‘ওয়ানটাইম’ প্লাস্টিক পণ্যের ব্যবহার এক বছরের মধ্যে বন্ধের নির্দেশ

আপডেট: জানুয়ারি ৭, ২০২০, ১:১৬ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


দেশের হোটেল, মোটেল, রেস্তোরাঁ ও উপকূলীয় অঞ্চলে একবার ব্যবহারযোগ্য (ওয়ানটাইম) প্লাস্টিক পণ্যের ব্যবহার এক বছরের মধ্যে নিষিদ্ধের নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট।
সেই সঙ্গে পলিথিন ও পলিথিন ব্যাগ ব্যবহার বন্ধে বিদ্যমান আইনি নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে কার্যকরের জন্য সরকারকে বাজার তদারকি, পলিথিন উৎপাদনকারী যন্ত্রপাতি জব্দ ও কারখানা বন্ধেরও নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
এ সংক্রান্ত এক রিট আবেদনের শুনানি করে বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামানের হাই কোর্ট বেঞ্চ সোমবার রুলসহ এ আদেশ দেয়।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ও সাঈদ আহমদ কবির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সাইফুদ্দিন খালেদ।
সারাদেশে একবার ব্যবহারযোগ্য (ওয়ানটাইম) প্লাস্টিক পণ্যের নিরাপদ বিকল্প কী হতে পারে সে বিষয়ে ২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে একটি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ণের নির্দেশ কেন দেয়া হবে না- তা জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে।
এছাড়া পলিথিন ও প্লাস্টিক ব্যাগের ব্যবহার বন্ধে বিদ্যমান আইনগত নিষেধাজ্ঞা কার্যকরে সরকারকে কেন ব্যর্থ বলা হবে না- রুলে তাও জানতে চেয়েছে আদালত।
পরিবেশ সচিব, শিল্প সচিব, বাণিজ্য সচিব, পানি সম্পদ সচিব, বেসামরিক ও পর্যটন সচিব, বস্ত্র ও পাট সচিব, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও বাংলাদেশ প্লাস্টিক পণ্য উৎপাদক ও রাপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যানকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
আদেশের পর আইনজীবী রিজওয়ানা হাসান সাংবাদিকদের বলেন, “বাংলাদেশে পলিথিন ব্যাগ ও একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক সামগ্রীর দৌরাত্ম মারাত্বকভাবে বেড়ে চলেছে। এগুলো আমাদের ভূমির উর্বরতা কমাচ্ছে, বায়ূ দূষণ ঘটাচ্ছে এবং সমুদ্রের জলজ উদ্ভিদ ও প্রতিবেশকে মারাত্মক হুমকির মধ্যে ফেলছে। ফলে প্লাস্টিকের উৎপাদন এবং ব্যবহার কমাতে হবে।”
প্রতিবেশী দেশ ভারতের কেরালার সমুদ্র সৈকতে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক সামগ্রীর ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে জানিয়ে এ আইনজীবী বলেন, “বিশ্বের মোট ১২৭টি দেশে নানাভাবে পলিথিন ব্যাগ এবং একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক সামগ্রীর উৎপাদন, বিপণন, বিতরণে নিয়ন্ত্রণ আনা হয়েছে।
“একেক দেশের নিয়ন্ত্রণ, আইন একেক রকম। রুয়ান্ডাতে যেমন পলিথিন ব্যাগ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ওইখানে মাদকের চাইতেও সিরিয়াসলি নেয়া হয় পলিথিন ব্যাগের ব্যবহারকে। এখন বৈশ্বিকভাবেই প্লাস্টিকের ব্যবহারের বিরুদ্ধে জনমত তৈরি হয়েছে।”
এ আইনজীবী জানান, আদেশ বাস্তবায়নের বিষয়ে আগামী বছরের ৫ জানুয়ারির মধ্যে বিবাদীদের প্রতিবেদন দিতে বলেছে আদালত। ১০ জানুয়ারি ফের বিষয়টি কার্যতালিকায় আসবে।
প্লাস্টিক সামগ্রীর উৎপাদন, বিক্রি, বিপণন, বিতরণ বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর বেলাসহ ১১টি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ও সংগঠন এই রিট আবেদন করে। সে বিষয়ে প্রাথমিক শুনানি নিয়ে হাই কোর্ট সোমবার আদেশ দিল।
১৯৯৫ সালের বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের ৬(ক) ধারা অনুযায়ী প্রজ্ঞাপন জারি করে ২০০২ সালের জানুয়ারি থেকে দেশে পলিথিন ব্যাগের উৎপাদন, পরিবহন, মজুদ ও ব্যবহারকে নিষিদ্ধ করা হয়।
ওই ধারায় বলা হয়েছে-
‘সরকার, মহা-পরিচালকের পরামর্শ বা অন্য কোনভাবে যদি সন্তুষ্ট হয় যে, সকল বা যে কোনো প্রকার পলিথিন শপিং ব্যাগ, বা পলিইথাইলিন বা পলিপ্রপাইলিনের তৈরি অন্য কোনো সামগ্রী বা অন্য যে কোনো সামগ্রী পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর, তাহা হইলে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, সমগ্র দেশে বা কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় এইরূপ সামগ্রীর উৎপাদন, আমদানি, বাজারজাতকরণ, বিক্রয়, বিক্রয়ের জন্য প্রদর্শন, মজুদ, বিতরণ, বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে পরিবহন বা বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করিবার বা প্রজ্ঞাপনে নির্ধারিত শর্তাধীনে ওই সকল কার্যক্রম পরিচালনা বা ব্যবস্থাপনার বিষয়ে নির্দেশ জারি করিতে পারিবে এবং উক্ত নির্দেশ পালনে সংশ্লিষ্ট সকল ব্যক্তি বাধ্য থাকিবেন।
তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত নির্দেশ নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে না, যথা –
(ক) উক্ত প্রজ্ঞাপনে বর্ণিত সামগ্রী রপ্তানি করা হইলে বা রপ্তানির কাজে ব্যবহৃত হইলে
(খ) কোনো নির্দিষ্ট পলিথিন শপিং ব্যাগের ক্ষেত্রে উক্ত নির্দেশ প্রযোজ্য হইবে না মর্মে উক্ত প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হইলে
[ব্যাখ্যা: এই ধারায় ‘পলিথিন শপিং ব্যাগ’ অর্থ পলিইথাইলিন, পলিপ্রপাইলিন বা উহার কোনো যৌগ বা মিশ্রণের তৈরি কোনো ব্যাগ, ঠোঙ্গা বা অন্য কোনো ধারক যাহা কোনো সামগ্রী ক্রয়-বিক্রয় বা কোনো কিছু রাখার কাজে বা বহনের কাজে ব্যবহার করা যায়৷]
তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ