ওয়ানডে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের মেয়েরা দেশের ক্রিকেটের আরেকটি মাইলফলক

আপডেট: নভেম্বর ৩০, ২০২১, ১২:০৮ পূর্বাহ্ণ

স্বপ্নের মতো ব্যাপার। দুর্দান্ত খেলছিল বাংলাদেশ। জিতেছিল প্রথম দুই ম্যাচ। যদিও শেষ ম্যাচটাতে হেরে গিয়েছিল থাইল্যান্ডের কাছে। তবে নিগার সুলতানাদের স্বপ্নপূরণে বাধা হতে পারেনি সেটি। করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ‘ওমিক্রনের’ কারণে স্থগিত হয়ে গেছে জিম্বাবুয়েতে চলমান মেয়েদের বিশ্বকাপ বাছাই। র‌্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকায় বিশ্বকাপে চলে গেছে বাংলাদেশ। করোনার কারণে টুর্নামেন্ট বন্ধ ঘোষণায় ভাগ্য খুলে গেল নিগার সুলতানা জোতি- রোমানা আহমেদদের। স্বাগতিক নিউজিল্যান্ড ছাড়াও অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা এরইমধ্যে জায়গা পেয়েছে মূল পর্বে। সঙ্গে এবার যোগ দিল-বাংলাদেশ, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও পাকিস্তান। ২০২২ সালে মার্চে অনুষ্ঠেয় এই টুর্নামেন্ট দিয়েই ওয়ানডে বিশ্বকাপে অভিষেক হবে টাইগ্রেসদের। প্রথমবারের মতো নামবে বিশ্বকাপে! তাই তো নারী দলের ক্রিকেটার রোমানা আহমেদ অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেছেন, যে উদ্দেশ্যে এসেছিলাম, তাতে সফল হয়েছি। এই সফলতা এখানেই শেষ নয়। আমাদের এই সফলতা বাংলাদেশে নারীদের ক্রিকেটকে অনেক এগিয়ে নিয়ে যাবে। আমি বিশ্বাস করি, বিশেষত আমাদের সকল মেয়েদের, এছাড়াও পুরো বাংলাদেশ আমাদের দিকে তাকিয়ে ছিল। পুরো বাংলাদেশ আমাদের দিকে তাকিয়ে ছিল। আমরা এটা পেরেছি। জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে আমরা যে উদ্দেশ্যে বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছি। বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে আমরা আরও ভালো কিছু করতে চাই। আমরা পারবো।
অথচ কয়েক দিন আগেও নিগার সুলতানা-রোমানা আহমদদের কাছে এটি ছিল স্বপ্নের মতো। বাস্তব হয়তো বানানো সম্ভব ছিল, কিন্তু কঠিন। এখন সবকিছুই সত্যি ও সহজ। করোনার নতুন ধরনের কারণে মাঝপথেই বন্ধ হয়ে গেছে বিশ্বকাপ বাছাই। প্রথমবারের মতো নারী ক্রিকেটের ওয়ানডে বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলার সুযোগ পেয়েছে বাংলাদেশ। আগামী বছর মার্চে নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আইসিসি নারী বিশ্বকাপ। ১৯৭৩ সালে ইংল্যান্ডে প্রথম অনুষ্ঠিত হয়েছিল নারী ক্রিকেটের ওয়ানডে বিশ্বকাপ। এর ৪৯ বছর পর দেশের মেয়েরা প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছে। এটা দেশের নারী ক্রিকেটের জন্য একটি মাইলফলক। নতুন মাইলফলক স্পর্শ করার এ ক্ষণে আমরা নারী ক্রিকেটারদের জানাই অভিনন্দন। এটি নারী ক্রিকেটের নতুন এক সূচনা। তারা এখানেই থেমে থাকবে না এটা আমাদের প্রত্যাশা।
তবে নারী ওডিআই র‌্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান পঞ্চম হওয়ায় তারা আইসিসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পেয়েছে। সুযোগটি পাওয়ার সময় তারা বাছাইপর্বের গ্রুপ পর্যায়ের শীর্ষে অবস্থান করছিল। আর ওডিআই র‌্যাংকিংয়ে পঞ্চম স্থানটি তারা একদিনে অর্জন করেনি। টাইগ্রেসরা ধারবাহিক সাফল্যেরই প্রতিদান হিসেবেই বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলার সুযোগ পেয়েছে। মূলপর্বেও তাদের আমরা সফল দল হিসেবে দেখতে চাই। এজন্য এখন থেকেই তাদের প্রস্তুতি নিতে হবে। বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল বেশ কয়েক বছর ধরেই ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলছে। তারই ধারাবাহিকতায় ২০১৮ সালে তারা ভারতকে হারিয়ে নারীদের এশিয়াকাপে চ্যাম্পিয়ন হয়। জিম্বাবুয়েতে বাছাইপর্বে থাইল্যান্ডের কাছে হারলেও এর আগ পর্যন্ত তারা জয়ের পথেই ছিল। বাছাই পর্বের প্রথম দুই ম্যাচ জিতেছে। একটি প্রস্তুতি ম্যাচ জিতেছে। তার আগে জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে ৩-০ ব্যবধানে জিতেছে ওয়ানডে সিরিজ। নারী ক্রিকেটের এই সাফল্য শুধু ক্রীড়াঙ্গন নয় দেশের সব ক্ষেত্রের নারীদের অনুপ্রাণিত করবে। পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে নারীরা নিজ নিজ ক্ষেত্রে সাফল্যের স্বাক্ষর রাখতে সক্ষম হবেন। সবক্ষেত্রে লিঙ্গবৈষম্য দূর করে নারীদের চলার পথকে মসৃণ করার দায়িত্ব সরকারের।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ