ওয়াজ মাহফিলে রাজনৈতিক বক্তব্য শিগগিরই বন্ধ হওয়া জরুরি

আপডেট: নভেম্বর ২৬, ২০২২, ১২:২৩ পূর্বাহ্ণ

ওয়াজ মাহফিলে রাজনৈতিক বক্তব্য এবং ব্যক্তি বিশেষের নামে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য বন্ধে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সংসদীয় কমিটির সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে এ নির্দেশনা দেয়া হয় বলে জানা গেছে।
গংবাদ মাধ্যমের তথ্য অনুয়ায়ী জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির আগের বৈঠকে এ সংক্রান্ত সুপারিশ আসে। ২৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত কমিটির ১৩তম বৈঠকে এ বিষয়ে অগ্রগতি প্রতিবেদন দেয়া হয়।
এমন নির্দেশনা আরো আগে থেকে নিতে পারলে ভাল হতো। তবে এই নির্দেশনার গুরুত্ব ও তাৎপর্য নিশ্চয় আছে। যখন ওয়াজের নামে এক ধরনের নৈরাজ্য পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে, তার দ্রুত নিরসন হওয়া বাঞ্ছনীয়। কেননা ওয়াজের নামে যা বলা হচ্ছে তাতে ধর্মের ভাবর্মূর্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব সষ্টি হচ্ছে। ধর্মে যে আধ্যাত্মিকতার অবস্থান আছে সেটা ক্ষতিগ্রস্ত করা হচ্ছে। ওয়াজ করা যে একটি ব্যবসায়িক খাত সে ব্যাপারে আর বিতর্ক করার সুযোগ নেই। অথচ এমনটি হওয়ার কথা ছিল না। ওয়াজিদের অতি ব্যবসায়িক মনোভাবের কারণে এক ধরনের প্রতিযোগিতা লক্ষ্য করা যায়। তাতে যে শুধু মুক্ত চিন্তা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষদেরই আক্রমণ করা হচ্ছে বিষয়টি তেমন নয় এখন ইসলামী স্কলারগণ নিজেরাই ভয়ঙ্কররূপে বহুধা বিভক্ত। তারা একে অপরের প্রতি অভিসম্পাত করছেন এবং কাফের আখ্যায়িত করছেন। এই যে এক আলেম আরেক আলেমকে তুচ্ছ্য-তাচ্ছিল্য কিংবা কাফের আখ্যায়িত করার মধ্য দিয়ে ওয়াজিরা কী প্রমাণ করতে চাচ্ছেন? তাদের উদ্দেশ্যের ব্যাপারে এখন আর কারো অজানা নেই। তারা এর দ্বারা নিজেদের ব্যবসাকেই সংহত করতে চায়। ফলে এদের ওযাজ যারা শ্রবণ করেন তাদেরকে বিভেদ, বিদ্বেষ ও বিভ্রান্তির মধ্যে ঠেলে দেয়া হচ্ছে। অর্থাৎ ইসলাম ধর্মের মাহাত্ম্য-জ্ঞান জানাতে এসে আলেমরা প্রতিদ্বন্দ্বী আলেমের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়িয়ে দিচ্ছেন। এটা কতটুকু ইসলামসম্মত তা ইসলামি স্কলারদেরই ঠিক করতে হবে।
ওয়াজের এটি একটি দিক মাত্র। ওয়াজে ধর্মেও তাৎপর্য ও সাম্য কথার চেয়ে ধর্মেও নামে বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগও বিস্তর। অন্য ধর্মকে হেয় করা, অন্য ধর্মের প্রতি ঘৃণা ছড়ানোর অভিযোগ তো আছেই। ওয়াজে রাজনৈতিক উদ্দ্যেশ্য বেশ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। অনেক ক্ষেত্রে সরকারের তিব্র বিরুদ্ধাচরণ, এমন কী দেশ ও জাতির বিরুদ্ধে যায় এমন বক্তব্য নির্ধিধায় বলা হয়- যা দেশের মানুষকে উস্কানি দেয়ার সামিল। এ তৎপরতা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য হুমকিস্বরূপ। ওয়াজের নামে এসব বন্ধ করা উচিৎ। বরং ওয়াজে ধর্মের আধ্যাত্মিকতা, শান্তি ও সাম্যেরে বাণী সামনে নিয়ে আসা- যাতে করে মানুষ সত্যিকার অর্থেই ধর্মেও প্রকৃত জ্ঞান ও পরম শান্তিকে গ্রহণ করতে পারে।
এই শীত মৌসুমে ধর্মীয় ওয়াজ মাহফিলে রাজনৈতিক কিংবা ব্যক্তি বিশেষের নামে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য প্রদান থেকে বিরত রাখার বিষয়ে পুলিশ অধিদফতরের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সব ইউনিটকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এটা সময়েরই দাবি। তবে এটা শুধু পুলিশের কাজ নয়। বরং দেশে উন্নত চিন্তার জ্ঞানী ইসলামি স্কলারদেরও দায়িত্ব বর্তায়- যে বা যারা ওয়াজের নামে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছেন তাদের সংযত করার, তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ার। ধর্মের প্রয়োজনেই এ ধরনের বিশৃঙ্খলা বন্ধ হওয়া জরুরি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ