ওষুধ সেবন ও সচেতনতায় যক্ষ্মা নিরাময় সম্ভব ।। সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা

আপডেট: মার্চ ২৪, ২০১৭, ১২:২১ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক



নগরীতে বিশ্ব যক্ষ¥া দিবস উপলক্ষে ‘ঐক্যবদ্ধ হলে সবে, যক্ষ্মা মুক্ত দেশ হবে’ প্রতিপাদ্যে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় রাজশাহী বিভাগীয় পরিচালক স্বাস্থ্য কার্যালয়ে রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ও সিভিল সার্জনের উদ্যোগে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, রাজশাহী বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. আশিস কুমার সাহা।
যক্ষ্মা দিবস উপলক্ষে আজ শুক্রবার সকাল ৮টায় সিভিল সার্জন অফিস থেকে র‌্যালি অনুষ্ঠিত হবে। এরপর র‌্যালি শেষে আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হবে। যক্ষ্মা রোগের চিকিৎসায় দুটি নতুন অধিক কার্যকর ওষুধ ‘বিডাকুইলিন’ ও ডিলামিনিড’ যুক্ত হয়েছে। ইতোমধ্যে ওষধ দুটি বাংলাদেশে নিয়ন্ত্রিত প্রয়োগ শুরু হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সচেতনতা ও ওষুধ সেবনের মাধ্যমে যক্ষ্মা নিরাময় সম্ভব। বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ৩ লাখ ৬২ হাজার লোক নতুনভাবে যক্ষ্মায় আক্রান্ত হয়। বছরে ৭৩ হাজারেরও বেশি রোগি মৃত্যুবরণ করে। প্রাচীন এই যক্ষ্মা রোগকে ১৯৯৩ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডঐঙ) বিশ্বব্যাপি জরুরি অবস্থা (এষড়নধষ ঊসবৎমবহপু) হিসাবে ঘোষণা করে এবং যক্ষ্মা রোগকে নিয়ন্ত্রণের জন্য উঙঞঝ নামে কার্যকরী চিকিৎসা কৌশল বাংলাদেশে ১৯৯৩ সাল থেকে বাস্তবায়িত হয়ে আসছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরো বলা হয়, সারাদেশের বক্ষব্যাধি ক্লিনিক, বক্ষব্যাধি হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, জেলা হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, নগর স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও নির্দিষ্ট এনজিও ক্লিনিকসমূহে জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির অধীনে ১ হাজার ১১০টি মাইক্রোস্কোপি সেন্টার থেকে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
বাংলাদেশে ২০১৬ সালে মোট ২ লাখ ২২ হাজার ২৫০ জন সকল ধরনের যক্ষ্মা রোগি শনাক্ত হয়েছে। ২০১৫ সালে এই সংখ্যা ছিলো ২ লাখ ৯ হজার ৪৩৯ জন। ২০১৬ সালে সারাদেশে মোট ১২,৮১১ সকল ধরনের যক্ষ্মা রোগি বেশি শনাক্ত হয়েছে। সকল ধরনের যক্ষ্মা বলতে ফুসফুসের যক্ষ্মা এবং ফুসফুস বহিঃর্ভূত অন্যান্য অঙ্গের যক্ষ্মাকে বুঝায়। ২০১৬ সালে জীবানুযুক্ত নতুন যক্ষ্মারোগী (ইধপঃবৎরড়ষড়মরপধষষু ঈড়হভরৎসবফ ঘবি ঈধংবং) শনাক্ত হয়েছে ১ লাখ ২৪ হাজার ৫৮৮ জন ।
২০১৬ সালে জীবাণুযুক্ত নতুন যক্ষ্মা রোগি চিহ্নিতকরণের হার প্রতি লাখ লোকে ৭৭ জন এবং সকল ধরনের যক্ষ্মা রোগি ১৩৮ জন । ২০১৫ সালে এই হার ছিলো ৭২ জন এবং ১৩০ জন। ২০১৬ সালের শনাক্ত করার এই হার এযাবৎকালের মধ্যে সর্বোচ্চ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০১৬ সালের প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রতি লাখ লোকের মধ্যে প্রতিবছর ২২৫ জন সকল ধরনের যক্ষ্মা রোগি নতুনভাবে যুক্ত হয় বলে অনুমান করা হয়।
জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির উদ্দেশ্য অনুযায়ী জীবানুযুক্ত নতুন যক্ষ্মা রোগি আরোগ্যের হার কমপক্ষে শতকরা ৮৫ ভাগ অব্যাহত রাখার কথা থাকলেও ২০১৫ সালে আমাদের অর্জন ছিল শতকরা ৯৫ ভাগ। অনুমিত যক্ষ্মা রোগির সংখ্যা ও পরিসংখ্যান হতে এই কথা প্রতীয়মান হয় যে, ২০১৬ সালে মোট অনুমিত রোগির শতকরা ৬১ ভাগ শনাক্ত করা হয়েছে। তবে আরোগ্যের হার সন্তোষজনক হলেও শনাক্তকরণের দিক থেকে জাতীয়ভাবে আমরা পিছিয়ে আছি। এমনই এক প্রেক্ষাপটে আমরা ২০১৭ সালে বিশ্ব যক্ষ্মা দিবস পালন করছি।
রাজশাহী বিভাগের ৮টি জেলার ৬৬টি উপজেলায় সরকারের সাথে তিনটি বেসরকারি সংস্থা যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। এছাড়া রাজশাহী সিটি করপোরেশনে সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি আরো ৪টি বেসরকারি সংস্থা যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
২০১৬ সালে রাজশাহী বিভাগের মোট ১১,৪২৮ জন জীবানুযুক্ত নতুন যক্ষ্মা রোগি শনাক্ত হয়েছে এবং সকল ধরণের যক্ষ্মা রোগি শনাক্ত হয়েছে ১৯,৮২৩ জন। ২০১৫ সালের তুলনায় এই সংখ্যা যথাক্রমে ৪১২ ও ৫৪৭ জন বেশি। ২০১৬ সালে প্রতি লাখ লোকের হিসেবে জীবানুযুক্ত নতুন যক্ষ্মা রোগি শনাক্ত করার হার ৫৯ জন এবং সকল ধরনের যক্ষ্মা রোগি প্রতি লাখে ১০১ জন। জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির গাইডলাইন অনুসারে শনাক্তকৃত সকল রোগিকে উঙঞ পদ্ধতির মাধ্যমে ওষুধ খাওয়ানো হয়েছে। ফলে ২০১৫ সালের রিপোর্টকৃত জীবানুযুক্ত নতুন যক্ষ্মা রোগির আরোগ্য লাভের হার ছিলো শতকরা ৯৪ ভাগ যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে উপরে ।
এবারে আলাদাভাবে রাজশাহী জেলার অবস্থান সম্পর্কে বলতে চাই। ২০১৬ সালে সিটি করপোরেশনসহ রাজশাহী জেলায় মোট ৭৯৮ জন জীবানুযুক্ত নতুন যক্ষ্মা রোগি শনাক্ত হয়েছে এবং সকল ধরনের যক্ষ্মা রোগি শনাক্ত হয়েছে ১,৯৫৬ জন। প্রতি লাখে লোকের হিসাবে এই হার জীবানুযুক্ত নতুন যক্ষ্মা রোগির ক্ষেত্রে ২৮ জন এবং সকল ধরণের রোগীর ক্ষেত্রে ৬৭ জন। আলাদাভাবে সিটি করপোরেশন এলাকায় ২০১৬ সালে জীবানুযুক্ত নতুন যক্ষ্মা রোগি শনাক্ত হয়েছে ২৫৯ জন এবং সকল ধরণের যক্ষ্মা রোগি শনাক্ত হয়েছে ৭৬৮ জন। ২০১৫ সালে রাজশাহী জেলার জীবানুযুক্ত নতুন যক্ষ্মা রোগির আরোগ্য লাভের হার ছিলো শতকরা ৯১ ভাগ এবং সিটি করপোরেশন এলাকার আরোগ্য লাভের হার ছিলো শতকরা ৮৭ ভাগ।
সারাদেশে কফ পরীক্ষা ও যক্ষ্মা রোগের চিকিৎসা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রদান করা হয়। এছাড়া অতিদরিদ্র সন্দেহজনক যক্ষ্মা রোগিদের রোগ শনাক্তকরার প্রয়োজনে অন্যান্য পরীক্ষার খরচ, প্রয়োজনে প্রাইভেটভাবে ডাক্তার দেখানোর ফি, যাতায়াত খরচসহ প্রয়োজনীয় সকল খরচ কর্মসূচির পক্ষ থেকে প্রদান করা হচ্ছে। ২০১৬ সালে রাজশাহী বিভাগে মোট ২,১২,৮১৭ জন, রাজশাহী জেলায় ২৩,১৬৭ জন এবং রাজশাহী সিটি করপোরেশন এলাকায় ৪,৭৪৭ জন সন্দেহজনক যক্ষ্মা রোগীর কফ্ পরীক্ষা করা হয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ