রুশিক্ত নয়নে প্রধানমন্ত্রী ও প্রশাসনকে দীর্ঘজীবী করতে আল্লাহর প্রতি ফরিয়াদ করতে থাকেন বলে জানান তারা।

কথা হয় অসুস্থ পাঁচ জনের সাথে। তারা জানায়, হাসপাতালে ভালো ছিলো। তাদের বন্ধু-বান্ধবী হয়েছিলো এবং একে অন্যের সাথে মজার মজার গল্প ও খেলা করেছে। এখন তারা শরীর ও হাতে-পায়ে শক্তি কম পাচ্ছে বলে জানায়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইকতেখারুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিটি মানুষের মানবাধিকারের বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। পত্রিকার মাধ্যমে জানতে পেরে গত বছরের ২৫ মে পাবনা মানসিক হাসপাতালে তাদের ভর্তি করি। বর্তমানে সকলেই বাড়িতে আছে। ডাক্তাররা আর কয়েক মাস তাদের ওষুধ ও বিশ্রাম চালিয়ে যেতে বলেছেন ।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ